ঢাকা ১২:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

ট্রাকপ্রতি একশ থেকে ৫শ টাকা আদায় করে পুলিশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৫:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ মে ২০১৯ ২৮৩ বার পড়া হয়েছে

জেলা প্রতিনিধি;
চট্টগ্রাম-খুলনা মহাসড়কের শরীয়তপুর অংশে চলাচলকারী যানবাহন চালকদের কাছে ট্রাফিক পুলিশের প্রকাশ্য চাঁদাবাজি এখন বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আংগারিয়া থেকে নরসিংহপুর পর্যন্ত মাত্র ৩৫ কিলোমিটার সড়কের অন্তত পাঁচটি স্পটে ট্রাফিক পুলিশকে চাঁদা দিতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন চালকরা। মালিক ও চালকদের কাছ থেকে মাসিক চুক্তিতে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে সড়কের নিরাপত্তায় থাকা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে একাধিক দিন মহাসড়কের একাধিক স্পটে ঘুরে ও গাড়িচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মনোহরবাজার, হিন্দুপাড়া স্কুলের মোড়, আংগারিয়া, রুদ্রকর ও বুড়িরহাট এলাকার অন্তত পাঁচটি স্পটে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পণ্যবাহী যানবাহন থেকে টাকা আদায় করে ট্রাফিক পুলিশ। অধিকাংশ সময় ট্রাফিক পুলিশের টিএসআই গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে এটিএসআই কুদ্দুস ও ট্রাফিক কনস্টেবল সুব্রত এ চাঁদা আদায় করে থাকেন। প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত প্রতিটি পণ্যবাহী ট্রাক থেকে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। বিশেষ করে দূরপাল্লার পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজির প্রধান টার্গেট।

চট্টগ্রাম-খুলনা সড়কের এই অংশ দিয়ে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ পণ্যবাহী যানবাহন যাতায়াত করে। জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের আওতায় রয়েছে আরও পাঁচ শতাধিক যানবাহন। যার প্রতিটিকেই দৈনিক বা মাসিক চুক্তির আওতায় ট্রাফিক পুলিশকে টাকা দিতে হয়।

কাভার্ড ভ্যানের চালক মো. দিদার মিয়া বলেন, আমার গাড়ির সব কাগজপত্র ঠিক আছে। এরপরও প্রতিবার যাওয়া-আসার সময় ট্রাফিক পুলিশকে চাঁদা দিতে হয়। না দিলে কোনো না কোনো কারণ দেখিয়ে মামলা করবে। তাই হয়রানি থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়ে টাকা দেই।


স্থানীয় ট্রাকচালক আবুল হোসেন, রফিকুল ইসলাম ও সোবহান মাতবর জানান, তারা মালিক সমিতির মাধ্যমে প্রতিমাসে গাড়িপ্রতি ৫০০ টাকা করে দেন। বিনিময়ে তাদের গাড়িতে স্টিকার লাগিয়ে দেয়া হয়। এই স্টিকার দেখলে ট্রাফিক পুলিশ গাড়ি থামায় না।

শরীয়তপুর ট্রাকচালক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হাওলাদার বলেন, ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে মাসিক চুক্তি থাকে। মাসিক টাকা দিলে কাগজ বা লাইসেন্স না থাকলেও সমস্যা নাই। আর না দিলে কাগজ থাকলেও ঝামেলা করে।

এ ব্যাপারে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন বলেন, গাড়ি থেকে অবৈধভাবে ট্রাফিক পুলিশের টাকা আদায়ের একটি ভিডিও আমরা পেয়েছি। ইতোমধ্যে তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই ধরনের ঘটনায় যারা জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধেই আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

ট্রাকপ্রতি একশ থেকে ৫শ টাকা আদায় করে পুলিশ

আপডেট সময় : ১১:৫৫:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ মে ২০১৯

জেলা প্রতিনিধি;
চট্টগ্রাম-খুলনা মহাসড়কের শরীয়তপুর অংশে চলাচলকারী যানবাহন চালকদের কাছে ট্রাফিক পুলিশের প্রকাশ্য চাঁদাবাজি এখন বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আংগারিয়া থেকে নরসিংহপুর পর্যন্ত মাত্র ৩৫ কিলোমিটার সড়কের অন্তত পাঁচটি স্পটে ট্রাফিক পুলিশকে চাঁদা দিতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন চালকরা। মালিক ও চালকদের কাছ থেকে মাসিক চুক্তিতে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে সড়কের নিরাপত্তায় থাকা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে একাধিক দিন মহাসড়কের একাধিক স্পটে ঘুরে ও গাড়িচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মনোহরবাজার, হিন্দুপাড়া স্কুলের মোড়, আংগারিয়া, রুদ্রকর ও বুড়িরহাট এলাকার অন্তত পাঁচটি স্পটে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পণ্যবাহী যানবাহন থেকে টাকা আদায় করে ট্রাফিক পুলিশ। অধিকাংশ সময় ট্রাফিক পুলিশের টিএসআই গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে এটিএসআই কুদ্দুস ও ট্রাফিক কনস্টেবল সুব্রত এ চাঁদা আদায় করে থাকেন। প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত প্রতিটি পণ্যবাহী ট্রাক থেকে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। বিশেষ করে দূরপাল্লার পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজির প্রধান টার্গেট।

চট্টগ্রাম-খুলনা সড়কের এই অংশ দিয়ে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ পণ্যবাহী যানবাহন যাতায়াত করে। জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের আওতায় রয়েছে আরও পাঁচ শতাধিক যানবাহন। যার প্রতিটিকেই দৈনিক বা মাসিক চুক্তির আওতায় ট্রাফিক পুলিশকে টাকা দিতে হয়।

কাভার্ড ভ্যানের চালক মো. দিদার মিয়া বলেন, আমার গাড়ির সব কাগজপত্র ঠিক আছে। এরপরও প্রতিবার যাওয়া-আসার সময় ট্রাফিক পুলিশকে চাঁদা দিতে হয়। না দিলে কোনো না কোনো কারণ দেখিয়ে মামলা করবে। তাই হয়রানি থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়ে টাকা দেই।


স্থানীয় ট্রাকচালক আবুল হোসেন, রফিকুল ইসলাম ও সোবহান মাতবর জানান, তারা মালিক সমিতির মাধ্যমে প্রতিমাসে গাড়িপ্রতি ৫০০ টাকা করে দেন। বিনিময়ে তাদের গাড়িতে স্টিকার লাগিয়ে দেয়া হয়। এই স্টিকার দেখলে ট্রাফিক পুলিশ গাড়ি থামায় না।

শরীয়তপুর ট্রাকচালক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হাওলাদার বলেন, ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে মাসিক চুক্তি থাকে। মাসিক টাকা দিলে কাগজ বা লাইসেন্স না থাকলেও সমস্যা নাই। আর না দিলে কাগজ থাকলেও ঝামেলা করে।

এ ব্যাপারে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন বলেন, গাড়ি থেকে অবৈধভাবে ট্রাফিক পুলিশের টাকা আদায়ের একটি ভিডিও আমরা পেয়েছি। ইতোমধ্যে তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই ধরনের ঘটনায় যারা জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধেই আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।