ঢাকা ০৫:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের জোরালো আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত: প্রধানমন্ত্রী Logo জ্বালানি ও বিনিয়োগ সহযোগিতায় গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের Logo মাথাপিছু জিডিপিতে এ বছর ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ: আইএমএফ Logo মোটরসাইকেলের চেইন পরিষ্কার ও লুব করার সঠিক নিয়ম Logo নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রথম পর্বের ৪০ খেলোয়াড় বিকেএসপিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণে ভর্তির সুযোগ Logo তেহরানে বৈঠকে বসছে মক্কা প্যাক্ট ও ইরান Logo নিত্যপণ্যের আমদানি বেড়েছে, রমজানে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার আশা Logo লগি-বৈঠার আঘাতে নিহতদের স্মরণ করলেন বিরোধীদলীয় নেতা

শেখ হাসিনার স্নেহধন্য দোলনের দাপট: হত্যা মামলার আসামি হয়েও সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীতা বহাল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৩:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬ ৫০১ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই বিপ্লবের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতা পালিয়ে গেলেও কয়েকজন এখনো দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আরিফুর রহমান দোলন। ছাত্র-জনতা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই ‘কেস পার্টনার’ ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না পেয়ে ডামি প্রার্থী হিসেবে ভোটযুদ্ধে অংশ নেন। এবার তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি ফরিদপুর-১ (মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা) আসন থেকে মনোনয়নপত্রও জমা দিয়েছেন।

 

জানা গেছে, দোলন ছাত্রজীবনেই আওয়ামী রাজনীতিতে জড়ান। ১৯৮৮ সালে তিনি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থানা ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। এরপর ঢাকা কলেজের উত্তর ছাত্রাবাস শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। এমনকি কলকাতায় অবস্থানকালে ছাত্রলীগপন্থি সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।

 

হয়রানির শিকার হওয়ার ভয়ে নাম প্রকাশ না করে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ঈগল প্রতীক নিয়ে ডামি নির্বাচনে জিততে না পারলেও ত্রয়োদশ সংসদের ভোট সামনে রেখে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন দোলন। নিজে রিটার্নিং কার্যালয়ে না গেলেও স্ত্রীর মাধ্যমে জমা দিয়েছেন মনোনয়নপত্র। তার বিরুদ্ধে জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতা হত্যা, মানিলন্ডারিং, অর্থ পাচারসহ একাধিক মামলা থাকলেও ঘুরে বেড়াচ্ছেন ফুরফুরে মেজাজে। তবে এসব মামলায় তিনি জামিন নিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর বর্বরোচিত হামলা ও হত্যাকাণ্ড চালানোয় রাজধানীর গুলশান থানায় মো. সবুজ বাদী হয়ে শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে ৩১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এতে এজাহারভুক্ত ১৪ নম্বর আসামি দোলন। এ মামলায় কাউকে জামিন দেওয়া হয়েছে এমন কোনো রেকর্ড পাওয়া না গেলেও তাকে অদ্যাবধি গ্রেপ্তার করা হয়নি। একই মামলার ১৩ নম্বর আসামি সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তবে দোলন আছেন খোশ মেজাজে।

 

মামলাটিতে আসামির তালিকায় নাম আছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান, ফ্যাসিবাদী দলটির সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সাবেক সদস্য ও আওয়ামী মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, আওয়ামী লীগের সাবেক বাণিজ্য ও শিল্পবিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ফ্যাসিবাদের দোসরদের সম্মুখ সারির প্রায় সবার। তারা সবাই পলাতক আছেন।

 

শেখ হাসিনার বেয়াই ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ভাগনি জামাই হওয়ায় ফ্যাসিবাদী আমলে দোর্দণ্ড প্রতাপ নিয়ে এলাকায় রামরাজত্ব কায়েম করেছিলেন দোলন। জাতীয় রাজনীতিতেও তার ছিল বিশেষ প্রভাব। গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের পরিচয় দিয়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন মিডিয়া পাড়াও।

 

জুলাই বিপ্লবের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রকাশ্যে আসেন দোলন। ফরিদপুর-১ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে ঘোষণা দিয়ে প্রচারণা শুরু করেন। এতে সামাজিক মাধ্যমসহ ফরিদপুরের রাজনীতিতে সমালোচনার ঝড় ওঠে। গ্রেপ্তার করে শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় প্রশাসন ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসন করছে বলেও অনেকে অভিযোগ করেন।

 

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ ডিসেম্বর এই নির্বাচনি এলাকায় দোলনসহ ফ্যাসিবাদের সব দোসরকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ব্যানারে মশাল মিছিল বের হয়। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা দোলনকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বলেন, দোলন কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং তিনি আওয়ামী মন্ত্রী মোশাররফের ভাগ্নি জামাই। এমনকি তিনি দেশজুড়ে আলোচিত ২ হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি। এত কিছুর পরও তাকে গ্রেপ্তার না করায় তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় ফেরানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত আছেন।

 

২০২৪ সালের ৫ মার্চ দেশজুড়ে আলোচিত ২ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির দায়ের করা মামলায় দোলনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আস-সামছ জগলুল হোসেন। আগাম জামিনে থেকে ওই দিন আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

 

দোলনের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদ কায়েমে সহযোগিতা, আওয়ামী লীগ ফেরানোর চেষ্টা, লুটপাটের বহু অভিযোগ আছে। তার চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন আছে সাধারণ মানুষের। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন এক নারী।

 

