ঢাকা ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লঞ্চ থেকে মেঘনায় লাফ দেওয়া যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার, প্রশংসায় নৌ পুলিশের তৎপরতা Logo স্থানীয় কৃষকদের থেকে ভাড়ায় জমি নিয়ে সাইন বোর্ড: প্লট বানিজ্যের নামে পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী কর্তৃপক্ষ’র প্রতারণা Logo “নৌ-খাতের সিমুলেটর বাণিজ্যের লুটেরা সিন্ডিকেট সাব্বির মাদানি” Logo গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ত্রাসের রাজত্ব! নকল নবীশ মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি ও দূর্নীতির অভিযোগ Logo ‘শিশু হাসপাতালে উপ-পরিচালক নেছার উদ্দীন সিন্ডিকেটের দুর্নীতি ও লুটপাট’ Logo গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল আমিন মিয়ার ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও টেন্ডার কারসাজি Logo মাঠের ত্যাগী না অভিজ্ঞ নেতা: রাজধানীর বিএনপিতে কোন পথে যাচ্ছে নেতৃত্ব? Logo অন্তর্বর্তী সরকার আমাকে ডিসিদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ দেয়নি: রাষ্ট্রপতি Logo পথ নিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ এমপি Logo সাভার পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক আমজাদ মোল্লার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

প্রতারণা ও দুর্নীতির শীর্ষে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ড্রাইভার আজগর(পর্ব-১)

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫২:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২৬১ বার পড়া হয়েছে

জিহাদ হাসানঃ 
দুই রকম জন্ম সনদ ব্যবহার করে চাকুরী গ্রহণসহ ২০১২ সালে নিয়োাগ বাণিজ্যে ব্যাপক অবৈধ অর্থ উপার্জন করে ধরাকে সরা জ্ঞান করছে আজগর হোসেন। ব্যাপক অর্থ-বাণিজ্য অবৈধ নিয়োাগপ্রাপ্ত হয়ে সে এখন সগৌরবে চাকরি করে যাচ্ছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে। আজগর হোসেনের শক্তির উৎস কোথায় এ বিষয়ে পরিবার-পরিকল্পনা নির্বাক।

গত ২৪/০৯/১৯১৮ ইং তারিখ দুর্নীতি দমন কমিশনে দুর্নীতিবাজ প্রতারক আজগর হোসেন এর বিরুদ্ধে একটি আবেদন করে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এক সদস্য। জানা যায় এই দুর্নীতিবাজ ২৭/০৬/২০০১ সালে ১০২০ নম্বর নিয়োগ পত্রের মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে ড্রাইভার হিসেবে প্রকল্প ভিত্তিক যোগদান করে। তখন এ দুর্নীতিবাজ প্রতারক আজগর হোসেন তার জন্মতারিখ দেখায় ০১/০১/১৯৭৭ এবং ০১/০৭/২০০১ সালে প্রকল্পের যোগদান করে।

