ঢাকা ০৪:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :




গুইমারা ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসায় নির্ধারিত ফির তিনগুণ আদায়! কমিটির নির্দেশেই নিয়েছি- সুপার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮ ১৬ বার পড়া হয়েছে

গুইমারা ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসায় নির্ধারিত ফির তিনগুণ আদায়! কমিটির নির্দেশেই নিয়েছি- সুপার

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধিঃ খাগড়াছড়ির নবসৃষ্ট উপজেলা গুইমারার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ গুইমারা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা। শুরু থেকেই এই মাদ্রাসার সুনাম অক্ষুন্ন থাকলেও বর্তমানে মাদ্রাসার সুপার এবং একসময়ের জামায়াতের অন্যতম সংগঠক জায়নুল আবদিনের একচ্ছত্র সেচ্ছাচারিতার এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ব্যাপক।

দাখিল এবং এবতেদায়ী পরিক্ষার্থীদের থেকে অতিরিক্ত ফি নেয়া, সুপারের সেচ্ছাচারিতার এবং পারিবারিক কলহের জের ধরে অপছন্দের কারনে কোন কোন ছাত্র পরিক্ষাও দিতে পারছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে উক্ত মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে।

বর্তমান সরকার এসএসসি এবং দাখিল পরিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ফি করে দেন ১৫৫৫/-কিন্তু গুইমারা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রিসায় প্রতিটি ছাত্রের প্রায় তিনগুন ৪২৪০/- হারে ফি নিচ্ছে বলে জানা যায়। এ যেন “আলীবাবা চল্লিশ চোরের “চিচিংপাকের” গুপ্তধনের সন্ধান”। এতোটাকা কি জন্য প্রতিটি ছাত্রের কাছ থেকে আদায় করছেন? সুপারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বিভিন্ন খাতের কথা উল্লেখ করেন। তবে কোন ছাত্রকেই তিনি টাকার রশিদ বা স্লীপ দেননি। শুধু তাই নয় বর্তমান এবতেদায়ি পরিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও তিনি বাড়তি অর্থ আদায় করেছেন বলে জানা যায়।
মাদ্রাসার নিজস্ব দোকান প্লটসহ নানা ধরনের আয়ের উৎস থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক কেলেংকারী নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে মাদ্রাসাটির ২০১৯ সালের দাখিল পরীক্ষার্থী নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে প্রেম করার অভিযোগ এনে বিগত ১৬মে ২০১৮ইং তারিখে কৌশলগত ভাবে বহিস্কার করান তিনি। নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে কিন্তু ক্লাস করতে পারবে না বলে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভায় রেজুলেশন করানো হয়। এসময়ে ক্লাস না করেই কিভাবে পরীক্ষায় কৃতকার্য হবে অভিভাবকদের এমন প্রশ্নে হুংকার দিয়ে সুপার বলেন, হোটেল কর্মচারীর ছেলে বেশী লেখাপড়া করতে হয় না । এরপর নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ কালে অন্যের দোষ নুরুন্নবীর গায়ে দিয়ে এক বিষয়ে অকৃতকার্য দেখানো হয় বলে পরিক্ষার্থীর “মা” অভিযোগ সূত্রে জানান। ক্লাস করার সুযোগ না দিয়ে ২০১৯ সালের দাখিল পরীক্ষার ফি ও বেতন নেওয়ার পরও ফরম পিলআপ করতে দেওয়া হয়নি। ইতিপূর্বে আরো বেশ কিছু ছাত্রকে তিনি নানান অজুহাতে বহিস্কার করার অভিযোগ রয়েছে। পরিক্ষার ফরম পুরণ করতে না পেরে শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পড়ার টেবিল ছেড়ে অনাগত ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাওয়ার শংকায় দিশেহারা হয়ে মা ছেলে গুরছে বিভিন্নজনের কাছে।

এদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নুরুন্নবীর মা জানান অন্যকথা, ভাড়া বাসায় সুপার তাদের পাশাপাশি বসবাস করেন। ইতিপূর্বে সুপারের স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্য ছিলো তার। এসবের জের ধরে নানান অজুহাতে গরিব বলে তাদের হয়রানি করছে। নির্বাচনী পরীক্ষার সময় ২৬০০টাকা দিয়ে অংশগ্রহণ করতে দিলেও ফরম ফিলআপের নামে আরো ৪২৪০ টাকা দাবী করছে।

