ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo এবার গ্র্যামির দৌড়ে ‘ধুরন্ধর ২’ Logo রিকশাচালক থেকে মুচি, ১ নভেম্বর থেকে সবাই বাংলা কিউআর ব্যবহার করতে পারবেন Logo প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে চাকরিচ্যুত ও গ্রেপ্তার করতে হবে: আখতার হোসেন Logo ৩৪৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ Logo ককরোচ পার্টির কর্মসূচি : দিল্লিতে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিসহ আটক ১০০০ Logo মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের স্বাস্থ্যনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক: তারেক রহমান Logo মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo যাত্রাবাড়ীতে বাসে তল্লাশি, ৯ হাজার ই’য়া’বা’স’হ গ্রে’প্তা’র ২ Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল 

করোনা আতঙ্কে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা মূলধন হারিয়েছে পুঁজিবাজার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৬:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২০ ৫৬৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনাভাইরাসের আতঙ্কে টানা বড় পতনের মধ্যে পড়ে গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারের বাজার মূলধন কমেছে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা। তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দাম কমায় এ অর্থ কমেছে।

গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া চার কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসেই পুঁজিবাজারে দরপতন হয়। পতনের হাত থেকে বাঁচতে বিনিয়োগকারীদের একপক্ষ পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ রাখার দাবি তুলেন। পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিলে পুঁজিবাজার টেনে তুলতে সার্কিট ব্রেকারের নিয়মে পরিবর্তন আনে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

এতে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স এক লাফে বাড়ে ১০ শতাংশের ওপরে। এরপরও বাজার মূলধনের পতনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়নি।

গত সপ্তাহজুড়ে কমে সবকটি মূল্যসূচক ও লেনদেনের পরিমাণ। প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক কমেছে প্রায় ৪ শতাংশ। আর লেনদেন কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া মাত্র ৪৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩০৪টির। ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা, যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ১০ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা।

এদিকে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১৫৫ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ২৫৪ দশমিক ৫২ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৮১ শতাংশ।

বাকি দুটি সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক কমেছে ৩৮ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট বা ৪ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ৫৮ দশমিক ১৫ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৭২ শতাংশ।

আর ডিএসই-৩০ আগের সপ্তাহের তুলনায় কমেছে ৫৫ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ৮০ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ।

সবকটি সূচকের এমন পতনের মধ্যে ডিএসইতে লেনদেনের গতিও কমেছে। গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয় ৩১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৪১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ১০৩ কোটি ৮ লাখ টাকা বা ২৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

আর গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয় ১ হাজার ২৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ২ হাজার ৮৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে ৮৩০ কোটি ৬ লাখ টাকা বা ৩৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয় স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালের শেয়ার। কোম্পানিটির ৫৩ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা সপ্তাহজুড়ে হওয়া মোট লেনদেনের ৪ দশমিক ২২শতাংশ।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা মুন্নু সিরামিকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৯ কোটি ৩১ লাখ টাকার, যা সপ্তাহের মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ৩৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে গ্রামীণফোন।

লেনদেনে এরপর রয়েছে- ওরিয়ন ফার্মা, লাফার্জাহোলসিম বাংলাদেশ, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো, ব্র্যাক ব্যাংক, ওরিয়ন ইনফিউশন, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি এবং সী পার্ল বিচ রিসোর্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

করোনা আতঙ্কে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা মূলধন হারিয়েছে পুঁজিবাজার

আপডেট সময় : ০৯:৩৬:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনাভাইরাসের আতঙ্কে টানা বড় পতনের মধ্যে পড়ে গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারের বাজার মূলধন কমেছে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা। তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দাম কমায় এ অর্থ কমেছে।

গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া চার কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসেই পুঁজিবাজারে দরপতন হয়। পতনের হাত থেকে বাঁচতে বিনিয়োগকারীদের একপক্ষ পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ রাখার দাবি তুলেন। পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিলে পুঁজিবাজার টেনে তুলতে সার্কিট ব্রেকারের নিয়মে পরিবর্তন আনে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

এতে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স এক লাফে বাড়ে ১০ শতাংশের ওপরে। এরপরও বাজার মূলধনের পতনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়নি।

গত সপ্তাহজুড়ে কমে সবকটি মূল্যসূচক ও লেনদেনের পরিমাণ। প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক কমেছে প্রায় ৪ শতাংশ। আর লেনদেন কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া মাত্র ৪৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩০৪টির। ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা, যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ১০ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা।

এদিকে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১৫৫ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ২৫৪ দশমিক ৫২ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৮১ শতাংশ।

বাকি দুটি সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক কমেছে ৩৮ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট বা ৪ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ৫৮ দশমিক ১৫ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৭২ শতাংশ।

আর ডিএসই-৩০ আগের সপ্তাহের তুলনায় কমেছে ৫৫ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ৮০ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ।

সবকটি সূচকের এমন পতনের মধ্যে ডিএসইতে লেনদেনের গতিও কমেছে। গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয় ৩১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৪১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ১০৩ কোটি ৮ লাখ টাকা বা ২৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

আর গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয় ১ হাজার ২৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ২ হাজার ৮৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে ৮৩০ কোটি ৬ লাখ টাকা বা ৩৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয় স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালের শেয়ার। কোম্পানিটির ৫৩ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা সপ্তাহজুড়ে হওয়া মোট লেনদেনের ৪ দশমিক ২২শতাংশ।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা মুন্নু সিরামিকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৯ কোটি ৩১ লাখ টাকার, যা সপ্তাহের মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ৩৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে গ্রামীণফোন।

লেনদেনে এরপর রয়েছে- ওরিয়ন ফার্মা, লাফার্জাহোলসিম বাংলাদেশ, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো, ব্র্যাক ব্যাংক, ওরিয়ন ইনফিউশন, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি এবং সী পার্ল বিচ রিসোর্ট।