পরবর্তীতে পরিবার-পরিকল্পনা-অধিদপ্তর পরিচালক প্রশাসন এর কাছে মা শিশু এবং প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা কর্মসূচীর উন্নয়ন খাতে কর্মরত কর্মচারীদের রাজস্বখাতে স্থানান্তরের তালিকার তথ্য চান এমসিএইচ সার্ভিসেস। যার স্মারক নং ৪০৩/৯০৫১ তারিখ ২৬/০৫/২০০৫ ইং। উক্ত যাচাই-বাছাই পত্রে ড্রাইভার আজগর হোসেনের বয়স দেখানো হয় ০১/০১/১৯৭৭। তথ্যে জানা যায় দুর্নীতিবাজ প্রতারক আজগর হোসেন রাজস্ব খাতে চাকরি পায় ০৪/০১/২০১২ সালে, যার স্মারক নং প্রশা ১/ ১৫৫/ ২০১১/৪৩। উক্ত নিয়োগে ডাইভার আজগর তার জন্মতারিখ দেখায় ০১/০৩/১৯৮৩। তার প্রমাণস্বরূপ সে প্রদান করে তার জন্ম সনদের সত্যায়িত কপি তার সাথে ড্রাইভিং লাইসেন্স। যেখানে সে একই জন্মতারিখ দেখায় এর ফলে ২০০১ সালের নিয়োগ ও ২০০৫ সালে তথ্য বাছাই করে দেখা যায় তার জন্ম তারিখ এক। কিন্তু ২০১২ সালে রাজস্ব খাতে নিয়োওগে তার যে জন্ম তারিখ দেখানো হয় তা ০১/০৩/১৯৮৩। একই ব্যক্তির দুটি জন্ম সনদ জন্ম তারিখ এক বিরাট প্রতারণা। এর পরেও সে ক্ষমতার জোরে কিছু অসাধু কর্মচারী ও কর্মকর্তার সান্নিধ্যে এ সব অপকর্ম করেও পার পেয়ে যাচ্ছে। তথ্যে আরো উঠে আসে আজগর হোসেন ড্রাইভার হিসেবে ২০০১ সালে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের প্রকল্পে যোগদান করলেও ২০১২ সালে সে যে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখায় তাতে লাইসেন্সের ইস্যু তারিখ দেখানো হয় ২০০৭ সাল। ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই চাকরি করেছে আজগর। এ প্রতারণায় ক্ষমতাধর ব্যক্তি বা কর্মকর্তার হাত আছে বলে জানা যায়। দুর্নীতি দমন কমিশন, মহাপরিচালক পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, ঢাকা কে একটি পত্র প্রেরণ করে, যার স্মারক নম্বর ০১.৫০৩.২৬.৩৮০.১৮.২২৯৭৩৮ তারিখ ২৪/০৯/১৮।

উক্ত পত্রের দুর্নীতিবাজ প্রতারক আজগরের বিরুদ্ধে আনীত দুইরকম জন্ম সনদ ব্যবহার করে চাকরি গ্রহণ ও নিয়োগ-বাণিজ্য করে ব্যাংকে নিজ অ্যাকাউন্ট নম্বরে যে অবৈধ অর্থ লেনদেন করেছে তার তথ্য উদঘাটন করে কমিশনকে জানানো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। কিন্তু দীর্ঘ এক বছর হয়ে গেলও উক্ত প্রতারকের বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। এমনকি দুর্নীতিবাজ প্রতারক সগর্বে এখনো চাকরি করে যাচ্ছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে। উক্ত প্রতারক আজগর হোসেন এর বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তভার পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রদান করেন পরিচালক প্রশাসন ও উপ-পরিচালক এমআইএস গোলাম ফারুকের কাছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তদন্ত চলছে এবং তদন্ত রিপোর্ট পরিচালক প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে তিনি জানান। এ বিষয়ে প্রতারক আজগরের কাছে জানতে চাইলে সে বলে, যারা আমাকে চাকরি দিয়েছে তাদের জিজ্ঞাসা করেন আমি এ ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

প্রতারণা ও দুর্নীতির শীর্ষে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ড্রাইভার আজগর(পর্ব-১)

আপডেট সময় : ০৭:৫২:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

জিহাদ হাসানঃ 
দুই রকম জন্ম সনদ ব্যবহার করে চাকুরী গ্রহণসহ ২০১২ সালে নিয়োাগ বাণিজ্যে ব্যাপক অবৈধ অর্থ উপার্জন করে ধরাকে সরা জ্ঞান করছে আজগর হোসেন। ব্যাপক অর্থ-বাণিজ্য অবৈধ নিয়োাগপ্রাপ্ত হয়ে সে এখন সগৌরবে চাকরি করে যাচ্ছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে। আজগর হোসেনের শক্তির উৎস কোথায় এ বিষয়ে পরিবার-পরিকল্পনা নির্বাক।

গত ২৪/০৯/১৯১৮ ইং তারিখ দুর্নীতি দমন কমিশনে দুর্নীতিবাজ প্রতারক আজগর হোসেন এর বিরুদ্ধে একটি আবেদন করে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এক সদস্য। জানা যায় এই দুর্নীতিবাজ ২৭/০৬/২০০১ সালে ১০২০ নম্বর নিয়োগ পত্রের মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে ড্রাইভার হিসেবে প্রকল্প ভিত্তিক যোগদান করে। তখন এ দুর্নীতিবাজ প্রতারক আজগর হোসেন তার জন্মতারিখ দেখায় ০১/০১/১৯৭৭ এবং ০১/০৭/২০০১ সালে প্রকল্পের যোগদান করে।

