ঢাকা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নিরাপত্তার স্বার্থে শাবি শিক্ষার্থীদের আইডিকার্ড সাথে রাখার আহবান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের Logo জনস্বাস্থ্যের প্রধান সাধুর যত অসাধু কর্ম: দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ! Logo বিআইডব্লিউটিএ বন্দর শাখা যুগ্ম পরিচালক আলমগীরের দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য  Logo রাজশাহীতে এটিএন বাংলার সাংবাদিক সুজাউদ্দিন ছোটনকে হয়রানিমূলক মামলায় বএিমইউজরে নিন্দা ও প্রতিবাদ Logo শিক্ষার্থীদের তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ায় অবদান রাখতে হবেঃ ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী Logo ‘কানামাছি শিশুসাহিত্য পুরস্কার ২০২৪’ পেলেন লেখক Logo মধ্যরাতে শাবি ছাত্রলীগের ‘ তুমি কে, আমি কে- বাঙ্গালী, বাঙ্গালী’ শ্লোগানে উত্তাল ক্যাম্পাস Logo আম নিয়ে কষ্টগাঁথা Logo ঘুমান্ত বিবেক মাতাল আবেগ’ – আকাশমণি Logo পুলিশের হামলার পরও ৬ ঘন্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধে কুবি শিক্ষার্থীর




অলির উদ্যোগে গঠিত জাতীয় মুক্তি মঞ্চে ২০ দলে বিশৃঙ্খলা!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩০:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০১৯ ১০০ বার পড়া হয়েছে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক;
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ নিয়ে ২০ দলীয় জোটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এ মঞ্চকে প্রকাশ্যে স্বাগত জানালেও বিএনপির সন্দেহ আর নজরাদিতে রয়েছে অলির নয়া উদ্যোগ। শরিকদের দাবি, বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোটের দুর্বলতার কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারসহ ১৮ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গত ২৭ জুন ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ নামে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের ঘোষণা দেন এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ। এর সঙ্গে কল্যাণ পার্টি, জাগপা, খেলাফত মজলিস ও ন্যাশনাল মুভমেন্ট রয়েছে। তবে জাতীয় পার্টি (জাফর), এনপিপি ও জাতীয় দলকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে যায়নি। আর বিএনপির কোনো নেতা না গেলেও অনুষ্ঠানে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল এলডিপিতে যোগ দেন।

‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ গঠনের পরদিন অলির উদ্যোগকে জোটের প্রধান শরিক বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাগত জানালেও গত ১ জুলাই মঞ্চের চট্টগ্রামের অনুষ্ঠানে বিএনপির কোনো নেতাকে দেখা যায়নি। এছাড়া অলির ‘মুক্তি মঞ্চের’ বিরোধিতা করায় ৩০ জুন জাগপা মহাসচিবের পদ থেকে বহিষ্কার হন খন্দকার লুৎফর রহমান। এরপর ৪ জুলাই বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে জাগপার কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়, সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন ২০ দলের সমন্বয়কারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

জাগপার কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে আলোচনা সভা হলেও সেখানে ছিলেন না দলের চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান। সেখানে প্রাধান্য ছিল বহিষ্কৃত মহাসচিব খন্দকার লুৎফর রহমানের।

বিএনপি সূত্র মতে, জাতীয় মুক্তি মঞ্চকে বিএনপি বাইরে থেকে স্বাগত জানালেও পুরো বিষয়টিকে তারা সন্দেহের চোখে দেখছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানানো হলেও মূলত বিএনপিকে দুর্বল করতে পৃথক জাতীয়তাবাদী প্ল্যাটফর্ম গঠনই ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’র মূল উদ্দেশ্য। যেটা ধীরে ধীরে প্রকাশিত হবে। সে কারণে এ মুক্তি মঞ্চ নিয়ে বেশ সতর্ক বিএনপি। অলির কর্মকাণ্ডও খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে দলটি।

একই সঙ্গে অলির সঙ্গে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের কেউ যাতে শামিল না হয় সেই উদ্যোগও নিয়েছে বিএনপি। অলির মঞ্চে যোগ না দিতে জোটের কয়েকটি দলকে ইতোমধ্যে অনুরোধও করেছে বিএনপি। এলডিপির পক্ষ থেকে জোটের আরও কয়েকটি দলকে দাওয়াত দেয়া হলেও বিএনপির পক্ষ থেকে সেই দলগুলো যাতে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হয় সে চেষ্টা চালানো হয়। এক্ষেত্রে বিএনপি অনেকটাই সফল।

জানা গেছে, জোট শরিক দু-একটি দলের পাশাপাশি মধ্যপন্থী ও ধর্মভিত্তিক হিসেবে পরিচিত কিছু দল ও ব্যক্তিকে মুক্তি মঞ্চে নেয়ার তৎপরতা চালাচ্ছেন অলি আহমদ। ১৬ জুলাই সিলেটে মুক্তি মঞ্চের পরবর্তী কর্মসূচি আছে। ওই কর্মসূচির পর মুক্তি মঞ্চের সাংগঠনিক কাঠামো ঠিক করা হবে।

