ঢাকা ০৪:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের জোরালো আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত: প্রধানমন্ত্রী Logo জ্বালানি ও বিনিয়োগ সহযোগিতায় গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের Logo মাথাপিছু জিডিপিতে এ বছর ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ: আইএমএফ Logo মোটরসাইকেলের চেইন পরিষ্কার ও লুব করার সঠিক নিয়ম Logo নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রথম পর্বের ৪০ খেলোয়াড় বিকেএসপিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণে ভর্তির সুযোগ Logo তেহরানে বৈঠকে বসছে মক্কা প্যাক্ট ও ইরান Logo নিত্যপণ্যের আমদানি বেড়েছে, রমজানে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার আশা Logo লগি-বৈঠার আঘাতে নিহতদের স্মরণ করলেন বিরোধীদলীয় নেতা

লগি-বৈঠার আঘাতে নিহতদের স্মরণ করলেন বিরোধীদলীয় নেতা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৮:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার নির্মম আঘাতে নিহতদের স্মরণ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তিনি নিহতের স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, ২০০৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যে চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট সারা দেশে লগি-বৈঠার তাণ্ডব সৃষ্টি করে। সেদিন বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে একটি জনসভার আয়োজন করা হয়। সকাল থেকে জনসভার স্টেজ নির্মাণের কাজ চলছিল। হঠাৎ ১৪ দলীয় জোটের সন্ত্রাসীরা গোটা পল্টন এলাকায় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের ওপর লগি-বৈঠা, লোহার রড ও বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

আমিরে জামায়াত আরও বলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শুরু হলে চারদিক থেকে ১৪ দলের সন্ত্রাসীরা গুলি করতে করতে জনসমাবেশের দিকে অগ্রসর হয়। সমাবেশের প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন আমিরে জামায়াত ও শিল্পমন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী (রহি.)। জনসভায় উপস্থিত জনগণ ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের ওপর আক্রমণ করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। ওই দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পল্টন এলাকা লগি-বৈঠাধারীদের সন্ত্রাসী তাণ্ডবে এক রক্তাক্ত প্রান্তরে পরিণত হয়।

তিনি বলেন, ১৪ দলের সন্ত্রাসীদের হামলায় ঢাকাসহ সারা দেশে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ১৪ জন নেতাকর্মী শহীদ হন এবং আহত হন সহস্রাধিক নেতাকর্মী। শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশেই ১৪ দলের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। আওয়ামী সন্ত্রাসীরা মানুষ হত্যা করে মৃতদেহের ওপর নৃত্য করে বর্বর আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে- যা বিশ্ব গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত ও বিশ্ববাসীর কাছে অত্যন্ত নিন্দিত হয়। এই ঘটনা ছিল পূর্বপরিকল্পিত মানবতাবিরোধী গণহত্যা।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠাধারীদের গণহত্যা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। ওই দিনের ধারাবাহিকতায় তারা দেশে সন্ত্রাসী রাজনীতির সূচনা করে, যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। তখন থেকেই দেশকে রাজনীতি শূন্য করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকারসহ জনগণের সব অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, ২৮ অক্টোবরের নারকীয় গণহত্যার সঙ্গে জড়িত খুনিদের বিচারের জন্য সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন সরকার সেই মামলা প্রত্যাহার করে বিচারের পথ রুদ্ধ করে খুনিদের রক্ষা করে। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ তীব্র গণআন্দোলনের মুখে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত এবং নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই পটপরিবর্তনের ফলে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং অবিলম্বে ২৮ অক্টোবরের গণহত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। বাংলাদেশের জনগণের দাবি- অবিলম্বে ২৮ অক্টোবরের খুনিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা পুনরায় সচল করে তাদের গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

কর্মসূচি ঘোষণা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবিতে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার ঢাকা মহানগরীতে আলোচনা সভা। এতে সম্মানিত আমিরে জামায়াত প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। ২৮ অক্টোবর বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভ, আলোচনা সভা ও দোয়া।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

লগি-বৈঠার আঘাতে নিহতদের স্মরণ করলেন বিরোধীদলীয় নেতা

আপডেট সময় : ১০:২৮:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার নির্মম আঘাতে নিহতদের স্মরণ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তিনি নিহতের স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, ২০০৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যে চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট সারা দেশে লগি-বৈঠার তাণ্ডব সৃষ্টি করে। সেদিন বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে একটি জনসভার আয়োজন করা হয়। সকাল থেকে জনসভার স্টেজ নির্মাণের কাজ চলছিল। হঠাৎ ১৪ দলীয় জোটের সন্ত্রাসীরা গোটা পল্টন এলাকায় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের ওপর লগি-বৈঠা, লোহার রড ও বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

আমিরে জামায়াত আরও বলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শুরু হলে চারদিক থেকে ১৪ দলের সন্ত্রাসীরা গুলি করতে করতে জনসমাবেশের দিকে অগ্রসর হয়। সমাবেশের প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন আমিরে জামায়াত ও শিল্পমন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী (রহি.)। জনসভায় উপস্থিত জনগণ ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের ওপর আক্রমণ করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য। ওই দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পল্টন এলাকা লগি-বৈঠাধারীদের সন্ত্রাসী তাণ্ডবে এক রক্তাক্ত প্রান্তরে পরিণত হয়।

তিনি বলেন, ১৪ দলের সন্ত্রাসীদের হামলায় ঢাকাসহ সারা দেশে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ১৪ জন নেতাকর্মী শহীদ হন এবং আহত হন সহস্রাধিক নেতাকর্মী। শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশেই ১৪ দলের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। আওয়ামী সন্ত্রাসীরা মানুষ হত্যা করে মৃতদেহের ওপর নৃত্য করে বর্বর আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে- যা বিশ্ব গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত ও বিশ্ববাসীর কাছে অত্যন্ত নিন্দিত হয়। এই ঘটনা ছিল পূর্বপরিকল্পিত মানবতাবিরোধী গণহত্যা।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠাধারীদের গণহত্যা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। ওই দিনের ধারাবাহিকতায় তারা দেশে সন্ত্রাসী রাজনীতির সূচনা করে, যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। তখন থেকেই দেশকে রাজনীতি শূন্য করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকারসহ জনগণের সব অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, ২৮ অক্টোবরের নারকীয় গণহত্যার সঙ্গে জড়িত খুনিদের বিচারের জন্য সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন সরকার সেই মামলা প্রত্যাহার করে বিচারের পথ রুদ্ধ করে খুনিদের রক্ষা করে। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ তীব্র গণআন্দোলনের মুখে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত এবং নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই পটপরিবর্তনের ফলে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং অবিলম্বে ২৮ অক্টোবরের গণহত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। বাংলাদেশের জনগণের দাবি- অবিলম্বে ২৮ অক্টোবরের খুনিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা পুনরায় সচল করে তাদের গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

কর্মসূচি ঘোষণা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবিতে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার ঢাকা মহানগরীতে আলোচনা সভা। এতে সম্মানিত আমিরে জামায়াত প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। ২৮ অক্টোবর বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভ, আলোচনা সভা ও দোয়া।