ঢাকা ০৬:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

পরিদর্শনের নামে রূপালী ব্যাংকের ২ কর্মকর্তার অর্থ আত্মসাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক;
  • আপডেট সময় : ০১:১১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ অক্টোবর ২০২৩ ৪৭৬ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপালী ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে শাখা পরিদর্শনে গিয়ে ইচ্ছেমতো বিল-ভাতা করেছেন ব্যাংকটির দুজন কর্মকর্তা। এক জেলায় সফরের দিনেও অন্য জেলা ভ্রমণের যাতায়াত ভাতা দেখিয়েছেন। ২০১৯ ও ২০২০ সালে দাপ্তরিক কাজ শেষে বিলভাতা তুলে ভোগ করা শেষ করলেও বিষয়টি সামনে এসেছে সম্প্রতি। গত ১ সেপ্টেম্বর এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর অভিযোগ জমা পড়েছে। দুই কর্মকর্তা হলেন- প্রধান কার্যালয়ের নিরীক্ষা ও পরিদর্শক বিভাগ-২ কর্মরত মো. মাহমুদুল হাসান ও মেশকাতুর রহমান।

অভিযোগ আমলে নিয়ে এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যাংকের ভিজিল্যান্স্ এন্ড ইন্টেলিজেন্স ডিভিশন ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে বলে ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত থেকে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণে সংশ্লিষ্টদের চাপ প্রয়োগেরও চেষ্টা করছেন এই দুই কর্মকর্তা। তবে ব্যাংকটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, যেহেতু তদন্ত চলছে তাই প্রমাণ হলে বিভাগীয় শাস্তি থেকে নিস্তার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগের তথ্যাদি ঢাকা মেইলের প্রতিনিধির কাছে সংরক্ষিত আছে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে একাধিকবার চেষ্টা করলেও রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যাংকটির একজন ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ যখন জমা পড়েছে সেহেতু নিয়ম মাফিক তদন্ত হবে। অভিযোগ প্রমাণ হলে অবশ্যই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ:

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ব্যাংকটির প্রিন্সিপাল অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান ও মেশকাতুর রহমান ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে কক্সবাজারের কর্পোরেট শাখায় সিস্টেম অডিট করেন। পরে কাছাকাছি সময়ে রাঙ্গামাটিতেও তারা শাখা অডিট করেন। কিন্তু বিল জমা দিতে গিয়ে দেখিয়েছেন, ১৭ সেপ্টেম্বর তারা দুজন কক্সবাজারে অবস্থান করেছেন। আবার একই তারিখে (১৭ সেপ্টেম্বর) তারা রাঙামাটিরও ভ্রমণ বিল জমা দিয়ে সেই বিল তুলে নিয়েছেন।

তার আগের মাস আগস্টে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও করপোরেট শাখা ও বিবিরহাট করপোরেট শাখার সিস্টেম অডিট সম্পন্ন করে দুই কর্মকর্তা বিলে দেখিয়েছেন, ২৫ আগস্ট তারা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গিয়েছেন। পরে ২ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম থেকে রওয়ানা দিয়ে দুপুরে ঢাকায় পৌঁছেছেন।

পরবর্তীতে এক্সেলিং সার্ভিস স্কিলস প্রশিক্ষণ বিলে ১ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারা ঢাকায় রূপালী ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার তথ্য লিখেছেন। প্রকৃতপক্ষে দিনগুলোতে তারা ঢাকায় একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। যেখানকার হাজিরা শিটে তাদের স্বাক্ষরও আছে।

এই দুটি বিল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১ থেকে ২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের ভ্রমণ বিলে তারা সেখানে অবস্থান দেখিয়ে বিল নিয়েছেন। আবার একই দিনে ঢাকায় প্রশিক্ষণের ভ্রমণ ভাতা দেখিয়ে ঢাকা থেকেও বিল তুলেছেন।

অন্য একটি বিলে দেখা যায়, ২০১৯ সালের ১৬ নভেম্বর ঠাকুরগাঁও করপোরেট শাখার সিস্টেম অডিট করেছেন। কিন্তু ভাতার বিলে একই তারিখে তারা ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও যাওয়া এবং ২০ নভেম্বর সকাল ৬টায় ঠাকুরগাঁও থেকে রওয়ানা হয়ে দুপুর ২টায় কল্যাণপুর পৌঁছার কথা জানিয়েছেন।

