ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নিরাপত্তার স্বার্থে শাবি শিক্ষার্থীদের আইডিকার্ড সাথে রাখার আহবান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের Logo জনস্বাস্থ্যের প্রধান সাধুর যত অসাধু কর্ম: দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ! Logo বিআইডব্লিউটিএ বন্দর শাখা যুগ্ম পরিচালক আলমগীরের দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য  Logo রাজশাহীতে এটিএন বাংলার সাংবাদিক সুজাউদ্দিন ছোটনকে হয়রানিমূলক মামলায় বএিমইউজরে নিন্দা ও প্রতিবাদ Logo শিক্ষার্থীদের তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ায় অবদান রাখতে হবেঃ ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী Logo ‘কানামাছি শিশুসাহিত্য পুরস্কার ২০২৪’ পেলেন লেখক Logo মধ্যরাতে শাবি ছাত্রলীগের ‘ তুমি কে, আমি কে- বাঙ্গালী, বাঙ্গালী’ শ্লোগানে উত্তাল ক্যাম্পাস Logo আম নিয়ে কষ্টগাঁথা Logo ঘুমান্ত বিবেক মাতাল আবেগ’ – আকাশমণি Logo পুলিশের হামলার পরও ৬ ঘন্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধে কুবি শিক্ষার্থীর




ডেঙ্গু হেল্প ডেস্কে হেল্প করার কেউ নেই!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৯:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই ২০১৯ ৭২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দুপুর পৌনে ১টা। স্যার সলিমুল্লাহ্ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের বিল্ডিং-২ এর নিচতলার ডেঙ্গু হেল্প ডেস্কের আশপাশে অসংখ্য রোগী ও তাদের স্বজন। কেউ ঘুমন্ত শিশুকে কোলে নিয়ে আছেন, কেউ হেল্প ডেস্কের পাশের চেয়ারে শুয়ে আছেন। সবার অপেক্ষা কখন ডেঙ্গু হেল্প ডেস্কে চিকিৎসক আসবেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, দুপুর ১টা পর্যন্ত হেল্প ডেস্কে কোনো চিকিৎসক বা নার্সকে দেখা যায়নি।

সোমবার ডেঙ্গু রোগীদের ওয়ান স্টপ সার্ভিস দেয়ার জন্য খোলা হয়েছিল ডেস্কটি। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, এটার দায়িত্বে থাকার কথা ছিল মেডিসিন বিভাগের একজন চিকিৎসক ও নার্সের। ডেঙ্গু জ্বর সন্দেহে কেউ যদি এ হাসপাতালে আসেন তাহলে তাদের এ ডেস্কে এসেই সব চিকিৎসা নেয়ার কথা। এখান থেকে রোগীদের প্রাথমিক নির্দেশনা, টেস্টের নাম দেয়ার কথা।

কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকে কাউকে দেখা যায়নি মিটফোর্ড হাসপাতালের হেল্প ডেস্কে। ডেস্কে পড়েছিল একটি খাম ও একটি রেজিস্টার খাতা। খাতায় গতকাল ডেস্ক উদ্বোধনের পরপর তিনজন রোগী দেখা হয়েছিল, শুধু তাদের নাম লেখা আছে। আজ রেজিস্টার খাতাও ছিল ফাঁকা।

আউটডোর বিভাগের হেল্প ডেস্কের পাশে তিন ঘণ্টা ধরে স্ত্রীকে নিয়ে বসে আছেন আকমল আহমেদ নামে কদমতলীর এক ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, আমার স্ত্রীর তিনদিন ধরে জ্বর। সকালে টিকিট কেটে সরাসরি হেল্প ডেস্কে এলাম। ১১টা থেকে বসে আছি। ২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত কাউকে পেলাম না।

ডেস্কের চেয়ারে দুই বছর বয়সী এক ছেলেকে নিয়ে তিন ঘণ্টা ধরে বসে আছেন মুক্তা নামের এক নারী। কোলের শিশুটি ঘুমাচ্ছে। তিনিও অপেক্ষা করছেন ডেস্কের চিকিৎসকের জন্য।

