ঢাকা ০৬:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বার্সেলোনাকে হারিয়ে পিএসজির দাপুটে জয় Logo ইসরাইলের নির্বাচনে সম্ভাব্য ৪ পরিস্থিতি Logo দক্ষিণ আমেরিকায় রপ্তানি বাড়াতে উদ্যোগ, তিন মাসে আয় ১৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার Logo তিন বিভাগ সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী Logo ধর্ম যার যার, পরিচয় আমরা সবাই বাংলাদেশি : প্রধানমন্ত্রী Logo মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি Logo পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী Logo অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ৬৪ জেলায় সচেতনতা ও স্ক্রিনিং কার্যক্রমের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের Logo পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে একদিনে তিন বিভাগে সফর, রংপুরের পথে প্রধানমন্ত্রী Logo চাওয়া পাওয়া- আলেয়া মান্নান

বার্সেলোনাকে হারিয়ে পিএসজির দাপুটে জয়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৩:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

ক্রীড়া ডেস্ক: উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের হাইভোল্টেজ ম্যাচে বার্সেলোনাকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। পার্ক দে প্রিন্সেসে দুই দলের জমজমাট লড়াইয়ে শেষ দিকে তিন গোল করে দুর্দান্ত জয় তুলে নেয় ফরাসি জায়ান্টরা। ম্যাচের ৮১ মিনিটে ভিতিনহার গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ৮৬ মিনিটে ফাবিয়ান রুইজের গোলে জয় নিশ্চিত করে পিএসজি।

প্যারিসের পার্ক ডি প্রিন্সেসে ম্যাচের ২-২ সমতা ভাঙেন পর্তুগিজ প্লেমেকার ভিটিনহা। গত বছরের ব্যালন ডি’অর ভোটে তৃতীয় হওয়া এই ফুটবলার ৮১ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করেন।

এরপর ফাবিয়ান রুইজের গোলে জয় নিশ্চিত হয় পিএসজির। চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তিন ম্যাচের সবকটিতেই জিতেছে তারা। টানা তৃতীয় মৌসুমে এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে ফরাসি জায়ান্টরা।

একপর্যায়ে মনে হয়েছিল অন্তত এক পয়েন্ট নিয়ে ফিরবে বার্সেলোনা। এ বছরের ব্যালন ডি’অর জয়ের আশায় থাকা লামিন ইয়ামাল দলের হয়ে দ্বিতীয়বার সমতা ফেরান। এর আগে পিএসজিকে এগিয়ে দিয়েছিলেন ডিজায়ার দুয়ে।

বার্সেলোনার হয়ে তরুণ জাভি এসপার্ট গোল করার পর লুকাস এরনান্দেস পিএসজির দ্বিতীয় গোলটি করেন।

এই হার বার্সেলোনার জন্য ধাক্কা হলেও ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় পরবর্তী রাউন্ডে ওঠার সম্ভাবনায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ার কথা নয়।

ম্যাচের আগে চলতি মৌসুমে টানা ১১ জয়ের ধারায় ছিল বার্সেলোনা। সেই ধারায় ছন্দপতন ঘটলেও গোল করার ছন্দ ধরে রেখেছে দলটি। ইয়ামালের গোলটি ছিল চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার ৫০তম গোল।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সাত ম্যাচে জয় পেয়েছে পিএসজি। তবে ম্যাচটিতে চোটের কারণে ওসমান দেম্বেলে ও খভিচা কাভারাসখেলিয়াকে হারিয়েছে তারা। গত বছরের ব্যালন ডি’অরজয়ী দেম্বেলের চোট কতটা গুরুতর, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে দুয়ের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ছিল ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ। কোচ লুইস এনরিকের দল নকআউট পর্বে ওঠার পথেও ভালো অবস্থানে রয়েছে।

গত ১৩ বছরে চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি ছিল দুই দলের মধ্যে ১৪তম লড়াই। তবে বার্সেলোনার কাছে চলতি সপ্তাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি সম্ভবত এটি নয়। রোববার রিয়াল মাদ্রিদকে হারাতে পারলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে লা লিগায় নয় পয়েন্টে এগিয়ে যাবে তারা।

২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী রদ্রি ম্যাচের শুরুতে বার্সেলোনার বেঞ্চে ছিলেন। এর পেছনে এল ক্লাসিকো ম্যাচের বিষয়টি ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কিছুদিন চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকার পর একাদশে ফিরেছিলেন রাফিনিয়া।

