ঢাকা ০৪:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মুনতাসির মামুনের বিরুদ্ধে টেন্ডার কারসাজি ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৫:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩১৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক॥

বাংলাদেশ সচিবালয়ের গণপূর্ত ইডেন বিভাগের কাজ বণ্টনকে কেন্দ্র করে নির্বাহী প্রকৌশলী মুনতাসির মামুনের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ঠিকাদার। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে পর্যালোচিত নথি, টেন্ডার কপি, বিল ভাউচার ও কাজ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কাগজপত্রে একই প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক কাজ পাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। একাধিক ঠিকাদারের দাবি, ও ২০ শতাংশ কমিশনের মাধ্যমে কাজ বণ্টন করেছেন এই প্রকৌশলী।

অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সময়কালে ‘মাছরাঙ্গা’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শত শত কাজ বাগিয়ে নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও একটি প্রভাবশালী সচিবের সহায়তায় একই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আউটসোর্সিং কাজ আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঠিকাদারদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কাজের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন পেয়েছেন।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ, বৈদ্যুতিক মেরামত, অভ্যন্তরীণ সজ্জা এবং আউটসোর্সিং জনবল সরবরাহ সংক্রান্ত একাধিক কাজ একই ঠিকাদারি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। কাজের প্রকৃতি ভিন্ন হলেও নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পুনরাবৃত্ত উপস্থিতি প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এছাড়াও একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অনুসারীদের তদবিরে বিগত এক বছরে অসংখ্য কাজ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন একাধিক ঠিকাদার।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু দরপত্রে এমন যোগ্যতার শর্ত যুক্ত করা হয়েছে যা সীমিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যদের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়। টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, প্রি-বিড মিটিং ও কারিগরি মূল্যায়ন ধাপে অস্বচ্ছতা ছিল বলেও অভিযোগ করেন ঠিকাদাররা।

কিছু ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন দরদাতাকে টেকনিক্যাল কারণ দেখিয়ে বাদ দেওয়া হয়েছে। আবার ঘনিষ্ঠ মূল্যের একাধিক কোটেশন জমা পড়ার ঘটনাও দেখা গেছে, যা সমন্বিত দরপত্রের সন্দেহ তৈরি করে। অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, কাজের পরিমাণ নির্ধারণ ও অনুমোদনের পর্যায়েই কমিশন বোঝাপড়া সম্পন্ন হতো এবং টেন্ডার ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যুক্ত একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, প্রতিটি কাজের মোট বিলের একটি অংশ কমিশন হিসেবে নির্ধারিত থাকত। বিল উত্তোলনের আগে পরিমাপ বইয়ে অতিরিক্ত কাজ দেখানো, অতিরিক্ত রেট প্রয়োগ করার কথাও বলেন তারা।

আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা। জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন, কর্মীর প্রকৃত সংখ্যা, বেতন-ভাতা পরিশোধ ও উপস্থিতির হিসাব নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের কথাও বলেন তারা। আরও অভিযোগ করেন, বাস্তবে কম জনবল দিয়ে কাগজে বেশি দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের আমল থেকে গত কয়েক বছরে সচিবালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকল্পে একই ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। প্রশাসনিক প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে এ নেটওয়ার্ক সক্রিয় রাখা হয়েছে এবং কাজের সময়সীমা বাড়িয়ে অতিরিক্ত ব্যয় অনুমোদনের ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, টেন্ডার আহ্বান, কারিগরি মূল্যায়ন, বিল অনুমোদন ও তদারকি—এই চার স্তরেই যদি প্রভাববলয় সক্রিয় থাকে, তবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা সরকারি অর্থের অপচয় এবং প্রশাসনিক বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।

এসব প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকান্ডে দুর্নীতি ঠেকাতে কারিগরি বিশেষজ্ঞরা স্বাধীন অডিট, তৃতীয় পক্ষের মান যাচাই এবং সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও ট্র্যাকযোগ্য টেন্ডার ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পদ বিবরণী যাচাই ও কমিশন লেনদেনের আর্থিক অনুসন্ধানের দাবিও উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মুনতাসির মামুন বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।

