ঢাকা ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

পৃথিবীর ইতিহাসে সর্ববৃহৎ জানাজা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ৪৬৯ বার পড়া হয়েছে

বেগম খালেদা জিয়া: শোক থেকে ইতিহাস

পৃথিবীর ইতিহাসে জানাজার উপস্থিতি সব সময়ই কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা সামাজিক প্রভাবের একটি বড় সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বহু দশক ধরে এই তালিকার শীর্ষে ছিল ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজা। ১৯৮৯ সালে তেহরানে অনুষ্ঠিত সেই জানাজায় আনুমানিক এক কোটি মানুষের উপস্থিতির কথা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা সেই দীর্ঘদিনের রেকর্ডকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

বিএনপির চেয়ারপারসন, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা পরিণত হয়েছে এক অভূতপূর্ব জনসমুদ্রে। অপারেটর ও মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণে দাবি করা হচ্ছে, এই জানাজায় উপস্থিতির সংখ্যা আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

ঢাকার সর্বসাধারণের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মত ও পথের মানুষ এই জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। এটি কোনো একক দলের শোকানুষ্ঠান ছিল না; বরং এটি রূপ নেয় জাতীয় পর্যায়ের এক সম্মিলিত বিদায়ে। জানাজার এলাকা এতটাই বিস্তৃত ছিল যে আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করেও পুরো এলাকার একটানা ফুটেজ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

এলাকাভিত্তিক উপস্থিতির আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কমপক্ষে এক কোটি ৪০ থেকে ৪৫ লাখ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই হিসাব যদি চূড়ান্তভাবে স্বীকৃত হয়, তাহলে এটি পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত জানাজা হিসেবে নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে।

এই বিশাল উপস্থিতি কেবল সংখ্যার গল্প নয়। এটি বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সামাজিক প্রতিফলন। বিরোধী রাজনীতি, কারাবরণ, অসুস্থতা এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি যে এক গভীর গণভিত্তির প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন, সেই বাস্তবতা এই জানাজায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দলীয় সীমানা ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তারই প্রমাণ।

ইতিহাসে যেমন খোমেনির জানাজা ইরানের বিপ্লবী রাজনীতির প্রতীক হয়ে আছে, তেমনি বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থান এবং জনপ্রিয় নেতৃত্বের এক অনন্য দলিল হয়ে থাকবে।

আল্লাহ তায়ালা তাঁকে জান্নাত দান করুন। আমিন।

লেখক: হাফিজুর রহমান শফিক, সাংবাদিক

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

পৃথিবীর ইতিহাসে সর্ববৃহৎ জানাজা

আপডেট সময় : ০৬:১৭:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

বেগম খালেদা জিয়া: শোক থেকে ইতিহাস

পৃথিবীর ইতিহাসে জানাজার উপস্থিতি সব সময়ই কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা সামাজিক প্রভাবের একটি বড় সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বহু দশক ধরে এই তালিকার শীর্ষে ছিল ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজা। ১৯৮৯ সালে তেহরানে অনুষ্ঠিত সেই জানাজায় আনুমানিক এক কোটি মানুষের উপস্থিতির কথা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা সেই দীর্ঘদিনের রেকর্ডকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

বিএনপির চেয়ারপারসন, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা পরিণত হয়েছে এক অভূতপূর্ব জনসমুদ্রে। অপারেটর ও মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণে দাবি করা হচ্ছে, এই জানাজায় উপস্থিতির সংখ্যা আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

ঢাকার সর্বসাধারণের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মত ও পথের মানুষ এই জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। এটি কোনো একক দলের শোকানুষ্ঠান ছিল না; বরং এটি রূপ নেয় জাতীয় পর্যায়ের এক সম্মিলিত বিদায়ে। জানাজার এলাকা এতটাই বিস্তৃত ছিল যে আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করেও পুরো এলাকার একটানা ফুটেজ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

এলাকাভিত্তিক উপস্থিতির আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কমপক্ষে এক কোটি ৪০ থেকে ৪৫ লাখ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই হিসাব যদি চূড়ান্তভাবে স্বীকৃত হয়, তাহলে এটি পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত জানাজা হিসেবে নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে।

এই বিশাল উপস্থিতি কেবল সংখ্যার গল্প নয়। এটি বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সামাজিক প্রতিফলন। বিরোধী রাজনীতি, কারাবরণ, অসুস্থতা এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি যে এক গভীর গণভিত্তির প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন, সেই বাস্তবতা এই জানাজায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দলীয় সীমানা ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তারই প্রমাণ।

ইতিহাসে যেমন খোমেনির জানাজা ইরানের বিপ্লবী রাজনীতির প্রতীক হয়ে আছে, তেমনি বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থান এবং জনপ্রিয় নেতৃত্বের এক অনন্য দলিল হয়ে থাকবে।

আল্লাহ তায়ালা তাঁকে জান্নাত দান করুন। আমিন।

লেখক: হাফিজুর রহমান শফিক, সাংবাদিক