ঢাকা ০৯:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল সাময়িক বরখাস্ত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫২:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ৩২১ বার পড়া হয়েছে

সকালের সংবাদ: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার চার্জশিট আদালতে গৃহীত হওয়ায় ৪ মাস পর আনুষ্ঠানিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত ঘোষণা করা হয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে-কে। বর্তমানে তিনি বরিশাল গণপূর্ত জোনে কর্মরত। এর আগে ঢাকায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন।

মঙ্গলবার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, উৎপল কুমার দে’র বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এর মামলা নং -২, তারিখ: ৫-৮-২০২০ এ দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক দাখিলকৃত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) নং ১১৭, তারিখ: ২১-৮-২০২৩ বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক গত ১০-১০-২০২৩ তারিখে গৃহীত হয়েছে। তাকে সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৫৭ নং আইন) এর ৩৯ (২) অনুযায়ী ১০-১০-২০২৩ তারিখ থেকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। বরখাস্ত থাকাকালে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন।

চার মাস আগে এই প্রভাবশালী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট গৃহীত হলেও এতদিন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ক্যাসিনোকাণ্ডে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেসময় ক্যাসিনো ও অন্যান্য অবৈধ মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধানে নামে দুদক। এতে নাম আসে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দের। ২০২০ সালের ৫ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ সংস্থাটির কর্মকর্তা নেয়ামুল আহসান গাজী বাদী হয়ে উৎপল কুমার ও তার স্ত্রী গোপা দের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।

বিতর্কিত ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া (জি কে) শামীমের সঙ্গে যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে ৭ কোটি ৮০ টাকার সম্পদ অর্জন করার কথা বলা হয় মামলায়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করে তা নিজেদের ভোগ দখলে রাখেন। পরে এসব সম্পদ বৈধ করার অসৎ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে রূপান্তর/ হস্থান্তর করে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় এবং মানি-লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২)(৩) ধারাসহ দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

আরও বলা হয়, গোপা দের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে বলে তদন্তে প্রমাণ হয়। প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণ ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গোপা দে ও তার স্বামী উৎপল কুমার দে প্রত্যক্ষ যোগসাজসে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে ছয় কোটি ৬২ লাখ ৬৮ হাজার ৭৫৪ টাকার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, উৎপল কুমার দে একজন সরকারি কর্মচারী হয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে দুর্নীতি এবং বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ এক কোটি ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৯০৩ টাকার সম্পদ অর্জন করেন। তিনি তা নিজ ভোগ দখলে রাখেন।

তদন্তকালে আসামি উৎপল কুমার দের নামে অর্জিত সম্পদের বিপরীতে তার বেতন-ভাতা ছাড়া অন্য কোনো সুনির্দিষ্ট বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল সাময়িক বরখাস্ত

আপডেট সময় : ১০:৫২:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

সকালের সংবাদ: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার চার্জশিট আদালতে গৃহীত হওয়ায় ৪ মাস পর আনুষ্ঠানিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত ঘোষণা করা হয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে-কে। বর্তমানে তিনি বরিশাল গণপূর্ত জোনে কর্মরত। এর আগে ঢাকায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন।

মঙ্গলবার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, উৎপল কুমার দে’র বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এর মামলা নং -২, তারিখ: ৫-৮-২০২০ এ দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক দাখিলকৃত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) নং ১১৭, তারিখ: ২১-৮-২০২৩ বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক গত ১০-১০-২০২৩ তারিখে গৃহীত হয়েছে। তাকে সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৫৭ নং আইন) এর ৩৯ (২) অনুযায়ী ১০-১০-২০২৩ তারিখ থেকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। বরখাস্ত থাকাকালে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন।

চার মাস আগে এই প্রভাবশালী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট গৃহীত হলেও এতদিন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ক্যাসিনোকাণ্ডে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেসময় ক্যাসিনো ও অন্যান্য অবৈধ মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধানে নামে দুদক। এতে নাম আসে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দের। ২০২০ সালের ৫ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ সংস্থাটির কর্মকর্তা নেয়ামুল আহসান গাজী বাদী হয়ে উৎপল কুমার ও তার স্ত্রী গোপা দের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।

বিতর্কিত ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া (জি কে) শামীমের সঙ্গে যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে ৭ কোটি ৮০ টাকার সম্পদ অর্জন করার কথা বলা হয় মামলায়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করে তা নিজেদের ভোগ দখলে রাখেন। পরে এসব সম্পদ বৈধ করার অসৎ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে রূপান্তর/ হস্থান্তর করে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় এবং মানি-লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২)(৩) ধারাসহ দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

আরও বলা হয়, গোপা দের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়েছে বলে তদন্তে প্রমাণ হয়। প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণ ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গোপা দে ও তার স্বামী উৎপল কুমার দে প্রত্যক্ষ যোগসাজসে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে ছয় কোটি ৬২ লাখ ৬৮ হাজার ৭৫৪ টাকার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, উৎপল কুমার দে একজন সরকারি কর্মচারী হয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে দুর্নীতি এবং বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ এক কোটি ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৯০৩ টাকার সম্পদ অর্জন করেন। তিনি তা নিজ ভোগ দখলে রাখেন।

তদন্তকালে আসামি উৎপল কুমার দের নামে অর্জিত সম্পদের বিপরীতে তার বেতন-ভাতা ছাড়া অন্য কোনো সুনির্দিষ্ট বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া যায়নি।