ঢাকা ০৯:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে ঘিরে সমালোচনার ঝড়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৫:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৪১ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (EED)-এর প্রধান প্রকৌশলী মোঃ তারেক আনোয়ার জাহেদী’র নিয়োগ পদ্ধতিকে ঘিরে দপ্তরের ভেতরে ও বাইরে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, কোনো উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক মূল্যায়ন বা স্বচ্ছ যাচাই ছাড়াই তাকে চলতি দায়িত্বের মাধ্যমে শীর্ষ পদে বসানো হয়েছে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের জন্য স্পষ্টতই প্রশ্নবিদ্ধ। চেয়ারে বসার পর থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তরে তার পছন্দের ঠিকাদাররা ফুলের তোড়া নিয়ে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলি ঠিকাদারদের লাইন পড়ে যায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভবনের নিচে।

সূত্র মতে, এই নিয়োগ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভেতরে গড়ে ওঠা একটি প্রভাববলয়ের ধারাবাহিক ফল। ওই সময়ে মোঃ তারেক আনোয়ার জাহেদী একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়িত্ব ও প্রভাব
দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ও সার্কেলে দায়িত্ব পালন করেন। মাঠপর্যায়ের প্রকল্প তদারকি থেকে শুরু করে বড় অঙ্কের অবকাঠামো প্রকল্পের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সর্বশেষ তিনি রংপুর সার্কেলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়েই তার বিরুদ্ধে প্রথম দফায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘুরতে থাকে বলে দপ্তরসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

রংপুর সার্কেলে থাকাকালীন দুর্নীতির অভিযোগ
রংপুর সার্কেলে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের মধ্যে ছিল প্রকল্প অনুমোদনে প্রভাব খাটানো, নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়া, কাজের গুণগত মান উপেক্ষা করে বিল ছাড় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাব। এসব অভিযোগ তখন দপ্তরের ভেতরে আলোচনার জন্ম দিলেও পূর্ণাঙ্গ ও দৃশ্যমান তদন্তে সেগুলো কখনোই গড়ায়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

অনেকের মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগ পর্যন্ত তিনি এতটাই প্রভাবশালী ছিল যে তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস করেনি। কোন অভিযোগ কার্যকরভাবে সামনে আসেনি, যা দেশের প্রশাসনিক সুরক্ষা ও প্রভাবের প্রশ্নকে আরও জোরালো করে।

ঠিকাদার সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজকের অভিযোগ
সমালোচক মহলের আরও অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাবশালী কিছু দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার ও সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তাদের দাবি, এই যোগসাজকের কারণেই তিনি বারবার গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকতে সক্ষম হন এবং শেষ পর্যন্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ফুলের তোড়া নিয়ে সুবিধাভোগী ঠিকাদারদের লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

এই অভিযোগগুলো প্রমাণিত না হলেও, একই ধরনের অভিযোগ বারবার উঠে আসা এবং সেগুলোর কোনো দৃশ্যমান নিষ্পত্তি না হওয়া দপ্তরের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতো সংবেদনশীল ও বাজেটনির্ভর দপ্তরের শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা, অভিজ্ঞতা, স্বচ্ছ মূল্যায়ন ও প্রতিযোগিতামূলক বিবেচনা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হওয়া জরুরি। কিন্তু বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সেই ব্যাখ্যা বা মানদণ্ড প্রকাশ্যে নেই।

চলতি দায়িত্বের নামে দীর্ঘমেয়াদি কর্তৃত্ব প্রদান প্রশাসনিক শুদ্ধাচারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মত দিয়েছেন অনেকে। তাদের মতে, এটি একটি অসুস্থ দৃষ্টান্ত তৈরি করছে, যেখানে জবাবদিহির চেয়ে আনুগত্য ও প্রভাব বড় হয়ে উঠছে।

সব মিলিয়ে মোঃ তারেক আনোয়ার জাহেদী’র নিয়োগ আইনগতভাবে প্রজ্ঞাপনভিত্তিক হলেও, তার অতীত দায়িত্বকাল, রংপুর সার্কেলকেন্দ্রিক অভিযোগ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা মিলিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগগুলো কেন কখনো কার্যকর তদন্তে রূপ নেয়নি, চলতি দায়িত্বের মাধ্যমে কেন শীর্ষ পদে স্থায়ী ক্ষমতা দেওয়া হলো এবং শিক্ষা খাতের অবকাঠামো উন্নয়নে এর প্রভাব কী হবে—এসব প্রশ্নের পরিষ্কার জবাব না এলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থার সংকট আরও গভীর হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

বিস্তারিত থাকছে পরবর্তী পর্বে….