আবার গাইবান্ধা করপোরেট শাখার ভ্রমণ ভাতার বিলে তারা দেখিয়েছেন ১৯ নভেম্বর রাত ১০টায় কল্যাণপুর থেকে গাইবান্ধার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন। ২২ নভেম্বর সকাল ৬টায় গাইবান্ধা থেকে রওয়ানা দিয়ে দুপুর ২টায় তারা কল্যাণপুর পৌঁছেছেন। অর্থাৎ একই সময় ও একই দিনে ঠাকুরগাঁও এবং গাইবান্ধা দুই জায়গার ভ্রমণ ভাতা তুলে নিয়েছেন এই কর্মকর্তারা।

এছাড়াও মাহমুদুল হাসান ২০২০ সালে রূপালী ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমি, ঢাকায় অডিটের ওপর একটি প্রশিক্ষণ বিলে দেখিয়েছেন, ওই বছরের ১৯ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত রূপালী ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমি ঢাকায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বিল জমা দিয়ে এই সাত দিনের প্রশিক্ষণ ভ্রমণ ভাতার বিলও নিয়েছেন। রূপালী ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমির হাজিরা শিটে প্রমাণ রয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে, ওই বছরের ২৩ থেকে ২৪ জানুয়ারি তারা ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। যা নির্বাচন কমিশন আয়োজন করেছিল। ফলে এই দুই দিনের প্রশিক্ষণ ভাতা ব্যাংক থেকেও তারা নিয়েছেন। আবার ইসির প্রশিক্ষণ থেকেও বিল নিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একইসঙ্গে এভাবে একাধিক জায়গায় অবস্থানের মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিলভাতা নেওয়া, একই দিনে একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ভাতা নেওয়া জালিয়াতির শামিল।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মাহমুদুল হাসান এবং মেশকাতুর রহমানের বক্তব্য তাদের মতো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে প্রতিবেদক ব্যাংকের কার্যালয় গিয়েও তাদের সাথে সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করেন কিন্তু তারা কেউই দেখা করেননি।

এদিকে অভিযোগ তদন্তের দায়িত্বে থাকা ব্যাংকের ভিজিল্যান্স্ এন্ড ইন্টেলিজেন্স ডিভিশনের ডিজিএম মো. জাকির হোসেন বাবলু প্রথমে বিষয়টি জানা নেই বলে নিকট দাবি করেন।

লিখিতে অভিযোগ তাকেও মার্ক করা আছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এমন অভিযোগ আছে কিনা আমার মনে নেই। দেখে বলতে হবে।

Loading

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

পরিদর্শনের নামে রূপালী ব্যাংকের ২ কর্মকর্তার অর্থ আত্মসাৎ

আপডেট সময় : ০১:১১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ অক্টোবর ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপালী ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে শাখা পরিদর্শনে গিয়ে ইচ্ছেমতো বিল-ভাতা করেছেন ব্যাংকটির দুজন কর্মকর্তা। এক জেলায় সফরের দিনেও অন্য জেলা ভ্রমণের যাতায়াত ভাতা দেখিয়েছেন। ২০১৯ ও ২০২০ সালে দাপ্তরিক কাজ শেষে বিলভাতা তুলে ভোগ করা শেষ করলেও বিষয়টি সামনে এসেছে সম্প্রতি। গত ১ সেপ্টেম্বর এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর অভিযোগ জমা পড়েছে। দুই কর্মকর্তা হলেন- প্রধান কার্যালয়ের নিরীক্ষা ও পরিদর্শক বিভাগ-২ কর্মরত মো. মাহমুদুল হাসান ও মেশকাতুর রহমান।

অভিযোগ আমলে নিয়ে এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যাংকের ভিজিল্যান্স্ এন্ড ইন্টেলিজেন্স ডিভিশন ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে বলে ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত থেকে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণে সংশ্লিষ্টদের চাপ প্রয়োগেরও চেষ্টা করছেন এই দুই কর্মকর্তা। তবে ব্যাংকটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, যেহেতু তদন্ত চলছে তাই প্রমাণ হলে বিভাগীয় শাস্তি থেকে নিস্তার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগের তথ্যাদি ঢাকা মেইলের প্রতিনিধির কাছে সংরক্ষিত আছে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে একাধিকবার চেষ্টা করলেও রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যাংকটির একজন ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ যখন জমা পড়েছে সেহেতু নিয়ম মাফিক তদন্ত হবে। অভিযোগ প্রমাণ হলে অবশ্যই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ:

