ঢাকা ০৭:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মূল্যবোধভিত্তিক পেশাদারিত্বই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের স্তম্ভ: আনসার-ভিডিপি মহাপরিচালক Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

গোটা কাশ্মীরই যেন এক কারাগার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১৪:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অগাস্ট ২০১৯ ২২১ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পুরো কাশ্মীরই যেন এক কারাগারে পরিণত হয়েছে। সেখানকার বিভিন্ন হোটেল, গেস্ট হাউস, সরকারি এবং বেসরকারি ভবনগুলোকে অস্থায়ী কারাগার বানানো হয়েছে। বিভিন্ন রাজনীতিবিদ, উপদেষ্টা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাসহ এখন পর্যন্ত চার শতাধিক মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে চেন্তৌর, হারি নিবাস, ফরেস্ট গেস্ট হাউস এবং সরকারি ও বেসরকারি ভবনকে সহায়ক জেল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিকে হরি নিবাসের পৃথক দুটি কটেজে রাখা হয়েছে।

ড. ফারুক আব্দুল্লাহ এবং ৯১ বছর বয়সী বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা সৈয়দ আলি শাহ গিলানি ছাড়া বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ নেতাকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ফারুক আব্দুল্লাহ। ন্যাশনাল কনফারেন্সের এই নেতার অভিযোগ সরকার তাকে গৃহবন্দি করেছে। যদিও ভারত সরকারের তরফ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

সোমবার ভারত সরকার সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের ঘোষণা দেয়। ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা-সংক্রান্ত ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল হয়ে যাওয়ার পর থেকেই থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে এই পদক্ষেপের আগেই কাশ্মীরে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়।

চলমান অস্থিরতার মধ্যেই রোববার রাতে ভারত শাসিত জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এবং মেহবুবা মুফতিকে গৃহবন্দি করা হয়। এর ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই তাদের দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকেই একের পর এক নেতা, উপদেষ্টা, রাজনীতিবিদকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে, ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর কাশ্মীর কার্যত বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কিন্তু এর মধ্যেও বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে।

সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের আগে রোববার সন্ধ্যা থেকেই কাশ্মীরে টেলিফোন, মোবাইল এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে ভারতশাসিত কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগর এখন ক্রোধে ফেটে পড়েছে।

কাশ্মীরে ভেতরেও কেউ কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। তারা একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। সব কিছু মিলিয়েই পরিস্থিতি চরম সংকট তৈরি করেছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

সেখানে বিপুল সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং তারা সবকিছু যাচাই করছে। পরিচয়পত্র থেকে শুরু করে কে কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে – সবকিছু দেখা হচ্ছে। সব জায়গায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। তারা এখনো বুঝতে পারছে না যে, কী ঘটছে বা তাদের ভাগ্যে কী আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

গোটা কাশ্মীরই যেন এক কারাগার

আপডেট সময় : ১২:১৪:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অগাস্ট ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পুরো কাশ্মীরই যেন এক কারাগারে পরিণত হয়েছে। সেখানকার বিভিন্ন হোটেল, গেস্ট হাউস, সরকারি এবং বেসরকারি ভবনগুলোকে অস্থায়ী কারাগার বানানো হয়েছে। বিভিন্ন রাজনীতিবিদ, উপদেষ্টা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাসহ এখন পর্যন্ত চার শতাধিক মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে চেন্তৌর, হারি নিবাস, ফরেস্ট গেস্ট হাউস এবং সরকারি ও বেসরকারি ভবনকে সহায়ক জেল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিকে হরি নিবাসের পৃথক দুটি কটেজে রাখা হয়েছে।

ড. ফারুক আব্দুল্লাহ এবং ৯১ বছর বয়সী বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা সৈয়দ আলি শাহ গিলানি ছাড়া বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ নেতাকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ফারুক আব্দুল্লাহ। ন্যাশনাল কনফারেন্সের এই নেতার অভিযোগ সরকার তাকে গৃহবন্দি করেছে। যদিও ভারত সরকারের তরফ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

সোমবার ভারত সরকার সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের ঘোষণা দেয়। ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা-সংক্রান্ত ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল হয়ে যাওয়ার পর থেকেই থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে এই পদক্ষেপের আগেই কাশ্মীরে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়।

চলমান অস্থিরতার মধ্যেই রোববার রাতে ভারত শাসিত জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এবং মেহবুবা মুফতিকে গৃহবন্দি করা হয়। এর ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই তাদের দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকেই একের পর এক নেতা, উপদেষ্টা, রাজনীতিবিদকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে, ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর কাশ্মীর কার্যত বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কিন্তু এর মধ্যেও বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে।

সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের আগে রোববার সন্ধ্যা থেকেই কাশ্মীরে টেলিফোন, মোবাইল এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে ভারতশাসিত কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগর এখন ক্রোধে ফেটে পড়েছে।

কাশ্মীরে ভেতরেও কেউ কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। তারা একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। সব কিছু মিলিয়েই পরিস্থিতি চরম সংকট তৈরি করেছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

সেখানে বিপুল সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং তারা সবকিছু যাচাই করছে। পরিচয়পত্র থেকে শুরু করে কে কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে – সবকিছু দেখা হচ্ছে। সব জায়গায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। তারা এখনো বুঝতে পারছে না যে, কী ঘটছে বা তাদের ভাগ্যে কী আছে।