ঢাকা ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল  Logo ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন: কর্মীরা পাবেন নিজ জেলায় কাজের সুযোগ Logo তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার Logo সিডিবিএল চালু করবে মোবাইল অ্যাপ Logo দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না : রিজভী Logo গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম Logo ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ফের মা হতে চলেছেন কিয়ারা Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : হানিফসহ ৪ আ. লীগ নেতার রায় যেকোনো দিন

আজিমপুর গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল হালিমের সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্য || কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪০:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬ ২৭৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: গণপূর্ত অধিদপ্তরের আজিমপুর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল হালিমের বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি, কমিশন বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব সুনির্দিষ্ট অনিয়মের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। দুদকের প্রধান কার্যালয়ে চেয়ারম্যান বরাবর এই অভিযোগ জমা পড়ে।

দুদকে দেওয়া অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, আজিমপুর বিভাগে ঠিকাদারদের প্রায় প্রতিটি ফাইলে স্বাক্ষর করার বিপরীতে ফয়সাল হালিমকে বাধ্যতামূলকভাবে ১০ শতাংশ (১০%) কমিশন দিতে হয়। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে লিমিটেড টেন্ডারিং মেথড (LTM) পদ্ধতিতে ১১০টি দরপত্র আহ্বান করেন তিনি। নিয়ম অনুযায়ী এই পদ্ধতিতে উন্মুক্ত অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও, নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি দরপত্রে মাত্র ৩ থেকে ৪ জন পছন্দের ঠিকাদারকে দিয়ে অংশ নেওয়া নিশ্চিত করেন তিনি, যাতে তাঁর সুবিধাভোগী চক্রটিই কাজ পায়। এই কৌশলের বিনিময়ে তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন গ্রহণ করেছেন। যেখানে গণপূর্তের অন্যান্য বিভাগে এলটিএম পদ্ধতির দরপত্রগুলোতে গড়ে ১০০ জনের বেশি ঠিকাদার অংশগ্রহণ করেন, সেখানে আজিমপুর বিভাগে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। উপরন্তু, কমিশন না দেওয়া সাধারণ ঠিকাদারদের ফাইলে স্বাক্ষর না করার ভয় দেখিয়ে দরপত্রে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করার অভিযোগও রয়েছে এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, আজিমপুর কলোনির নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় পুরাতন ভবনের সার্ভে রিপোর্ট তৈরির নামে বড় ধরনের জালিয়াতি করেছেন ফয়সাল হালিম। সরকারি নিয়মকে তোয়াক্কা না করে নামমাত্র মূল্যে সার্ভে রিপোর্ট দেখিয়ে কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নামমাত্র মূল্যে নিলাম ডেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এছাড়া, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে আরএফকিউ (RFQ) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা এবং চলমান ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে আরও ২০ লাখ টাকা—সব মিলিয়ে মোট ৪০ লাখ টাকা কোনো কাজ না করেই ভুয়া ভাউচারে আত্মসাৎ করার অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

আর্থিক দুর্নীতির পাশাপাশি ফয়সাল হালিমের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গেরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, বিগত সরকারের সময় তিনি নিজেকে শেখ রেহানার গুলশানের বাড়ির ডিজাইনার হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটাতেন। তবে পটপরিবর্তনের পর তিনি বিদেশ থেকে ফিরে এসে ভোল পাল্টে ফেলেন। নিজের অনৈতিক সুবিধা বজায় রাখতে এবং প্রশাসনকে চাপে রাখতে গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে বহিরাগতদের নিয়ে ‘মব’ বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল হালিমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

আজিমপুর গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল হালিমের সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্য || কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ 

আপডেট সময় : ১১:৪০:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: গণপূর্ত অধিদপ্তরের আজিমপুর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল হালিমের বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি, কমিশন বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব সুনির্দিষ্ট অনিয়মের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। দুদকের প্রধান কার্যালয়ে চেয়ারম্যান বরাবর এই অভিযোগ জমা পড়ে।

দুদকে দেওয়া অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, আজিমপুর বিভাগে ঠিকাদারদের প্রায় প্রতিটি ফাইলে স্বাক্ষর করার বিপরীতে ফয়সাল হালিমকে বাধ্যতামূলকভাবে ১০ শতাংশ (১০%) কমিশন দিতে হয়। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে লিমিটেড টেন্ডারিং মেথড (LTM) পদ্ধতিতে ১১০টি দরপত্র আহ্বান করেন তিনি। নিয়ম অনুযায়ী এই পদ্ধতিতে উন্মুক্ত অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও, নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি দরপত্রে মাত্র ৩ থেকে ৪ জন পছন্দের ঠিকাদারকে দিয়ে অংশ নেওয়া নিশ্চিত করেন তিনি, যাতে তাঁর সুবিধাভোগী চক্রটিই কাজ পায়। এই কৌশলের বিনিময়ে তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন গ্রহণ করেছেন। যেখানে গণপূর্তের অন্যান্য বিভাগে এলটিএম পদ্ধতির দরপত্রগুলোতে গড়ে ১০০ জনের বেশি ঠিকাদার অংশগ্রহণ করেন, সেখানে আজিমপুর বিভাগে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। উপরন্তু, কমিশন না দেওয়া সাধারণ ঠিকাদারদের ফাইলে স্বাক্ষর না করার ভয় দেখিয়ে দরপত্রে অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করার অভিযোগও রয়েছে এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, আজিমপুর কলোনির নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় পুরাতন ভবনের সার্ভে রিপোর্ট তৈরির নামে বড় ধরনের জালিয়াতি করেছেন ফয়সাল হালিম। সরকারি নিয়মকে তোয়াক্কা না করে নামমাত্র মূল্যে সার্ভে রিপোর্ট দেখিয়ে কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নামমাত্র মূল্যে নিলাম ডেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এছাড়া, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে আরএফকিউ (RFQ) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০ লাখ টাকা এবং চলমান ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে আরও ২০ লাখ টাকা—সব মিলিয়ে মোট ৪০ লাখ টাকা কোনো কাজ না করেই ভুয়া ভাউচারে আত্মসাৎ করার অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

আর্থিক দুর্নীতির পাশাপাশি ফয়সাল হালিমের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গেরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, বিগত সরকারের সময় তিনি নিজেকে শেখ রেহানার গুলশানের বাড়ির ডিজাইনার হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটাতেন। তবে পটপরিবর্তনের পর তিনি বিদেশ থেকে ফিরে এসে ভোল পাল্টে ফেলেন। নিজের অনৈতিক সুবিধা বজায় রাখতে এবং প্রশাসনকে চাপে রাখতে গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে বহিরাগতদের নিয়ে ‘মব’ বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল হালিমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।