ঢাকা ০৪:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

ফখরুল ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা: হানিফ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯ ৩৬০ বার পড়া হয়েছে

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একজন যুদ্ধাপরাধীর সন্তান দাবি করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, মির্জা ফখরুল নিজেও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা।

শনিবার বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্বেচ্ছাসেবক লীগের আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি করেন। দুপুরে এক গণ-অনশন কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের একুশের চেতনা নিয়ে প্রেশ্ন তোলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, আল মাহমুদকে শহীদ মিনারে নিয়ে সন্মান দেখানো হয়নি। এরা সন্মান দেখাবে কোত্থেকে? আমার সন্দেহ হয় যে, তারা কী সেই একুশের চেতনা বিশ্বাস করে? করে না। তারা কী একাত্তরের চেতনাতে বিশ্বাস করে? করে না। যে স্বাধীনতার কথা তারা বলতে থাকে তার কতটুকু তারা বিশ্বাস করে?

এর কয়েক ঘণ্টা পর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে হানিফ বলেন, ‌‘মির্জা ফখরুল সাহেব, বিভিন্ন সময় আপনি বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে না, ধারণ করে কে? কোন লজ্জায় বলেন আপনারা।’ ‘১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কারা ধ্বংস করেছিল? আপনার শরম লাগে বলতে?’

তিনি বলেন, কারা স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রতিষ্ঠা করেছিল? জামায়াতে ইসলামিকে কারা রাজনীতিতে আসার সুযোগ করে দিয়েছিল? কারা গোলাম আজমকে দেশে ফিরিয়ে নাগরিকত্ব দিয়েছিল? এ সবগুলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের? সেটাই বিশ্বাস করেন আপনি?

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করেন, এ রকম নজির নেই। আপনার পরিবার সম্পর্কেও আপনার এলাকায় অভিযোগ আছে। আপনার বাবাও স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানে ছিলেন। এখন নিজেরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ঝাণ্ডা ধরতে চান।

হানিফ বলেন, আপনার শরম লাগে বলতে? আপনিও একজন যুদ্ধাপরাধীর সন্তান। নিজেকে ভুয়া মুক্তিযুদ্ধা দাবি করে মুক্তিযোদ্ধাদের লেবাস ধারন করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগ ভিন্নমত সহ্য করতে পারছে না বলে বিএনপি মাহাসচিবের বক্তব্যের সমালোচনা করে হানিফ বলেন, ২০০১ সালে নির্বাচনের পর আপনারা সারা দেশে গণহত্যা চালিয়েছিলেন। যেভাবে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল, এর সঙ্গে একমাত্র গণহত্যাকে তুলনা করা যায়। তখন ২৬ হাজার নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছিল।

‘গণতন্ত্রের কথা বলেন কোন মুখে? ভিন্ন মত সহ্য করার কথা বলেন কোন মুখে। আজকে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বলেই আপনারা এখনও সরকারের বিরোদ্ধে নির্লজ্জ মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন,’ বললেন এ আওয়ামী লীগ নেতা।

তিনি বলেন, ভিন্নমত সহ্য করি বলেই মিডিয়ার মাধ্যমে আপনাদের মিথ্যাচার জাতি দেখছে। দেশ আজকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বলেই আপনাদের গাত্রদাহ হয়। তাই সুযোগ পেলেই ষড়যন্ত্র করেন। আর গণতন্ত্রের কথা বলেন।

বিএনপি রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে দাবি করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগের কোথাও তাদের ঠাঁই নেই।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিএনপি-জামায়াত আমাদের ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।

‘বিএনপি-জামায়াত আজকে রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। বিএনপির কোন ভবিষ্যৎ নেই। যেভাবে জামায়াত আস্তে আস্তে নিঃশেষ হয়ে গেছে, ঠিক সেভাবে বিএনপি রাজনীতি থেকে নিঃশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। সে কারণে তারা সুযোগ পেয়ে বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে ঢোকার চেষ্টা করছে।

নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, এই সমস্ত বিএনপি জামায়াত নেতাকর্মীদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে। এরা এসে আমাদের কাঁধে ভর করে আমাদের মাঝে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। এদের চিহ্নিত করতে হবে। আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের কোন সহযোগী সংগঠনে ঠাঁই যেন না পায়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাউসারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, ডা. নুজহাত চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ নাথ ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব বাদশা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

