ঢাকা ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রতারণার ফাঁদে নতুন রোহিঙ্গারা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৭:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ এপ্রিল ২০১৯ ৩৫১ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার প্রতিনিধি;

• অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সময় ৩২০ রোহিঙ্গা উদ্ধার
• এসব ঘটনায় ১৩ সহযোগী গ্রেপ্তার হলেও ধরা পড়েনি দালাল
• চিহ্নিত দালালদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে

কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী শিবিরের রোহিঙ্গা আজুম বাহার ও সখিনা বেগম সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য দালালের হাতে ১০ হাজার টাকা করে দেন। গভীর সমুদ্রে নিয়ে তাঁদের বড় জাহাজে তুলে দিলে আরও ১০ হাজার টাকা দেওয়া হবে, এমনই রফা ছিল। গত ১০ ফেব্রুয়ারি কয়েকজনকে জড়ো করে টেকনাফের সাগরপাড়ে নেওয়ার সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযানে ধরা পড়েন তাঁরা। কিন্তু কোনো দালাল এখনো পর্যন্ত আটক হয়নি।

পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় আজুম বাহার ও সখিনা বেগম জানিয়েছেন, ওই দালালেরা আগেও রোহিঙ্গাদের পাচার করেছিল। এটি জানার পরও তাঁরা টাকা দেন।

বিজিবি, পুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যরা সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টাকালে চলতি বছর সর্বশেষ ৫ এপ্রিল সন্ধ্যা পর্যন্ত ১২টি ঘটনায় ১৪৭ নারী, ১০৪ পুরুষ, ৬৯ শিশুসহ ৩২০ জন রোহিঙ্গা ও ২ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছেন। এসব ঘটনায় ১৩ জন দালালের সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সবাই উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, লম্বাশিয়া, ময়নারঘোনা, টেকনাফের উনছিপ্রাং, লেদা ও শালবন রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেন, উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। চিহ্নিত দালালদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। মূলত নতুন রোহিঙ্গারা প্রতারণার শিকার হচ্ছে। একই কথা বলেছেন টেকনাফ–২ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দারও।

সম্প্রতি মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টাকালে উদ্ধার হন লম্বাশিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা মোহসেনা বেগম। তিনি বলেন, পুরোনো রোহিঙ্গারা নতুন আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে কাউকে তারা মালয়েশিয়া নিতে পারেনি। উল্টো দালালের খপ্পরে পড়ে টাকাপয়সা হারাচ্ছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দালাল চক্রের কয়েকজনের নাম বেরিয়ে এসেছে। তাঁরা হলেন মোহাম্মদ ইলিয়াছ, হাফেজ মোহাম্মদ সেলিম, আঁতাত উদ্দিন, মোহাম্মদ আলম, মাহদুর করিম, মোহাম্মদ আইয়ুব, মো. নুরুল কবির, আমির হোসেন, মোহাম্মদ ফয়েজ, নূর হোসেন, মোহাম্মদ রশিদ, হাশিম উল্লাহ, মোহাম্মদ শাহ ও মোহাম্মদ হামিদ। তাঁরা সবাই উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা। সবাই গা ঢাকা দিয়ে আছেন।

টেকনাফ ও উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের কয়েকজন দলনেতা (মাঝি) মোহাম্মদ আলম, ছৈয়দুল আমিন, সলিম উল্লাহ, আবু ছিদ্দিক, মো. শাকের জানান, মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে দালাল চক্রের সদস্যরা কিছু নতুন রোহিঙ্গাকে শিবির থেকে বের করার চেষ্টা করছে। রোহিঙ্গা শিবিরে কিছু দালাল চক্রের সদস্য অবস্থান করছে, এ তথ্য নিশ্চিত করেন তাঁরা। তাঁরা বলেন, এদের শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) টেকনাফের সাধারণ সম্পাদক এ বি এম আবুল হোসেন বলেন, রোহিঙ্গাদের পাচারের ওপর বিশেষ নজর রাখা না হলে বড় ধরনের খেসারত দিতে হবে। রোহিঙ্গাদের দেখাদেখি স্থানীয়রা যেকোনো সময় এ ঝুঁকিপূর্ণ পথে পা বাড়াতে পারে।

উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, পুরোনো রোহিঙ্গা দালাল চক্রের কিছু সদস্য নতুন রোহিঙ্গাদের সমুদ্রপথে পাচারের চেষ্টা করছে। কিন্তু পুলিশের নজরদারি থাকায় তারা সুবিধা করতে পারছে না। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

