ঢাকা ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের জ্যেষ্ঠ নেতার পদোন্নতি সহ পিআরএল: রয়েছে শত কোটি টাকার লুটপাটের অভিযোগ! Logo দৈনিক সবুজ বাংলাদেশের সম্পাদক মোহাম্মদ মাসুদ এর জন্মদিন আজ Logo উন্নয়নের নামে লুটপাট: ডিএসসিসি এডিবি প্রকল্পে ‘১২ টেবিল’ ভাগাভাগি হয় ঘুষের টাকা  Logo বাংলাদেশ ভারত কোস্টগার্ডের তত্ত্বাবধানে ১৫১ জেলের মুক্তিতে বন্দি বিনিময়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস Logo জিয়া শিশু কিশোর মেলার কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেল ঘোষণা Logo ঢাকা মহানগর দক্ষিণে স্বেচ্ছাসেবক দলের নির্বাচনী প্রচারণা টিম গঠন Logo ‘আওয়ামী প্রেতাত্মা’ পিডিপির নির্বাহী প্রকৌশলী মাইন উদ্দিন: ফতেহাবাদ সাবস্টেশনে চুরির ঘটনায় রহস্য! Logo গতকাল শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাকেরগঞ্জ বিএনপির নেতারা Logo বিআরটিসিতে দুর্নীতির বরপুত্র চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা Logo শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে ঘিরে সমালোচনার ঝড়

কর্তৃপক্ষ কি দায়িত্ব এড়াতে পারে?

তথ্য জালিয়াতির মাধ্যমে শেয়ার বাজারে আসছে ওয়েব কোটস

নিজস্ব প্রতিবেদক;
  • আপডেট সময় : ১১:১৩:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩ ৭০৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ওয়েব কোটস রপ্তানিমুখী একটি গার্মেন্টস কোম্পানি। সম্প্রতি উক্ত কোম্পানি পুঁজিবাজার (এসএমই) থেকে গণপ্রস্তাব ও আইপিও মাধ্যমে ৫ কোটি টাকা খুব দ্রুত অনুমোদন পেতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। কিন্তু বেশকিছু অসংলগ্ন তথ্য জালিয়াতির মাধ্যমে কমিশনের কাছে তাদের আবেদন জমা দিয়েছে এমন বেশকিছু তথ্যপ্রমাণ এসেছে গণমাধ্যমের কাছে।

যেসব বিষয়ে তথ্য গোপন করেছে তারা:

**Profit আর্টিফিশিয়াল এবং কোম্পানির মূলধন কয়েকগুণ বেশী দেখানো হয়েছে।

** ক্রয়ের পরিমাণের ভুয়া তথ্য ।

**কোম্পানির সেলসের ডকুমেন্ট আর্টিফিশিয়াল যা তাদের বাস্তব বিক্রির সাথে কোন মিল নেই।

**সেলসের সাথে ভ্যাট রিটার্নের ব্যাপক গরমিল সহ অসংখ্য ভুয়া তথ্য প্রদান করেছে।

** সেলসের টাকা শেয়ার মানি ডিপোজিটে দেখানো হয়েছে।

** AIT যেগুলো দেখানো হয়েছে তার সবগুলো ভুয়া, এগুলো মূলত ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া জন্য দেখানো হয়েছে।

**( IRC)আই আর সি এবং(ERC) ই আর সি রিপোর্ট সম্পূর্ণ ভুয়া যা নিজেরা তৈরি করেছে।

কমিশনে জমা দিয়েছে ওয়েব কোটস। যা শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগকারীদের জন্য ভয়াবহ প্রতারণার ফাঁদ হিসেবে মনে করেন এই খাতের সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি পুঁজিবাজার (এসএমই) থেকে গণপ্রস্তাব ও আইপিও মাধ্যমে ৫ কোটি টাকা খুব দ্রুত অনুমোদন পেতে যাচ্ছে তারা। উক্ত কোম্পানিটির ইস্যু ম্যানেজার সোনালী ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। আন্ডার রাইটিং এর দায়িত্বে আছে শাহজালাল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড নামক একটি বিতর্কিত পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। যারা একাধিক কোম্পানিকে এমন তথ্য জালিয়াতি করে আগের শেয়ার বাজারে ওঠার বিষয়ে সহায়তা করেছে বলে প্রমাণ রয়েছে।

তথ্য গোপন করে এমন অযোগ্য কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে আসলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নিঃস্ব করবে। ঝুঁকিতে পড়বে তাদের বিনিয়োগ। বিতর্কিত হবে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

অভিযোগ উঠেছে শাহজালাল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড সম্প্রতি একটি কোম্পানির তথ্য গোপন করে পুঁজিবাজারে প্রবেশ পথ সুগম করে দেয়। তবে এমন অবস্থায় দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিএসইসি) কিভাবে এই প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন অন্য আরো একটি কোম্পানির আইপিও অনুমতি দেয়? এসব গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বিএসইসির বর্তমান কমিটি কিভাবে কাদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে একের পর এক কোম্পানি কে অনুমোদন দেয়? যাদের কোনোভাবেই প্রকৃত তথ্য দিয়ে পুজিঁবাজারে প্রবেশ করার যোগ্যতা নেই। ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ক্রয় বিক্রয় সক্ষমতা, আর্থিক প্রতিবেদন কোম্পানির বিভিন্ন তথ্য গোপন করা সহ নানা ধরনের অপকর্ম করে সোনালী ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও শাহজালাল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড মিলে উক্ত কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে উপস্থাপন করে এবং (বিএসইসি) বার বার কোন এক অজানা কারণে উক্ত কোম্পানিগুলোকে অনুমতি দিয়ে থাকে।

ইকুইটি কোম্পানিগুলোর দুর্নীতি ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় দেশের অন্যতম শীর্ষ আর্থিক খাত শেয়ারবাজার দিন দিন অস্থির হয়ে উঠছে এবং ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে বলে দাবি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের।

কর্তৃপক্ষের এসব উদাসীনতা এবং দুর্নীতি বন্ধে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করে শেয়ার বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত বলে মনে করেন আর্থিক খাতের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণ।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ওয়েব কোটস কোম্পানির ওয়েব সাইটে দেয়া নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও দায়িত্বশীল কোনো কর্তৃপক্ষ কথা বলেননি।

Loading

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

কর্তৃপক্ষ কি দায়িত্ব এড়াতে পারে?

