ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল  Logo ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন: কর্মীরা পাবেন নিজ জেলায় কাজের সুযোগ Logo তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার Logo সিডিবিএল চালু করবে মোবাইল অ্যাপ Logo দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না : রিজভী Logo গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম Logo ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ফের মা হতে চলেছেন কিয়ারা Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : হানিফসহ ৪ আ. লীগ নেতার রায় যেকোনো দিন

প্রকল্প বণ্টনে অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগে গণপূর্ত সচিব নজরুলকে নিয়ে বিতর্কের ঝড়!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২০:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩০২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক’ ঢাকা:
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়–এর সচিব মো. নজরুল ইসলামকে ঘিরে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, প্রকল্প বণ্টনে প্রভাব খাটানো এবং দলীয় ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের নিয়মবহির্ভূত সুবিধা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত দেড় বছরে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সচিব নজরুল ইসলাম অতীতে জামায়াত-শিবির ঘরানার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিগত ডাকসু নির্বাচনে সাদিক কায়েম নামের এক প্রার্থীর পক্ষে বড় অংকের অর্থ সহায়তা দিয়েছেন বলেও আলোচনা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পায়নি, তবু তাকে নিয়ে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে ঘোর বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এছাড়াও তার সময়ে দরপত্র প্রক্রিয়া ঘিরে অভিযোগ আরও বিস্তৃত। একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে নিজ দলের সমর্থিত নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

টেন্ডার শর্ত ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে প্রভাবশালী ও ঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধা পায়—এমন অভিযোগও সামনে এসেছে।

গত দেড় বছরে আওয়ামী ঘরানার ঠিকাদারদের পাশাপাশি জামায়াতপন্থী বিভিন্ন ঠিকাদারকেও বিশেষ সুবিধায় কাজ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি উঠেছে। এতে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে একটি প্রভাববলয় তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা তৈরি হয়েছে।

সচিবের নিজ এলাকা কুমিল্লায় প্রায় ১৪টি প্রকল্পে নিয়মবহির্ভূতভাবে কাজ বণ্টনের অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন ও সরকারি ভবন নির্মাণ কাজ অন্তর্ভুক্ত বলে জানা গেছে। প্রকল্প নির্বাচন, অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সদ্য অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার নিজ আসনে জামাতের প্রার্থীকে বিজয় করতে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়েছেন বলে স্থানীয়দের মধ্যে অভিযোগ উঠেছে। নিজের প্রভাব বিস্তার করে স্থানীয় প্রশাসনকে জামায়াতপন্থী প্রার্থীকে বিজয়ী করতে তিনি ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছেন।

দপ্তর-সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মহলে অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বণ্টনে নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার চেয়ে ব্যক্তিগত প্রভাব বেশি কার্যকর হয়েছে। এতে প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে সচিবের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ঠ বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হলে অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন পদ্ধতি, দরপত্র প্রক্রিয়া এবং নির্দিষ্ট অঞ্চলে প্রকল্প কেন্দ্রীভূত হওয়ার বিষয়গুলো এখন তদন্তের আওতায় আনা দরকার বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

প্রকল্প বণ্টনে অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগে গণপূর্ত সচিব নজরুলকে নিয়ে বিতর্কের ঝড়!

আপডেট সময় : ১১:২০:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক’ ঢাকা:
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়–এর সচিব মো. নজরুল ইসলামকে ঘিরে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, প্রকল্প বণ্টনে প্রভাব খাটানো এবং দলীয় ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের নিয়মবহির্ভূত সুবিধা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত দেড় বছরে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সচিব নজরুল ইসলাম অতীতে জামায়াত-শিবির ঘরানার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিগত ডাকসু নির্বাচনে সাদিক কায়েম নামের এক প্রার্থীর পক্ষে বড় অংকের অর্থ সহায়তা দিয়েছেন বলেও আলোচনা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পায়নি, তবু তাকে নিয়ে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে ঘোর বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এছাড়াও তার সময়ে দরপত্র প্রক্রিয়া ঘিরে অভিযোগ আরও বিস্তৃত। একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে নিজ দলের সমর্থিত নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

টেন্ডার শর্ত ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে প্রভাবশালী ও ঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধা পায়—এমন অভিযোগও সামনে এসেছে।

গত দেড় বছরে আওয়ামী ঘরানার ঠিকাদারদের পাশাপাশি জামায়াতপন্থী বিভিন্ন ঠিকাদারকেও বিশেষ সুবিধায় কাজ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি উঠেছে। এতে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে একটি প্রভাববলয় তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা তৈরি হয়েছে।

সচিবের নিজ এলাকা কুমিল্লায় প্রায় ১৪টি প্রকল্পে নিয়মবহির্ভূতভাবে কাজ বণ্টনের অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন ও সরকারি ভবন নির্মাণ কাজ অন্তর্ভুক্ত বলে জানা গেছে। প্রকল্প নির্বাচন, অনুমোদন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সদ্য অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার নিজ আসনে জামাতের প্রার্থীকে বিজয় করতে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়েছেন বলে স্থানীয়দের মধ্যে অভিযোগ উঠেছে। নিজের প্রভাব বিস্তার করে স্থানীয় প্রশাসনকে জামায়াতপন্থী প্রার্থীকে বিজয়ী করতে তিনি ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছেন।

দপ্তর-সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মহলে অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বণ্টনে নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার চেয়ে ব্যক্তিগত প্রভাব বেশি কার্যকর হয়েছে। এতে প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে সচিবের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ঠ বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হলে অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন পদ্ধতি, দরপত্র প্রক্রিয়া এবং নির্দিষ্ট অঞ্চলে প্রকল্প কেন্দ্রীভূত হওয়ার বিষয়গুলো এখন তদন্তের আওতায় আনা দরকার বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।