প্রতারণার ফাঁদে নতুন রোহিঙ্গারা

আপডেট সময় : ১১:১৭:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ এপ্রিল ২০১৯

কক্সবাজার প্রতিনিধি;

• অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সময় ৩২০ রোহিঙ্গা উদ্ধার
• এসব ঘটনায় ১৩ সহযোগী গ্রেপ্তার হলেও ধরা পড়েনি দালাল
• চিহ্নিত দালালদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে

কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী শিবিরের রোহিঙ্গা আজুম বাহার ও সখিনা বেগম সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য দালালের হাতে ১০ হাজার টাকা করে দেন। গভীর সমুদ্রে নিয়ে তাঁদের বড় জাহাজে তুলে দিলে আরও ১০ হাজার টাকা দেওয়া হবে, এমনই রফা ছিল। গত ১০ ফেব্রুয়ারি কয়েকজনকে জড়ো করে টেকনাফের সাগরপাড়ে নেওয়ার সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অভিযানে ধরা পড়েন তাঁরা। কিন্তু কোনো দালাল এখনো পর্যন্ত আটক হয়নি।

পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় আজুম বাহার ও সখিনা বেগম জানিয়েছেন, ওই দালালেরা আগেও রোহিঙ্গাদের পাচার করেছিল। এটি জানার পরও তাঁরা টাকা দেন।

বিজিবি, পুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যরা সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টাকালে চলতি বছর সর্বশেষ ৫ এপ্রিল সন্ধ্যা পর্যন্ত ১২টি ঘটনায় ১৪৭ নারী, ১০৪ পুরুষ, ৬৯ শিশুসহ ৩২০ জন রোহিঙ্গা ও ২ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছেন। এসব ঘটনায় ১৩ জন দালালের সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সবাই উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, লম্বাশিয়া, ময়নারঘোনা, টেকনাফের উনছিপ্রাং, লেদা ও শালবন রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেন, উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। চিহ্নিত দালালদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। মূলত নতুন রোহিঙ্গারা প্রতারণার শিকার হচ্ছে। একই কথা বলেছেন টেকনাফ–২ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দারও।

সম্প্রতি মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টাকালে উদ্ধার হন লম্বাশিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা মোহসেনা বেগম। তিনি বলেন, পুরোনো রোহিঙ্গারা নতুন আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে কাউকে তারা মালয়েশিয়া নিতে পারেনি। উল্টো দালালের খপ্পরে পড়ে টাকাপয়সা হারাচ্ছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দালাল চক্রের কয়েকজনের নাম বেরিয়ে এসেছে। তাঁরা হলেন মোহাম্মদ ইলিয়াছ, হাফেজ মোহাম্মদ সেলিম, আঁতাত উদ্দিন, মোহাম্মদ আলম, মাহদুর করিম, মোহাম্মদ আইয়ুব, মো. নুরুল কবির, আমির হোসেন, মোহাম্মদ ফয়েজ, নূর হোসেন, মোহাম্মদ রশিদ, হাশিম উল্লাহ, মোহাম্মদ শাহ ও মোহাম্মদ হামিদ। তাঁরা সবাই উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা। সবাই গা ঢাকা দিয়ে আছেন।

টেকনাফ ও উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের কয়েকজন দলনেতা (মাঝি) মোহাম্মদ আলম, ছৈয়দুল আমিন, সলিম উল্লাহ, আবু ছিদ্দিক, মো. শাকের জানান, মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে দালাল চক্রের সদস্যরা কিছু নতুন রোহিঙ্গাকে শিবির থেকে বের করার চেষ্টা করছে। রোহিঙ্গা শিবিরে কিছু দালাল চক্রের সদস্য অবস্থান করছে, এ তথ্য নিশ্চিত করেন তাঁরা। তাঁরা বলেন, এদের শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) টেকনাফের সাধারণ সম্পাদক এ বি এম আবুল হোসেন বলেন, রোহিঙ্গাদের পাচারের ওপর বিশেষ নজর রাখা না হলে বড় ধরনের খেসারত দিতে হবে। রোহিঙ্গাদের দেখাদেখি স্থানীয়রা যেকোনো সময় এ ঝুঁকিপূর্ণ পথে পা বাড়াতে পারে।

উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, পুরোনো রোহিঙ্গা দালাল চক্রের কিছু সদস্য নতুন রোহিঙ্গাদের সমুদ্রপথে পাচারের চেষ্টা করছে। কিন্তু পুলিশের নজরদারি থাকায় তারা সুবিধা করতে পারছে না। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।