ফখরুল ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা: হানিফ

আপডেট সময় : ১০:০৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একজন যুদ্ধাপরাধীর সন্তান দাবি করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, মির্জা ফখরুল নিজেও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা।

শনিবার বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্বেচ্ছাসেবক লীগের আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি করেন। দুপুরে এক গণ-অনশন কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের একুশের চেতনা নিয়ে প্রেশ্ন তোলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, আল মাহমুদকে শহীদ মিনারে নিয়ে সন্মান দেখানো হয়নি। এরা সন্মান দেখাবে কোত্থেকে? আমার সন্দেহ হয় যে, তারা কী সেই একুশের চেতনা বিশ্বাস করে? করে না। তারা কী একাত্তরের চেতনাতে বিশ্বাস করে? করে না। যে স্বাধীনতার কথা তারা বলতে থাকে তার কতটুকু তারা বিশ্বাস করে?

এর কয়েক ঘণ্টা পর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে হানিফ বলেন, ‌‘মির্জা ফখরুল সাহেব, বিভিন্ন সময় আপনি বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে না, ধারণ করে কে? কোন লজ্জায় বলেন আপনারা।’ ‘১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কারা ধ্বংস করেছিল? আপনার শরম লাগে বলতে?’

তিনি বলেন, কারা স্বাধীনতা বিরোধীদের প্রতিষ্ঠা করেছিল? জামায়াতে ইসলামিকে কারা রাজনীতিতে আসার সুযোগ করে দিয়েছিল? কারা গোলাম আজমকে দেশে ফিরিয়ে নাগরিকত্ব দিয়েছিল? এ সবগুলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের? সেটাই বিশ্বাস করেন আপনি?

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করেন, এ রকম নজির নেই। আপনার পরিবার সম্পর্কেও আপনার এলাকায় অভিযোগ আছে। আপনার বাবাও স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানে ছিলেন। এখন নিজেরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ঝাণ্ডা ধরতে চান।

হানিফ বলেন, আপনার শরম লাগে বলতে? আপনিও একজন যুদ্ধাপরাধীর সন্তান। নিজেকে ভুয়া মুক্তিযুদ্ধা দাবি করে মুক্তিযোদ্ধাদের লেবাস ধারন করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগ ভিন্নমত সহ্য করতে পারছে না বলে বিএনপি মাহাসচিবের বক্তব্যের সমালোচনা করে হানিফ বলেন, ২০০১ সালে নির্বাচনের পর আপনারা সারা দেশে গণহত্যা চালিয়েছিলেন। যেভাবে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল, এর সঙ্গে একমাত্র গণহত্যাকে তুলনা করা যায়। তখন ২৬ হাজার নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছিল।

‘গণতন্ত্রের কথা বলেন কোন মুখে? ভিন্ন মত সহ্য করার কথা বলেন কোন মুখে। আজকে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বলেই আপনারা এখনও সরকারের বিরোদ্ধে নির্লজ্জ মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন,’ বললেন এ আওয়ামী লীগ নেতা।

তিনি বলেন, ভিন্নমত সহ্য করি বলেই মিডিয়ার মাধ্যমে আপনাদের মিথ্যাচার জাতি দেখছে। দেশ আজকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বলেই আপনাদের গাত্রদাহ হয়। তাই সুযোগ পেলেই ষড়যন্ত্র করেন। আর গণতন্ত্রের কথা বলেন।

বিএনপি রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে দাবি করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগের কোথাও তাদের ঠাঁই নেই।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিএনপি-জামায়াত আমাদের ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।

‘বিএনপি-জামায়াত আজকে রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। বিএনপির কোন ভবিষ্যৎ নেই। যেভাবে জামায়াত আস্তে আস্তে নিঃশেষ হয়ে গেছে, ঠিক সেভাবে বিএনপি রাজনীতি থেকে নিঃশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। সে কারণে তারা সুযোগ পেয়ে বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে ঢোকার চেষ্টা করছে।

নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, এই সমস্ত বিএনপি জামায়াত নেতাকর্মীদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে। এরা এসে আমাদের কাঁধে ভর করে আমাদের মাঝে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। এদের চিহ্নিত করতে হবে। আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের কোন সহযোগী সংগঠনে ঠাঁই যেন না পায়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাউসারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, ডা. নুজহাত চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ নাথ ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব বাদশা।