১০৩ ডিগ্রি জ্বরে কাতর মিটফোর্ডের বিসমিল্লাহ্ টাওয়ারের একটি দোকানের কর্মচারী সোহান আহমেদ। টিকিট কেটে মেডিসিন বিভাগের অন্য ডাক্তারদের দেখানোর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়ানোর শক্তি নেই তার। তাই হেল্প ডেস্কে এসেছিলেন। কিন্তু এখানেও পাননি চিকিৎসা। অপেক্ষার একপর্যায়ে শুয়ে পড়েছেন ডেস্কের পাশের চেয়ারে।

ডেস্কের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা কোথায়? জানতে চাইলে মেডিসিন বিভাগের এক নার্স বলেন, ‘সকালে একজন ডাক্তারকে দেখেছিলাম। এখন তারা কোথায় বলতে পারছি না।’ তবে রেজিস্টার খাতা অনুযায়ী, হেল্প ডেস্ক আজ কোনো রোগীকে দেখা হয়নি।

ডেস্কের পাশেই কর্তব্যরত একজন আনসারকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে দেখিনি, কিছু বলতে পারছি না।’

এদিকে মঙ্গলবার ভোররাত থেকে জ্বরে আক্রান্ত প্রায় হাজারখানেক নারী-পুরুষ ও শিশু মিটফোর্ডের বহির্বিভাগের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। আউটডোর বিভাগের সাপোর্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. হাসান আলী জাগো নিউজকে জানান, সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৯২০ জন নারী-পুরুষ এবং ৪৩৩ শিশু জ্বর নিয়ে ডাক্তার দেখানোর জন্য কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করেছেন।

মিটফোর্ড হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী, একজন রোগী আউটডোর থেকে টিকিট নিয়ে স্ব স্ব বিভাগের ডাক্তারদের কাছে গিয়ে পরামর্শ নেবেন। তবে ডেঙ্গু রোগীরা টিকিট নিয়ে সরাসরি যাবেন ডেঙ্গু হেল্প ডেস্কে।

মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ডেঙ্গু হেল্প ডেস্কে কাউকে না পেয়ে রোগীরা মেডিসিন বিভাগের মেডিকেল অফিসারদের রুমে ভিড় করেছেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় চারজন মেডিকেল অফিসারের রুমে প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষের লাইন দেখা গেছে। পুরুষরা দাঁড়িয়েছেন ১১৭ ও ১১৮ নম্বর রুমের মেডিকেল অফিসারের লাইনে, নারীরা ১১২-১১৩ নম্বর রুমের বাইরে।

বাবু বাজারের কেমিক্যাল দোকানের কর্মচারী আজাদ বলেন, জ্বর এসেছে। ডেঙ্গু কি-না, নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডাক্তার দেখাতে এসেছি। লাইনে আড়াই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি, লাইন দেখে মনে হচ্ছে আরও এক ঘণ্টা লাগবে। হেল্প ডেস্কে ডাক্তার থাকলে এত সমস্যা হতো না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান বঙ্কিম হালদার জাগো নিউজকে বলেন, “অনেকে হেল্প ডেস্কের কথা না জেনে এদিক-ওদিক ঘুরছেন। হেল্প ডেস্কে সার্বক্ষণিক ডাক্তার থাকার কথা। ‘ডাক্তার নেই’ বিষয়টি আমি আপনার কাছ থেকে মাত্র শুনলাম। দেখছি, ব্যবস্থা নিচ্ছি। তবে হেল্প ডেস্ক ছাড়াও আরও চারটি রুমে ডাক্তাররা ডেঙ্গু রোগী দেখছেন।

হাসপাতালের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, গতকাল (সোমবার) বড় স্যাররা এসে ছবি তুলে জাঁকজমকভাবে ডেস্কটি উদ্বোধন করেন। কিন্তু আজ এখানে কেউ নেই। অনেক রোগী ডেস্কের সামনে সকাল থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে আছেন।