পরবর্তি পর্বে সকলের বক্তব্য সহ বিস্তারিত তুলে ধরা হবে…

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মুনতাসির মামুনের বিরুদ্ধে টেন্ডার কারসাজি ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৯:২৫:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক॥

বাংলাদেশ সচিবালয়ের গণপূর্ত ইডেন বিভাগের কাজ বণ্টনকে কেন্দ্র করে নির্বাহী প্রকৌশলী মুনতাসির মামুনের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ঠিকাদার। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে পর্যালোচিত নথি, টেন্ডার কপি, বিল ভাউচার ও কাজ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কাগজপত্রে একই প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক কাজ পাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। একাধিক ঠিকাদারের দাবি, ও ২০ শতাংশ কমিশনের মাধ্যমে কাজ বণ্টন করেছেন এই প্রকৌশলী।

অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সময়কালে ‘মাছরাঙ্গা’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শত শত কাজ বাগিয়ে নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও একটি প্রভাবশালী সচিবের সহায়তায় একই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আউটসোর্সিং কাজ আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঠিকাদারদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কাজের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন পেয়েছেন।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ, বৈদ্যুতিক মেরামত, অভ্যন্তরীণ সজ্জা এবং আউটসোর্সিং জনবল সরবরাহ সংক্রান্ত একাধিক কাজ একই ঠিকাদারি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। কাজের প্রকৃতি ভিন্ন হলেও নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পুনরাবৃত্ত উপস্থিতি প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এছাড়াও একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অনুসারীদের তদবিরে বিগত এক বছরে অসংখ্য কাজ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন একাধিক ঠিকাদার।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু দরপত্রে এমন যোগ্যতার শর্ত যুক্ত করা হয়েছে যা সীমিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যদের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়। টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, প্রি-বিড মিটিং ও কারিগরি মূল্যায়ন ধাপে অস্বচ্ছতা ছিল বলেও অভিযোগ করেন ঠিকাদাররা।

কিছু ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন দরদাতাকে টেকনিক্যাল কারণ দেখিয়ে বাদ দেওয়া হয়েছে। আবার ঘনিষ্ঠ মূল্যের একাধিক কোটেশন জমা পড়ার ঘটনাও দেখা গেছে, যা সমন্বিত দরপত্রের সন্দেহ তৈরি করে। অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, কাজের পরিমাণ নির্ধারণ ও অনুমোদনের পর্যায়েই কমিশন বোঝাপড়া সম্পন্ন হতো এবং টেন্ডার ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যুক্ত একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, প্রতিটি কাজের মোট বিলের একটি অংশ কমিশন হিসেবে নির্ধারিত থাকত। বিল উত্তোলনের আগে পরিমাপ বইয়ে অতিরিক্ত কাজ দেখানো, অতিরিক্ত রেট প্রয়োগ করার কথাও বলেন তারা।

আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা। জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন, কর্মীর প্রকৃত সংখ্যা, বেতন-ভাতা পরিশোধ ও উপস্থিতির হিসাব নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের কথাও বলেন তারা। আরও অভিযোগ করেন, বাস্তবে কম জনবল দিয়ে কাগজে বেশি দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের আমল থেকে গত কয়েক বছরে সচিবালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকল্পে একই ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি। প্রশাসনিক প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে এ নেটওয়ার্ক সক্রিয় রাখা হয়েছে এবং কাজের সময়সীমা বাড়িয়ে অতিরিক্ত ব্যয় অনুমোদনের ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, টেন্ডার আহ্বান, কারিগরি মূল্যায়ন, বিল অনুমোদন ও তদারকি—এই চার স্তরেই যদি প্রভাববলয় সক্রিয় থাকে, তবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা সরকারি অর্থের অপচয় এবং প্রশাসনিক বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।

এসব প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকান্ডে দুর্নীতি ঠেকাতে কারিগরি বিশেষজ্ঞরা স্বাধীন অডিট, তৃতীয় পক্ষের মান যাচাই এবং সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও ট্র্যাকযোগ্য টেন্ডার ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পদ বিবরণী যাচাই ও কমিশন লেনদেনের আর্থিক অনুসন্ধানের দাবিও উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মুনতাসির মামুন বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।

পরবর্তি পর্বে সকলের বক্তব্য সহ বিস্তারিত তুলে ধরা হবে…