পরবর্তীতে পরিবার-পরিকল্পনা-অধিদপ্তর পরিচালক প্রশাসন এর কাছে মা শিশু এবং প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা কর্মসূচীর উন্নয়ন খাতে কর্মরত কর্মচারীদের রাজস্বখাতে স্থানান্তরের তালিকার তথ্য চান এমসিএইচ সার্ভিসেস। যার স্মারক নং ৪০৩/৯০৫১ তারিখ ২৬/০৫/২০০৫ ইং। উক্ত যাচাই-বাছাই পত্রে ড্রাইভার আজগর হোসেনের বয়স দেখানো হয় ০১/০১/১৯৭৭। তথ্যে জানা যায় দুর্নীতিবাজ প্রতারক আজগর হোসেন রাজস্ব খাতে চাকরি পায় ০৪/০১/২০১২ সালে, যার স্মারক নং প্রশা ১/ ১৫৫/ ২০১১/৪৩। উক্ত নিয়োগে ডাইভার আজগর তার জন্মতারিখ দেখায় ০১/০৩/১৯৮৩। তার প্রমাণস্বরূপ সে প্রদান করে তার জন্ম সনদের সত্যায়িত কপি তার সাথে ড্রাইভিং লাইসেন্স। যেখানে সে একই জন্মতারিখ দেখায় এর ফলে ২০০১ সালের নিয়োগ ও ২০০৫ সালে তথ্য বাছাই করে দেখা যায় তার জন্ম তারিখ এক। কিন্তু ২০১২ সালে রাজস্ব খাতে নিয়োওগে তার যে জন্ম তারিখ দেখানো হয় তা ০১/০৩/১৯৮৩। একই ব্যক্তির দুটি জন্ম সনদ জন্ম তারিখ এক বিরাট প্রতারণা। এর পরেও সে ক্ষমতার জোরে কিছু অসাধু কর্মচারী ও কর্মকর্তার সান্নিধ্যে এ সব অপকর্ম করেও পার পেয়ে যাচ্ছে। তথ্যে আরো উঠে আসে আজগর হোসেন ড্রাইভার হিসেবে ২০০১ সালে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের প্রকল্পে যোগদান করলেও ২০১২ সালে সে যে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখায় তাতে লাইসেন্সের ইস্যু তারিখ দেখানো হয় ২০০৭ সাল। ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই চাকরি করেছে আজগর। এ প্রতারণায় ক্ষমতাধর ব্যক্তি বা কর্মকর্তার হাত আছে বলে জানা যায়। দুর্নীতি দমন কমিশন, মহাপরিচালক পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, ঢাকা কে একটি পত্র প্রেরণ করে, যার স্মারক নম্বর ০১.৫০৩.২৬.৩৮০.১৮.২২৯৭৩৮ তারিখ ২৪/০৯/১৮।

উক্ত পত্রের দুর্নীতিবাজ প্রতারক আজগরের বিরুদ্ধে আনীত দুইরকম জন্ম সনদ ব্যবহার করে চাকরি গ্রহণ ও নিয়োগ-বাণিজ্য করে ব্যাংকে নিজ অ্যাকাউন্ট নম্বরে যে অবৈধ অর্থ লেনদেন করেছে তার তথ্য উদঘাটন করে কমিশনকে জানানো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। কিন্তু দীর্ঘ এক বছর হয়ে গেলও উক্ত প্রতারকের বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। এমনকি দুর্নীতিবাজ প্রতারক সগর্বে এখনো চাকরি করে যাচ্ছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে। উক্ত প্রতারক আজগর হোসেন এর বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তভার পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রদান করেন পরিচালক প্রশাসন ও উপ-পরিচালক এমআইএস গোলাম ফারুকের কাছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তদন্ত চলছে এবং তদন্ত রিপোর্ট পরিচালক প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে তিনি জানান। এ বিষয়ে প্রতারক আজগরের কাছে জানতে চাইলে সে বলে, যারা আমাকে চাকরি দিয়েছে তাদের জিজ্ঞাসা করেন আমি এ ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না।