তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার
- আপডেট সময় : ০৫:২০:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পোশাকশিল্পের দুই প্রধান সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএর নেতাদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার বলেন, ‘তৈরি পোশাকশিল্পে মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া আমরা শুরু করেছি। প্রথমেই মালিক ও শ্রমিকপক্ষের কাছে তাদের প্রতিনিধির নাম চাওয়া হবে।
তারপরই মজুরি বোর্ডের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। শ্রমসচিব জানান, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম পাওয়া গেলে চলতি মাসেই মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে।
সম্প্রতি শ্রম আইন সংশোধন করে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময়কাল পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে। তৈরি পোশাক শ্রমিকদের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয় ২০২৩ সালের নভেম্বরে।
নতুন মজুরি কার্যকর হয় ওই বছরের ডিসেম্বর থেকে। আগামী নভেম্বরে ওই মজুরি ঘোষণার তিন বছর পূর্ণ হবে।
তবে নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে তিন বছর গণনা হবে, নাকি আগের মজুরি ঘোষণার সময় থেকে—এ নিয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
শ্রমিকনেতারা বলছেন, আইন অনুযায়ী চলতি বছরই নতুন মজুরিকাঠামো নির্ধারণ করতে হবে। অন্যদিকে মালিকপক্ষের নেতাদের বক্তব্য, আইন পাস হওয়ার পর থেকেই তিন বছরের সময় গণনা করা উচিত।
এ বিষয়ে শ্রমসচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার বলেন, বিষয়টি মালিক, শ্রমিক ও সরকারের শ্রমসংক্রান্ত কারিগরি কমিটির সভায় চূড়ান্ত করা হবে। সেখানে সমাধান না হলে জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) সভায় বিষয়টি তোলা হবে। সেখানেও সিদ্ধান্ত না হলে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
২০২৩ সালে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়। এতে মজুরি বেড়েছিল ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। ওই সময়ের মজুরিকাঠামোয় সাতটি গ্রেড কমিয়ে পাঁচটি গ্রেড করা হয়।
মজুরি পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবি যৌক্তিক। তবে বাড়তি মজুরি দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর রয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বর্তমান মজুরিকাঠামোতেই অনেক কারখানা টিকতে না পেরে বন্ধ হয়েছে। নতুন করে মজুরি বাড়ানো হলে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে।




