তথ্য জালিয়াতির মাধ্যমে শেয়ার বাজারে আসছে ওয়েব কোটস

আপডেট সময় : ১১:১৩:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: ওয়েব কোটস রপ্তানিমুখী একটি গার্মেন্টস কোম্পানি। সম্প্রতি উক্ত কোম্পানি পুঁজিবাজার (এসএমই) থেকে গণপ্রস্তাব ও আইপিও মাধ্যমে ৫ কোটি টাকা খুব দ্রুত অনুমোদন পেতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। কিন্তু বেশকিছু অসংলগ্ন তথ্য জালিয়াতির মাধ্যমে কমিশনের কাছে তাদের আবেদন জমা দিয়েছে এমন বেশকিছু তথ্যপ্রমাণ এসেছে গণমাধ্যমের কাছে।

যেসব বিষয়ে তথ্য গোপন করেছে তারা:

**Profit আর্টিফিশিয়াল এবং কোম্পানির মূলধন কয়েকগুণ বেশী দেখানো হয়েছে।

** ক্রয়ের পরিমাণের ভুয়া তথ্য ।

**কোম্পানির সেলসের ডকুমেন্ট আর্টিফিশিয়াল যা তাদের বাস্তব বিক্রির সাথে কোন মিল নেই।

**সেলসের সাথে ভ্যাট রিটার্নের ব্যাপক গরমিল সহ অসংখ্য ভুয়া তথ্য প্রদান করেছে।

** সেলসের টাকা শেয়ার মানি ডিপোজিটে দেখানো হয়েছে।

** AIT যেগুলো দেখানো হয়েছে তার সবগুলো ভুয়া, এগুলো মূলত ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া জন্য দেখানো হয়েছে।

**( IRC)আই আর সি এবং(ERC) ই আর সি রিপোর্ট সম্পূর্ণ ভুয়া যা নিজেরা তৈরি করেছে।

কমিশনে জমা দিয়েছে ওয়েব কোটস। যা শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগকারীদের জন্য ভয়াবহ প্রতারণার ফাঁদ হিসেবে মনে করেন এই খাতের সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি পুঁজিবাজার (এসএমই) থেকে গণপ্রস্তাব ও আইপিও মাধ্যমে ৫ কোটি টাকা খুব দ্রুত অনুমোদন পেতে যাচ্ছে তারা। উক্ত কোম্পানিটির ইস্যু ম্যানেজার সোনালী ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। আন্ডার রাইটিং এর দায়িত্বে আছে শাহজালাল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড নামক একটি বিতর্কিত পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। যারা একাধিক কোম্পানিকে এমন তথ্য জালিয়াতি করে আগের শেয়ার বাজারে ওঠার বিষয়ে সহায়তা করেছে বলে প্রমাণ রয়েছে।

তথ্য গোপন করে এমন অযোগ্য কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে আসলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নিঃস্ব করবে। ঝুঁকিতে পড়বে তাদের বিনিয়োগ। বিতর্কিত হবে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

অভিযোগ উঠেছে শাহজালাল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড সম্প্রতি একটি কোম্পানির তথ্য গোপন করে পুঁজিবাজারে প্রবেশ পথ সুগম করে দেয়। তবে এমন অবস্থায় দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিএসইসি) কিভাবে এই প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন অন্য আরো একটি কোম্পানির আইপিও অনুমতি দেয়? এসব গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বিএসইসির বর্তমান কমিটি কিভাবে কাদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে একের পর এক কোম্পানি কে অনুমোদন দেয়? যাদের কোনোভাবেই প্রকৃত তথ্য দিয়ে পুজিঁবাজারে প্রবেশ করার যোগ্যতা নেই। ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ক্রয় বিক্রয় সক্ষমতা, আর্থিক প্রতিবেদন কোম্পানির বিভিন্ন তথ্য গোপন করা সহ নানা ধরনের অপকর্ম করে সোনালী ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও শাহজালাল ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড মিলে উক্ত কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে উপস্থাপন করে এবং (বিএসইসি) বার বার কোন এক অজানা কারণে উক্ত কোম্পানিগুলোকে অনুমতি দিয়ে থাকে।

ইকুইটি কোম্পানিগুলোর দুর্নীতি ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় দেশের অন্যতম শীর্ষ আর্থিক খাত শেয়ারবাজার দিন দিন অস্থির হয়ে উঠছে এবং ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে বলে দাবি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের।

কর্তৃপক্ষের এসব উদাসীনতা এবং দুর্নীতি বন্ধে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করে শেয়ার বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত বলে মনে করেন আর্থিক খাতের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণ।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ওয়েব কোটস কোম্পানির ওয়েব সাইটে দেয়া নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও দায়িত্বশীল কোনো কর্তৃপক্ষ কথা বলেননি।

Loading