কয়েকটি সূত্রে জানা যায়, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা দোলন শুধু রাজনৈতিক নেতাই ছিলেন না, তিনি তার লেখনীর মাধ্যমেও ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় ঘৃণ্য ভূমিকা রেখেছেন। তিনি ‘অদম্য শেখ হাসিনা’ নামে একটি বইয়ের সম্পাদনা করে আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকে ব্যাপক সুবিধা নেন।

 

এসব বিষয়ে আরিফুর রহমান দোলনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোন নাম্বারে ফোন করে ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠালেও বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

শেখ হাসিনার স্নেহধন্য দোলনের দাপট: হত্যা মামলার আসামি হয়েও সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীতা বহাল

আপডেট সময় : ০৫:৫৩:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই বিপ্লবের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতা পালিয়ে গেলেও কয়েকজন এখনো দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আরিফুর রহমান দোলন। ছাত্র-জনতা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই ‘কেস পার্টনার’ ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না পেয়ে ডামি প্রার্থী হিসেবে ভোটযুদ্ধে অংশ নেন। এবার তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি ফরিদপুর-১ (মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা) আসন থেকে মনোনয়নপত্রও জমা দিয়েছেন।

 

জানা গেছে, দোলন ছাত্রজীবনেই আওয়ামী রাজনীতিতে জড়ান। ১৯৮৮ সালে তিনি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থানা ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। এরপর ঢাকা কলেজের উত্তর ছাত্রাবাস শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। এমনকি কলকাতায় অবস্থানকালে ছাত্রলীগপন্থি সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।

 

হয়রানির শিকার হওয়ার ভয়ে নাম প্রকাশ না করে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ঈগল প্রতীক নিয়ে ডামি নির্বাচনে জিততে না পারলেও ত্রয়োদশ সংসদের ভোট সামনে রেখে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন দোলন। নিজে রিটার্নিং কার্যালয়ে না গেলেও স্ত্রীর মাধ্যমে জমা দিয়েছেন মনোনয়নপত্র। তার বিরুদ্ধে জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতা হত্যা, মানিলন্ডারিং, অর্থ পাচারসহ একাধিক মামলা থাকলেও ঘুরে বেড়াচ্ছেন ফুরফুরে মেজাজে। তবে এসব মামলায় তিনি জামিন নিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর বর্বরোচিত হামলা ও হত্যাকাণ্ড চালানোয় রাজধানীর গুলশান থানায় মো. সবুজ বাদী হয়ে শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে ৩১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এতে এজাহারভুক্ত ১৪ নম্বর আসামি দোলন। এ মামলায় কাউকে জামিন দেওয়া হয়েছে এমন কোনো রেকর্ড পাওয়া না গেলেও তাকে অদ্যাবধি গ্রেপ্তার করা হয়নি। একই মামলার ১৩ নম্বর আসামি সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তবে দোলন আছেন খোশ মেজাজে।

 

মামলাটিতে আসামির তালিকায় নাম আছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান, ফ্যাসিবাদী দলটির সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সাবেক সদস্য ও আওয়ামী মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, আওয়ামী লীগের সাবেক বাণিজ্য ও শিল্পবিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ ফ্যাসিবাদের দোসরদের সম্মুখ সারির প্রায় সবার। তারা সবাই পলাতক আছেন।

 

শেখ হাসিনার বেয়াই ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ভাগনি জামাই হওয়ায় ফ্যাসিবাদী আমলে দোর্দণ্ড প্রতাপ নিয়ে এলাকায় রামরাজত্ব কায়েম করেছিলেন দোলন। জাতীয় রাজনীতিতেও তার ছিল বিশেষ প্রভাব। গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের পরিচয় দিয়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন মিডিয়া পাড়াও।

 

জুলাই বিপ্লবের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রকাশ্যে আসেন দোলন। ফরিদপুর-১ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে ঘোষণা দিয়ে প্রচারণা শুরু করেন। এতে সামাজিক মাধ্যমসহ ফরিদপুরের রাজনীতিতে সমালোচনার ঝড় ওঠে। গ্রেপ্তার করে শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় প্রশাসন ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসন করছে বলেও অনেকে অভিযোগ করেন।

 

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ ডিসেম্বর এই নির্বাচনি এলাকায় দোলনসহ ফ্যাসিবাদের সব দোসরকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ব্যানারে মশাল মিছিল বের হয়। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা দোলনকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বলেন, দোলন কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং তিনি আওয়ামী মন্ত্রী মোশাররফের ভাগ্নি জামাই। এমনকি তিনি দেশজুড়ে আলোচিত ২ হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি। এত কিছুর পরও তাকে গ্রেপ্তার না করায় তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় ফেরানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত আছেন।

 

২০২৪ সালের ৫ মার্চ দেশজুড়ে আলোচিত ২ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির দায়ের করা মামলায় দোলনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আস-সামছ জগলুল হোসেন। আগাম জামিনে থেকে ওই দিন আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

 

দোলনের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদ কায়েমে সহযোগিতা, আওয়ামী লীগ ফেরানোর চেষ্টা, লুটপাটের বহু অভিযোগ আছে। তার চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন আছে সাধারণ মানুষের। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন এক নারী।

 

কয়েকটি সূত্রে জানা যায়, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা দোলন শুধু রাজনৈতিক নেতাই ছিলেন না, তিনি তার লেখনীর মাধ্যমেও ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় ঘৃণ্য ভূমিকা রেখেছেন। তিনি ‘অদম্য শেখ হাসিনা’ নামে একটি বইয়ের সম্পাদনা করে আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকে ব্যাপক সুবিধা নেন।

 

এসব বিষয়ে আরিফুর রহমান দোলনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোন নাম্বারে ফোন করে ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠালেও বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।