মিটফোর্ডের ডেঙ্গু পরিস্থিতি

হাসপাতালের পরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী ফিরোজ জাগো নিউজকে জানান, এ বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত ঢামেকে ডেঙ্গু রোগে ভর্তি হয়েছেন মোট ৯৫৪ জন। সোমবার মোট ১০৫ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। মঙ্গলবার দুপুর ২টা পর্যন্ত মোট ২৯৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালের ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগতদের অধিকাংশই কেরানীগঞ্জ, চুনকুটিয়া, কদমতলী এলাকার। এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরাও আছেন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৩ হাজার ৬৩৭ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এ সংখ্যা সর্বোচ্চ। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে শুধু চলতি (জুলাই) মাসেই ভর্তি হন রেকর্ড সংখ্যক ১১ হাজার ৪৫০ ডেঙ্গু রোগী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




ডেঙ্গু হেল্প ডেস্কে হেল্প করার কেউ নেই!

আপডেট সময় : ০৪:৫৯:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দুপুর পৌনে ১টা। স্যার সলিমুল্লাহ্ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের বিল্ডিং-২ এর নিচতলার ডেঙ্গু হেল্প ডেস্কের আশপাশে অসংখ্য রোগী ও তাদের স্বজন। কেউ ঘুমন্ত শিশুকে কোলে নিয়ে আছেন, কেউ হেল্প ডেস্কের পাশের চেয়ারে শুয়ে আছেন। সবার অপেক্ষা কখন ডেঙ্গু হেল্প ডেস্কে চিকিৎসক আসবেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, দুপুর ১টা পর্যন্ত হেল্প ডেস্কে কোনো চিকিৎসক বা নার্সকে দেখা যায়নি।

সোমবার ডেঙ্গু রোগীদের ওয়ান স্টপ সার্ভিস দেয়ার জন্য খোলা হয়েছিল ডেস্কটি। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, এটার দায়িত্বে থাকার কথা ছিল মেডিসিন বিভাগের একজন চিকিৎসক ও নার্সের। ডেঙ্গু জ্বর সন্দেহে কেউ যদি এ হাসপাতালে আসেন তাহলে তাদের এ ডেস্কে এসেই সব চিকিৎসা নেয়ার কথা। এখান থেকে রোগীদের প্রাথমিক নির্দেশনা, টেস্টের নাম দেয়ার কথা।

কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকে কাউকে দেখা যায়নি মিটফোর্ড হাসপাতালের হেল্প ডেস্কে। ডেস্কে পড়েছিল একটি খাম ও একটি রেজিস্টার খাতা। খাতায় গতকাল ডেস্ক উদ্বোধনের পরপর তিনজন রোগী দেখা হয়েছিল, শুধু তাদের নাম লেখা আছে। আজ রেজিস্টার খাতাও ছিল ফাঁকা।

আউটডোর বিভাগের হেল্প ডেস্কের পাশে তিন ঘণ্টা ধরে স্ত্রীকে নিয়ে বসে আছেন আকমল আহমেদ নামে কদমতলীর এক ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, আমার স্ত্রীর তিনদিন ধরে জ্বর। সকালে টিকিট কেটে সরাসরি হেল্প ডেস্কে এলাম। ১১টা থেকে বসে আছি। ২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত কাউকে পেলাম না।

ডেস্কের চেয়ারে দুই বছর বয়সী এক ছেলেকে নিয়ে তিন ঘণ্টা ধরে বসে আছেন মুক্তা নামের এক নারী। কোলের শিশুটি ঘুমাচ্ছে। তিনিও অপেক্ষা করছেন ডেস্কের চিকিৎসকের জন্য।

১০৩ ডিগ্রি জ্বরে কাতর মিটফোর্ডের বিসমিল্লাহ্ টাওয়ারের একটি দোকানের কর্মচারী সোহান আহমেদ। টিকিট কেটে মেডিসিন বিভাগের অন্য ডাক্তারদের দেখানোর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়ানোর শক্তি নেই তার। তাই হেল্প ডেস্কে এসেছিলেন। কিন্তু এখানেও পাননি চিকিৎসা। অপেক্ষার একপর্যায়ে শুয়ে পড়েছেন ডেস্কের পাশের চেয়ারে।