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে ঘিরে সমালোচনার ঝড়

আপডেট সময় : ০৪:০৫:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (EED)-এর প্রধান প্রকৌশলী মোঃ তারেক আনোয়ার জাহেদী’র নিয়োগ পদ্ধতিকে ঘিরে দপ্তরের ভেতরে ও বাইরে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, কোনো উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক মূল্যায়ন বা স্বচ্ছ যাচাই ছাড়াই তাকে চলতি দায়িত্বের মাধ্যমে শীর্ষ পদে বসানো হয়েছে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের জন্য স্পষ্টতই প্রশ্নবিদ্ধ। চেয়ারে বসার পর থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তরে তার পছন্দের ঠিকাদাররা ফুলের তোড়া নিয়ে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলি ঠিকাদারদের লাইন পড়ে যায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভবনের নিচে।

সূত্র মতে, এই নিয়োগ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভেতরে গড়ে ওঠা একটি প্রভাববলয়ের ধারাবাহিক ফল। ওই সময়ে মোঃ তারেক আনোয়ার জাহেদী একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়িত্ব ও প্রভাব
দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ও সার্কেলে দায়িত্ব পালন করেন। মাঠপর্যায়ের প্রকল্প তদারকি থেকে শুরু করে বড় অঙ্কের অবকাঠামো প্রকল্পের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সর্বশেষ তিনি রংপুর সার্কেলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়েই তার বিরুদ্ধে প্রথম দফায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘুরতে থাকে বলে দপ্তরসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

রংপুর সার্কেলে থাকাকালীন দুর্নীতির অভিযোগ
রংপুর সার্কেলে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের মধ্যে ছিল প্রকল্প অনুমোদনে প্রভাব খাটানো, নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়া, কাজের গুণগত মান উপেক্ষা করে বিল ছাড় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাব। এসব অভিযোগ তখন দপ্তরের ভেতরে আলোচনার জন্ম দিলেও পূর্ণাঙ্গ ও দৃশ্যমান তদন্তে সেগুলো কখনোই গড়ায়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

অনেকের মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগ পর্যন্ত তিনি এতটাই প্রভাবশালী ছিল যে তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস করেনি। কোন অভিযোগ কার্যকরভাবে সামনে আসেনি, যা দেশের প্রশাসনিক সুরক্ষা ও প্রভাবের প্রশ্নকে আরও জোরালো করে।

ঠিকাদার সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজকের অভিযোগ
সমালোচক মহলের আরও অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাবশালী কিছু দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার ও সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তাদের দাবি, এই যোগসাজকের কারণেই তিনি বারবার গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকতে সক্ষম হন এবং শেষ পর্যন্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ফুলের তোড়া নিয়ে সুবিধাভোগী ঠিকাদারদের লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

এই অভিযোগগুলো প্রমাণিত না হলেও, একই ধরনের অভিযোগ বারবার উঠে আসা এবং সেগুলোর কোনো দৃশ্যমান নিষ্পত্তি না হওয়া দপ্তরের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতো সংবেদনশীল ও বাজেটনির্ভর দপ্তরের শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা, অভিজ্ঞতা, স্বচ্ছ মূল্যায়ন ও প্রতিযোগিতামূলক বিবেচনা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হওয়া জরুরি। কিন্তু বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সেই ব্যাখ্যা বা মানদণ্ড প্রকাশ্যে নেই।

চলতি দায়িত্বের নামে দীর্ঘমেয়াদি কর্তৃত্ব প্রদান প্রশাসনিক শুদ্ধাচারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মত দিয়েছেন অনেকে। তাদের মতে, এটি একটি অসুস্থ দৃষ্টান্ত তৈরি করছে, যেখানে জবাবদিহির চেয়ে আনুগত্য ও প্রভাব বড় হয়ে উঠছে।

সব মিলিয়ে মোঃ তারেক আনোয়ার জাহেদী’র নিয়োগ আইনগতভাবে প্রজ্ঞাপনভিত্তিক হলেও, তার অতীত দায়িত্বকাল, রংপুর সার্কেলকেন্দ্রিক অভিযোগ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা মিলিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগগুলো কেন কখনো কার্যকর তদন্তে রূপ নেয়নি, চলতি দায়িত্বের মাধ্যমে কেন শীর্ষ পদে স্থায়ী ক্ষমতা দেওয়া হলো এবং শিক্ষা খাতের অবকাঠামো উন্নয়নে এর প্রভাব কী হবে—এসব প্রশ্নের পরিষ্কার জবাব না এলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থার সংকট আরও গভীর হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

বিস্তারিত থাকছে পরবর্তী পর্বে….