এদিকে ‘মুক্তি মঞ্চ’- কে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে স্বাগত জানিছেন তার ব্যাখা দিতে গিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব জাতীয় মুক্তি মঞ্চকে স্বাগত জানাননি। মুক্তি মঞ্চ দেশনেত্রীর মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে যে আন্দোলনের কথা বলেছে, উনি সেটাকে স্বাগত জানিয়েছেন।’

বিশৃঙ্খল এ পরিস্থিতি নিয়ে জোটের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে আমরা একটা ঐক্যে আছি। বিএনপি আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে গিয়েছে। এখন কোনো প্রকার আলোচনা ছাড়া জোটের মধ্যে আলাদা একটা মঞ্চ…, এটাকে মনে করি, জোটকে পাশ কাটিয়ে একটা সিদ্ধান্ত। এটা জোটের আগামী সভায় তুলব। বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলন বেশি দায়িত্ব বর্তায় বিএনপির ওপর, আমরাও কথা বলছি, কর্মসূচি নিয়ে আমরাও সন্তুষ্ট নই। ’

এলডিপির যুগ্ম মহাসচিব শাহাদৎ হোসেন সেলিম বলেন, জাতীয় মুক্তি মঞ্চ নিয়ে ২০ দলে মোটেও বিশৃঙ্খলা হয়নি। আর ২০ দল নিজেও অস্বিত্ব সঙ্কটে আছে। এখানে প্রায় এক ডজন নেতা আছেন। যাদের ঢাল নেই, তলোয়ার নেই, নিধিরাম সর্দার। আমরা যারা ২০ দলীয় জোট করি তারা জাতীয় মুক্তি মঞ্চ করেছি, এখানে একটার সঙ্গে আরেকটা সাংঘর্ষিক নয়।’

ন্যাশনাল পিপলস পার্টি- এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, ‘২০ দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি, অলি আলাদা একটা মঞ্চ করেছে খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে। এটা করতেই পারেন। ২০ দলে যারা ছিল, তারা থাকবে। ২০ দলে তেমন কোনো বিশৃঙ্খলা নাই।’

ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘২০ দলীয় জোট আরও কার্যকর করতে হবে, জোট কার্যকর হলে খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব। এখন মুক্তি মঞ্চের বিষয় দেখতে হবে, ওদের সময় দিতে হবে। ওরা কত দূর কী করতে পারে বা না পারে, ওদের সময় না দেয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না। সময়ই বলে দেবে ওরা কতটা করল।’

জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, ‘এটাকে কিছুটা অতিরঞ্জিত করছে মিডিয়া এবং ২০ দলের কতিপয় নেতা। মুক্তি মঞ্চের ঘোষণায় খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা বলা আছে। এ নিয়ে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, এটা অহেতুক, এটার দরকার ছিল না।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




অলির উদ্যোগে গঠিত জাতীয় মুক্তি মঞ্চে ২০ দলে বিশৃঙ্খলা!

আপডেট সময় : ০৯:৩০:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০১৯

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক;
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ নিয়ে ২০ দলীয় জোটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এ মঞ্চকে প্রকাশ্যে স্বাগত জানালেও বিএনপির সন্দেহ আর নজরাদিতে রয়েছে অলির নয়া উদ্যোগ। শরিকদের দাবি, বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোটের দুর্বলতার কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারসহ ১৮ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গত ২৭ জুন ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ নামে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের ঘোষণা দেন এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ। এর সঙ্গে কল্যাণ পার্টি, জাগপা, খেলাফত মজলিস ও ন্যাশনাল মুভমেন্ট রয়েছে। তবে জাতীয় পার্টি (জাফর), এনপিপি ও জাতীয় দলকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে যায়নি। আর বিএনপির কোনো নেতা না গেলেও অনুষ্ঠানে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল এলডিপিতে যোগ দেন।

‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ গঠনের পরদিন অলির উদ্যোগকে জোটের প্রধান শরিক বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাগত জানালেও গত ১ জুলাই মঞ্চের চট্টগ্রামের অনুষ্ঠানে বিএনপির কোনো নেতাকে দেখা যায়নি। এছাড়া অলির ‘মুক্তি মঞ্চের’ বিরোধিতা করায় ৩০ জুন জাগপা মহাসচিবের পদ থেকে বহিষ্কার হন খন্দকার লুৎফর রহমান। এরপর ৪ জুলাই বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে জাগপার কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়, সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন ২০ দলের সমন্বয়কারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