ডেস্কের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা কোথায়? জানতে চাইলে মেডিসিন বিভাগের এক নার্স বলেন, ‘সকালে একজন ডাক্তারকে দেখেছিলাম। এখন তারা কোথায় বলতে পারছি না।’ তবে রেজিস্টার খাতা অনুযায়ী, হেল্প ডেস্ক আজ কোনো রোগীকে দেখা হয়নি।

ডেস্কের পাশেই কর্তব্যরত একজন আনসারকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে দেখিনি, কিছু বলতে পারছি না।’

এদিকে মঙ্গলবার ভোররাত থেকে জ্বরে আক্রান্ত প্রায় হাজারখানেক নারী-পুরুষ ও শিশু মিটফোর্ডের বহির্বিভাগের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। আউটডোর বিভাগের সাপোর্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. হাসান আলী জাগো নিউজকে জানান, সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৯২০ জন নারী-পুরুষ এবং ৪৩৩ শিশু জ্বর নিয়ে ডাক্তার দেখানোর জন্য কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করেছেন।

মিটফোর্ড হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী, একজন রোগী আউটডোর থেকে টিকিট নিয়ে স্ব স্ব বিভাগের ডাক্তারদের কাছে গিয়ে পরামর্শ নেবেন। তবে ডেঙ্গু রোগীরা টিকিট নিয়ে সরাসরি যাবেন ডেঙ্গু হেল্প ডেস্কে।

মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ডেঙ্গু হেল্প ডেস্কে কাউকে না পেয়ে রোগীরা মেডিসিন বিভাগের মেডিকেল অফিসারদের রুমে ভিড় করেছেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় চারজন মেডিকেল অফিসারের রুমে প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষের লাইন দেখা গেছে। পুরুষরা দাঁড়িয়েছেন ১১৭ ও ১১৮ নম্বর রুমের মেডিকেল অফিসারের লাইনে, নারীরা ১১২-১১৩ নম্বর রুমের বাইরে।

বাবু বাজারের কেমিক্যাল দোকানের কর্মচারী আজাদ বলেন, জ্বর এসেছে। ডেঙ্গু কি-না, নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডাক্তার দেখাতে এসেছি। লাইনে আড়াই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি, লাইন দেখে মনে হচ্ছে আরও এক ঘণ্টা লাগবে। হেল্প ডেস্কে ডাক্তার থাকলে এত সমস্যা হতো না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান বঙ্কিম হালদার জাগো নিউজকে বলেন, “অনেকে হেল্প ডেস্কের কথা না জেনে এদিক-ওদিক ঘুরছেন। হেল্প ডেস্কে সার্বক্ষণিক ডাক্তার থাকার কথা। ‘ডাক্তার নেই’ বিষয়টি আমি আপনার কাছ থেকে মাত্র শুনলাম। দেখছি, ব্যবস্থা নিচ্ছি। তবে হেল্প ডেস্ক ছাড়াও আরও চারটি রুমে ডাক্তাররা ডেঙ্গু রোগী দেখছেন।

হাসপাতালের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, গতকাল (সোমবার) বড় স্যাররা এসে ছবি তুলে জাঁকজমকভাবে ডেস্কটি উদ্বোধন করেন। কিন্তু আজ এখানে কেউ নেই। অনেক রোগী ডেস্কের সামনে সকাল থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে আছেন।

মিটফোর্ডের ডেঙ্গু পরিস্থিতি

হাসপাতালের পরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী ফিরোজ জাগো নিউজকে জানান, এ বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত ঢামেকে ডেঙ্গু রোগে ভর্তি হয়েছেন মোট ৯৫৪ জন। সোমবার মোট ১০৫ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। মঙ্গলবার দুপুর ২টা পর্যন্ত মোট ২৯৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালের ভর্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগতদের অধিকাংশই কেরানীগঞ্জ, চুনকুটিয়া, কদমতলী এলাকার। এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরাও আছেন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৩ হাজার ৬৩৭ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এ সংখ্যা সর্বোচ্চ। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে শুধু চলতি (জুলাই) মাসেই ভর্তি হন রেকর্ড সংখ্যক ১১ হাজার ৪৫০ ডেঙ্গু রোগী।