গত সপ্তাহে ম্যানচেস্টার সিটিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে আসা পিএসজি ম্যাচ শুরুর ৯০ সেকেন্ডের মধ্যেই গোল পেতে পারত। কাভারাসখেলিয়ার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে ২০ মিনিটের মাথায় হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে দেম্বেলেকে মাঠ ছাড়তে হলে ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা।

তার পরিবর্তে মাঠে নামেন ফেরান তোরেস। এরপর বার্সেলোনাও চোটের কারণে দানি ওলমোকে হারায়।

৩৮ মিনিটে ইয়ামালের ভুলে এগিয়ে যায় পিএসজি। নিজেদের অর্ধে বলের নিয়ন্ত্রণ হারান এই তরুণ তারকা। বল পেয়ে দুয়ে দারুণ ফুটওয়ার্কে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে পরাস্ত করে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নিচু শটে গোল করেন।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। ফারমিন লোপেজের পাস পেয়ে এসপার্ট বক্সে ঢুকে জোরালো শটে নিজের সিনিয়র ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গোলটি করেন।

এরপর বার্সেলোনার হয়ে মাঠে নামেন রদ্রি। ম্যাচ ক্রমেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। তোরেসের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপর কর্নার থেকে হেডে গোল করে পিএসজিকে আবার এগিয়ে দেন এরনান্দেস।

নিয়মিত লেফট-ব্যাক নুনো মেন্দেস না থাকায় ইয়ামালকে সামলানোর দায়িত্ব পেয়েছিলেন এরনান্দেস। পিএসজির হয়ে এটি ছিল তার তৃতীয় গোল এবং ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির পর প্রথম।

গোলের মাধ্যমে দারুণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি পেলেও কিছুক্ষণ পর কোচ লুইস এনরিকে তাকে তুলে নেন। বদলি হিসেবে নামা ওয়ারেন জাইরে-এমেরির ভুলেই অবশ্য বার্সেলোনা আবার সমতায় ফেরে।

উঁচু হয়ে আসা বলের নিচে ঠিকমতো অবস্থান নিতে পারেননি জাইরে-এমেরি। সেই সুযোগে বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে গোল করেন ইয়ামাল। চলতি মৌসুমে এটি ছিল তার দশম গোল।

তবে শেষ হাসি হাসে পিএসজিই। ভিটিনহার গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর রুইজের গোলে জয় নিশ্চিত করে তারা। এর মাধ্যমে ইউরোপের ফুটবলে এবারের মৌসুমে হারানো কঠিন দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

বার্সেলোনাকে হারিয়ে পিএসজির দাপুটে জয়

আপডেট সময় : ০৫:১৩:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

ক্রীড়া ডেস্ক: উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের হাইভোল্টেজ ম্যাচে বার্সেলোনাকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। পার্ক দে প্রিন্সেসে দুই দলের জমজমাট লড়াইয়ে শেষ দিকে তিন গোল করে দুর্দান্ত জয় তুলে নেয় ফরাসি জায়ান্টরা। ম্যাচের ৮১ মিনিটে ভিতিনহার গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ৮৬ মিনিটে ফাবিয়ান রুইজের গোলে জয় নিশ্চিত করে পিএসজি।

প্যারিসের পার্ক ডি প্রিন্সেসে ম্যাচের ২-২ সমতা ভাঙেন পর্তুগিজ প্লেমেকার ভিটিনহা। গত বছরের ব্যালন ডি’অর ভোটে তৃতীয় হওয়া এই ফুটবলার ৮১ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করেন।

এরপর ফাবিয়ান রুইজের গোলে জয় নিশ্চিত হয় পিএসজির। চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তিন ম্যাচের সবকটিতেই জিতেছে তারা। টানা তৃতীয় মৌসুমে এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে ফরাসি জায়ান্টরা।

একপর্যায়ে মনে হয়েছিল অন্তত এক পয়েন্ট নিয়ে ফিরবে বার্সেলোনা। এ বছরের ব্যালন ডি’অর জয়ের আশায় থাকা লামিন ইয়ামাল দলের হয়ে দ্বিতীয়বার সমতা ফেরান। এর আগে পিএসজিকে এগিয়ে দিয়েছিলেন ডিজায়ার দুয়ে।