জাগপার কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে আলোচনা সভা হলেও সেখানে ছিলেন না দলের চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান। সেখানে প্রাধান্য ছিল বহিষ্কৃত মহাসচিব খন্দকার লুৎফর রহমানের।

বিএনপি সূত্র মতে, জাতীয় মুক্তি মঞ্চকে বিএনপি বাইরে থেকে স্বাগত জানালেও পুরো বিষয়টিকে তারা সন্দেহের চোখে দেখছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানানো হলেও মূলত বিএনপিকে দুর্বল করতে পৃথক জাতীয়তাবাদী প্ল্যাটফর্ম গঠনই ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’র মূল উদ্দেশ্য। যেটা ধীরে ধীরে প্রকাশিত হবে। সে কারণে এ মুক্তি মঞ্চ নিয়ে বেশ সতর্ক বিএনপি। অলির কর্মকাণ্ডও খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে দলটি।

একই সঙ্গে অলির সঙ্গে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের কেউ যাতে শামিল না হয় সেই উদ্যোগও নিয়েছে বিএনপি। অলির মঞ্চে যোগ না দিতে জোটের কয়েকটি দলকে ইতোমধ্যে অনুরোধও করেছে বিএনপি। এলডিপির পক্ষ থেকে জোটের আরও কয়েকটি দলকে দাওয়াত দেয়া হলেও বিএনপির পক্ষ থেকে সেই দলগুলো যাতে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হয় সে চেষ্টা চালানো হয়। এক্ষেত্রে বিএনপি অনেকটাই সফল।

জানা গেছে, জোট শরিক দু-একটি দলের পাশাপাশি মধ্যপন্থী ও ধর্মভিত্তিক হিসেবে পরিচিত কিছু দল ও ব্যক্তিকে মুক্তি মঞ্চে নেয়ার তৎপরতা চালাচ্ছেন অলি আহমদ। ১৬ জুলাই সিলেটে মুক্তি মঞ্চের পরবর্তী কর্মসূচি আছে। ওই কর্মসূচির পর মুক্তি মঞ্চের সাংগঠনিক কাঠামো ঠিক করা হবে।

এদিকে ‘মুক্তি মঞ্চ’- কে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে স্বাগত জানিছেন তার ব্যাখা দিতে গিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব জাতীয় মুক্তি মঞ্চকে স্বাগত জানাননি। মুক্তি মঞ্চ দেশনেত্রীর মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে যে আন্দোলনের কথা বলেছে, উনি সেটাকে স্বাগত জানিয়েছেন।’

বিশৃঙ্খল এ পরিস্থিতি নিয়ে জোটের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে আমরা একটা ঐক্যে আছি। বিএনপি আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে গিয়েছে। এখন কোনো প্রকার আলোচনা ছাড়া জোটের মধ্যে আলাদা একটা মঞ্চ…, এটাকে মনে করি, জোটকে পাশ কাটিয়ে একটা সিদ্ধান্ত। এটা জোটের আগামী সভায় তুলব। বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলন বেশি দায়িত্ব বর্তায় বিএনপির ওপর, আমরাও কথা বলছি, কর্মসূচি নিয়ে আমরাও সন্তুষ্ট নই। ’

এলডিপির যুগ্ম মহাসচিব শাহাদৎ হোসেন সেলিম বলেন, জাতীয় মুক্তি মঞ্চ নিয়ে ২০ দলে মোটেও বিশৃঙ্খলা হয়নি। আর ২০ দল নিজেও অস্বিত্ব সঙ্কটে আছে। এখানে প্রায় এক ডজন নেতা আছেন। যাদের ঢাল নেই, তলোয়ার নেই, নিধিরাম সর্দার। আমরা যারা ২০ দলীয় জোট করি তারা জাতীয় মুক্তি মঞ্চ করেছি, এখানে একটার সঙ্গে আরেকটা সাংঘর্ষিক নয়।’

ন্যাশনাল পিপলস পার্টি- এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, ‘২০ দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি, অলি আলাদা একটা মঞ্চ করেছে খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে। এটা করতেই পারেন। ২০ দলে যারা ছিল, তারা থাকবে। ২০ দলে তেমন কোনো বিশৃঙ্খলা নাই।’

ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘২০ দলীয় জোট আরও কার্যকর করতে হবে, জোট কার্যকর হলে খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব। এখন মুক্তি মঞ্চের বিষয় দেখতে হবে, ওদের সময় দিতে হবে। ওরা কত দূর কী করতে পারে বা না পারে, ওদের সময় না দেয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না। সময়ই বলে দেবে ওরা কতটা করল।’

জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, ‘এটাকে কিছুটা অতিরঞ্জিত করছে মিডিয়া এবং ২০ দলের কতিপয় নেতা। মুক্তি মঞ্চের ঘোষণায় খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা বলা আছে। এ নিয়ে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, এটা অহেতুক, এটার দরকার ছিল না।’