ঢাকা ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

আজিমপুর গণপূর্তে ফয়সাল কামিয়াবের কমিশন রাজত্ব

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ ২৮০ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগকে ঘিরে টেন্ডার বাণিজ্য, কমিশন লেনদেন এবং সরকারি সম্পদ বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল হালিম এবং তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী তাওহীদ কামিয়াব।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, ঠিকাদারদের বিল প্রক্রিয়াকরণ এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে তাওহীদ কামিয়াবের প্রভাব উল্লেখযোগ্য। অনেক ঠিকাদারের অভিযোগ, কাজের বরাদ্দ ও বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের চাপ সৃষ্টি করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে সুবিধা দিতে টেন্ডারের শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়, যাতে প্রকৃত প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হয়। এতে সরকারের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।

এছাড়া সরকারি পুরাতন মালামাল ও পরিত্যক্ত সম্পত্তি বিক্রিতেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে এসব সম্পদ বিক্রি করে একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, ফলে রাষ্ট্র হারিয়েছে সম্ভাব্য রাজস্ব।

বিভাগের অভ্যন্তরে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ হলো, বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করেন তাওহীদ কামিয়াব। একাধিক সূত্রের ভাষ্য, নির্বাহী প্রকৌশলীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তিনি ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন। এ কারণেই অনেকের কাছে তিনি পরিচিত ‘অঘোষিত ক্যাশিয়ার’ হিসেবে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। সুশাসন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তা শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ও দুর্নীতির শামিল হবে। তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুদক ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

error: Content is protected !!

আজিমপুর গণপূর্তে ফয়সাল কামিয়াবের কমিশন রাজত্ব

আপডেট সময় : ১২:৪৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগকে ঘিরে টেন্ডার বাণিজ্য, কমিশন লেনদেন এবং সরকারি সম্পদ বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল হালিম এবং তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী তাওহীদ কামিয়াব।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, ঠিকাদারদের বিল প্রক্রিয়াকরণ এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে তাওহীদ কামিয়াবের প্রভাব উল্লেখযোগ্য। অনেক ঠিকাদারের অভিযোগ, কাজের বরাদ্দ ও বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের চাপ সৃষ্টি করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে সুবিধা দিতে টেন্ডারের শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়, যাতে প্রকৃত প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হয়। এতে সরকারের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা।

এছাড়া সরকারি পুরাতন মালামাল ও পরিত্যক্ত সম্পত্তি বিক্রিতেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে এসব সম্পদ বিক্রি করে একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, ফলে রাষ্ট্র হারিয়েছে সম্ভাব্য রাজস্ব।

বিভাগের অভ্যন্তরে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ হলো, বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করেন তাওহীদ কামিয়াব। একাধিক সূত্রের ভাষ্য, নির্বাহী প্রকৌশলীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তিনি ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন। এ কারণেই অনেকের কাছে তিনি পরিচিত ‘অঘোষিত ক্যাশিয়ার’ হিসেবে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। সুশাসন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তা শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ও দুর্নীতির শামিল হবে। তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুদক ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।