ঢাকা ০৪:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

আজিমপুর গণপূর্তে উপ-সহকারী প্রকৌশলীর কোটি টাকার ফ্ল্যাট ও সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৭:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২০৩ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর আজিমপুর গণপূর্ত উপ বিভাগ-১–এ কর্মরত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো: ওমর ফারুক–এর বিরুদ্ধে আয়-সম্পদের অসামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যেই তিনি রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পশ্চিম ধানমন্ডির জাফরাবাদ এলাকায় বাসা নম্বর ২৭২, ফ্ল্যাট নম্বর সি-৫–এ একটি আলিশান অ্যাপার্টমেন্টের সন্ধান পাওয়া গেছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য কোটি টাকার বেশি। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফ্ল্যাটটি সম্প্রতি সংস্কারও করা হয়েছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী, দশম গ্রেডের একজন কর্মকর্তার মূল বেতন ১৬ হাজার থেকে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। সে হিসেবে একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলীর পক্ষে ধানমন্ডির মতো অভিজাত এলাকায় এমন উচ্চমূল্যের সম্পদ কেনা কীভাবে সম্ভব—তা নিয়ে সহকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, একজন দশম গ্রেডের কর্মকর্তা যদি রাজধানীর অন্যতম দামী এলাকায় ফ্ল্যাট কিনতে পারেন, তাহলে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব কেমন—সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, ২০১৮ সাল থেকে ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মো: ওমর ফারুককে পাঁচবার বদলি করা হয়। পরে শেরেবাংলা নগর থেকে আজিমপুরে বদলি হয়ে এসে তিনি এখনও একই দপ্তরে কর্মরত আছেন। ঘন ঘন বদলির পেছনে প্রশাসনিক কারণ নাকি অন্য কোনো বিষয় ছিল—তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, অফিসে তার উপস্থিতি নিয়মিত নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, প্রয়োজন ছাড়া তিনি অফিসে আসেন না। দাপ্তরিক কার্যক্রমে অনেক সময় বিলম্ব হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আজিমপুর গণপূর্তের উপ বিভাগ-১–এর কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সচেতন মহল। তাদের দাবি, একজন সরকারি কর্মকর্তার আয়-সম্পদের হিসাব যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে পুরো বিভাগেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

আজিমপুর গণপূর্তে উপ-সহকারী প্রকৌশলীর কোটি টাকার ফ্ল্যাট ও সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০১:৫৭:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর আজিমপুর গণপূর্ত উপ বিভাগ-১–এ কর্মরত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো: ওমর ফারুক–এর বিরুদ্ধে আয়-সম্পদের অসামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যেই তিনি রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পশ্চিম ধানমন্ডির জাফরাবাদ এলাকায় বাসা নম্বর ২৭২, ফ্ল্যাট নম্বর সি-৫–এ একটি আলিশান অ্যাপার্টমেন্টের সন্ধান পাওয়া গেছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য কোটি টাকার বেশি। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফ্ল্যাটটি সম্প্রতি সংস্কারও করা হয়েছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী, দশম গ্রেডের একজন কর্মকর্তার মূল বেতন ১৬ হাজার থেকে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। সে হিসেবে একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলীর পক্ষে ধানমন্ডির মতো অভিজাত এলাকায় এমন উচ্চমূল্যের সম্পদ কেনা কীভাবে সম্ভব—তা নিয়ে সহকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, একজন দশম গ্রেডের কর্মকর্তা যদি রাজধানীর অন্যতম দামী এলাকায় ফ্ল্যাট কিনতে পারেন, তাহলে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব কেমন—সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, ২০১৮ সাল থেকে ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মো: ওমর ফারুককে পাঁচবার বদলি করা হয়। পরে শেরেবাংলা নগর থেকে আজিমপুরে বদলি হয়ে এসে তিনি এখনও একই দপ্তরে কর্মরত আছেন। ঘন ঘন বদলির পেছনে প্রশাসনিক কারণ নাকি অন্য কোনো বিষয় ছিল—তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, অফিসে তার উপস্থিতি নিয়মিত নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, প্রয়োজন ছাড়া তিনি অফিসে আসেন না। দাপ্তরিক কার্যক্রমে অনেক সময় বিলম্ব হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আজিমপুর গণপূর্তের উপ বিভাগ-১–এর কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সচেতন মহল। তাদের দাবি, একজন সরকারি কর্মকর্তার আয়-সম্পদের হিসাব যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে পুরো বিভাগেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।