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ব্যাংকটির প্রিন্সিপাল অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান ও মেশকাতুর রহমান ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে কক্সবাজারের কর্পোরেট শাখায় সিস্টেম অডিট করেন। পরে কাছাকাছি সময়ে রাঙ্গামাটিতেও তারা শাখা অডিট করেন। কিন্তু বিল জমা দিতে গিয়ে দেখিয়েছেন, ১৭ সেপ্টেম্বর তারা দুজন কক্সবাজারে অবস্থান করেছেন। আবার একই তারিখে (১৭ সেপ্টেম্বর) তারা রাঙামাটিরও ভ্রমণ বিল জমা দিয়ে সেই বিল তুলে নিয়েছেন।

তার আগের মাস আগস্টে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও করপোরেট শাখা ও বিবিরহাট করপোরেট শাখার সিস্টেম অডিট সম্পন্ন করে দুই কর্মকর্তা বিলে দেখিয়েছেন, ২৫ আগস্ট তারা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গিয়েছেন। পরে ২ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম থেকে রওয়ানা দিয়ে দুপুরে ঢাকায় পৌঁছেছেন।

পরবর্তীতে এক্সেলিং সার্ভিস স্কিলস প্রশিক্ষণ বিলে ১ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারা ঢাকায় রূপালী ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার তথ্য লিখেছেন। প্রকৃতপক্ষে দিনগুলোতে তারা ঢাকায় একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। যেখানকার হাজিরা শিটে তাদের স্বাক্ষরও আছে।

এই দুটি বিল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১ থেকে ২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের ভ্রমণ বিলে তারা সেখানে অবস্থান দেখিয়ে বিল নিয়েছেন। আবার একই দিনে ঢাকায় প্রশিক্ষণের ভ্রমণ ভাতা দেখিয়ে ঢাকা থেকেও বিল তুলেছেন।

অন্য একটি বিলে দেখা যায়, ২০১৯ সালের ১৬ নভেম্বর ঠাকুরগাঁও করপোরেট শাখার সিস্টেম অডিট করেছেন। কিন্তু ভাতার বিলে একই তারিখে তারা ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও যাওয়া এবং ২০ নভেম্বর সকাল ৬টায় ঠাকুরগাঁও থেকে রওয়ানা হয়ে দুপুর ২টায় কল্যাণপুর পৌঁছার কথা জানিয়েছেন।

আবার গাইবান্ধা করপোরেট শাখার ভ্রমণ ভাতার বিলে তারা দেখিয়েছেন ১৯ নভেম্বর রাত ১০টায় কল্যাণপুর থেকে গাইবান্ধার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন। ২২ নভেম্বর সকাল ৬টায় গাইবান্ধা থেকে রওয়ানা দিয়ে দুপুর ২টায় তারা কল্যাণপুর পৌঁছেছেন। অর্থাৎ একই সময় ও একই দিনে ঠাকুরগাঁও এবং গাইবান্ধা দুই জায়গার ভ্রমণ ভাতা তুলে নিয়েছেন এই কর্মকর্তারা।

এছাড়াও মাহমুদুল হাসান ২০২০ সালে রূপালী ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমি, ঢাকায় অডিটের ওপর একটি প্রশিক্ষণ বিলে দেখিয়েছেন, ওই বছরের ১৯ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত রূপালী ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমি ঢাকায় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বিল জমা দিয়ে এই সাত দিনের প্রশিক্ষণ ভ্রমণ ভাতার বিলও নিয়েছেন। রূপালী ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমির হাজিরা শিটে প্রমাণ রয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে, ওই বছরের ২৩ থেকে ২৪ জানুয়ারি তারা ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। যা নির্বাচন কমিশন আয়োজন করেছিল। ফলে এই দুই দিনের প্রশিক্ষণ ভাতা ব্যাংক থেকেও তারা নিয়েছেন। আবার ইসির প্রশিক্ষণ থেকেও বিল নিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একইসঙ্গে এভাবে একাধিক জায়গায় অবস্থানের মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিলভাতা নেওয়া, একই দিনে একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ভাতা নেওয়া জালিয়াতির শামিল।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মাহমুদুল হাসান এবং মেশকাতুর রহমানের বক্তব্য তাদের মতো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে প্রতিবেদক ব্যাংকের কার্যালয় গিয়েও তাদের সাথে সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করেন কিন্তু তারা কেউই দেখা করেননি।

এদিকে অভিযোগ তদন্তের দায়িত্বে থাকা ব্যাংকের ভিজিল্যান্স্ এন্ড ইন্টেলিজেন্স ডিভিশনের ডিজিএম মো. জাকির হোসেন বাবলু প্রথমে বিষয়টি জানা নেই বলে নিকট দাবি করেন।

লিখিতে অভিযোগ তাকেও মার্ক করা আছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এমন অভিযোগ আছে কিনা আমার মনে নেই। দেখে বলতে হবে।

Loading