বার্সেলোনার হয়ে তরুণ জাভি এসপার্ট গোল করার পর লুকাস এরনান্দেস পিএসজির দ্বিতীয় গোলটি করেন।

এই হার বার্সেলোনার জন্য ধাক্কা হলেও ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় পরবর্তী রাউন্ডে ওঠার সম্ভাবনায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ার কথা নয়।

ম্যাচের আগে চলতি মৌসুমে টানা ১১ জয়ের ধারায় ছিল বার্সেলোনা। সেই ধারায় ছন্দপতন ঘটলেও গোল করার ছন্দ ধরে রেখেছে দলটি। ইয়ামালের গোলটি ছিল চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার ৫০তম গোল।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সাত ম্যাচে জয় পেয়েছে পিএসজি। তবে ম্যাচটিতে চোটের কারণে ওসমান দেম্বেলে ও খভিচা কাভারাসখেলিয়াকে হারিয়েছে তারা। গত বছরের ব্যালন ডি’অরজয়ী দেম্বেলের চোট কতটা গুরুতর, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে দুয়ের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ছিল ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ। কোচ লুইস এনরিকের দল নকআউট পর্বে ওঠার পথেও ভালো অবস্থানে রয়েছে।

গত ১৩ বছরে চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি ছিল দুই দলের মধ্যে ১৪তম লড়াই। তবে বার্সেলোনার কাছে চলতি সপ্তাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি সম্ভবত এটি নয়। রোববার রিয়াল মাদ্রিদকে হারাতে পারলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে লা লিগায় নয় পয়েন্টে এগিয়ে যাবে তারা।

২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী রদ্রি ম্যাচের শুরুতে বার্সেলোনার বেঞ্চে ছিলেন। এর পেছনে এল ক্লাসিকো ম্যাচের বিষয়টি ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কিছুদিন চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকার পর একাদশে ফিরেছিলেন রাফিনিয়া।

গত সপ্তাহে ম্যানচেস্টার সিটিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে আসা পিএসজি ম্যাচ শুরুর ৯০ সেকেন্ডের মধ্যেই গোল পেতে পারত। কাভারাসখেলিয়ার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে ২০ মিনিটের মাথায় হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে দেম্বেলেকে মাঠ ছাড়তে হলে ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা।

তার পরিবর্তে মাঠে নামেন ফেরান তোরেস। এরপর বার্সেলোনাও চোটের কারণে দানি ওলমোকে হারায়।

৩৮ মিনিটে ইয়ামালের ভুলে এগিয়ে যায় পিএসজি। নিজেদের অর্ধে বলের নিয়ন্ত্রণ হারান এই তরুণ তারকা। বল পেয়ে দুয়ে দারুণ ফুটওয়ার্কে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে পরাস্ত করে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নিচু শটে গোল করেন।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। ফারমিন লোপেজের পাস পেয়ে এসপার্ট বক্সে ঢুকে জোরালো শটে নিজের সিনিয়র ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গোলটি করেন।

এরপর বার্সেলোনার হয়ে মাঠে নামেন রদ্রি। ম্যাচ ক্রমেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। তোরেসের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপর কর্নার থেকে হেডে গোল করে পিএসজিকে আবার এগিয়ে দেন এরনান্দেস।

নিয়মিত লেফট-ব্যাক নুনো মেন্দেস না থাকায় ইয়ামালকে সামলানোর দায়িত্ব পেয়েছিলেন এরনান্দেস। পিএসজির হয়ে এটি ছিল তার তৃতীয় গোল এবং ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির পর প্রথম।

গোলের মাধ্যমে দারুণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি পেলেও কিছুক্ষণ পর কোচ লুইস এনরিকে তাকে তুলে নেন। বদলি হিসেবে নামা ওয়ারেন জাইরে-এমেরির ভুলেই অবশ্য বার্সেলোনা আবার সমতায় ফেরে।

উঁচু হয়ে আসা বলের নিচে ঠিকমতো অবস্থান নিতে পারেননি জাইরে-এমেরি। সেই সুযোগে বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে গোল করেন ইয়ামাল। চলতি মৌসুমে এটি ছিল তার দশম গোল।

তবে শেষ হাসি হাসে পিএসজিই। ভিটিনহার গোলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর রুইজের গোলে জয় নিশ্চিত করে তারা। এর মাধ্যমে ইউরোপের ফুটবলে এবারের মৌসুমে হারানো কঠিন দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।