অসহায় মা দাবিকৃত টাকা দিতে না পেরে ঘুরছেন পরিচালনা কমিটির কর্তা ব্যক্তিদের দরজায়। এরপর কানপুল বিক্রি করে দাবীকৃত টাকাসহ গেলে সুপারের পারিবারিক ইস্যু টেনে স্বেচ্ছাচারি মনোভাব পোষন করে তালবাহানা করছেন বলে তিনি জানান।

বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গী আলমসহ অন্যান্য সদস্যরা ৫ দফায় বৈঠক করলেও সুপারের কারণে ঐক্যমতে পৌঁছতে পারেনি বলে পরিচালনা কমিটির সদস্য সূত্রে জানাযায়। পরিচালনা কমিটির সদস্য আনিসুল হক জানান, সুপার জায়নুল কমিটির কোন কথা মানে না। শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন নষ্ট করার অধিকার কারো নেই বলেও তিনি জানান। কমিটির সবাই একমত হলেও সুপারের কারণে ছেলেটি ফরম পিলআপ করতে পারছেনা। অপর সদস্য আবু তাহের লোকজনের উপস্থিতিতে জানান অনেক অনুরোধের পরও কাজ হয়নি তাই তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

গুইমারা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পলাশ চৌধুরী জানান, সরকারী নিয়মকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে মাদ্রাসার সুপার। তাঁর প্রতিবেশী গরীব শিক্ষার্থীর জন্য অনেক তদবির করেছেন কিন্তু সুপার সরকারী নয় নিজের নিয়মে কাজ করায় দুঃখ প্রকাশ করেন। অনেক শিক্ষার্থী, অভিভাবকের অভিযোগ শুনে অনিয়ম পরিহারের অনুরোধ করেছেন কিন্তু সুপার কোন কর্নপাত করেনি। তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে এমন শিক্ষার্থীদের তিনি অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে বাড়তি র্মাক দেওয়ার অভিযোগ করেন পলাশ চেীধুরী।

অপরদিকে ২০১৮ সালে সুপারের ছেলে প্রেমের চিঠিও নির্বাচনী পরীক্ষায় নকল সহ হল পর্যবেক্ষকের হাতে ধরা পড়ার পর নিজের ছেলে বলে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গরীব বলে অন্যদের শাস্তি অনেক ব্যতিক্রম।

এছাড়াও সুপারের নিজ এলাকা রামগড় গর্জনতলীর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং তার নিকট আত্মীয় সূত্রে জানাযায়, একসময়ের জামাতের অন্যতম সংগঠক জায়নুলের অনিয়মের অভিযোগ নতুন বাজার মাদ্রাসায় ও রয়েছে। সেখানে তিনি লাঞ্চিত হয়ে বর্তমানে গুইমারা মাদ্রাসায় স্থান নিয়েছেন। তার চারিত্রিক বিষয়ে ও প্রশ্ন তুলেছেন তারা

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




গুইমারা ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসায় নির্ধারিত ফির তিনগুণ আদায়! কমিটির নির্দেশেই নিয়েছি- সুপার

আপডেট সময় : ০১:০৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮

গুইমারা ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসায় নির্ধারিত ফির তিনগুণ আদায়! কমিটির নির্দেশেই নিয়েছি- সুপার

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধিঃ খাগড়াছড়ির নবসৃষ্ট উপজেলা গুইমারার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ গুইমারা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা। শুরু থেকেই এই মাদ্রাসার সুনাম অক্ষুন্ন থাকলেও বর্তমানে মাদ্রাসার সুপার এবং একসময়ের জামায়াতের অন্যতম সংগঠক জায়নুল আবদিনের একচ্ছত্র সেচ্ছাচারিতার এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ব্যাপক।

দাখিল এবং এবতেদায়ী পরিক্ষার্থীদের থেকে অতিরিক্ত ফি নেয়া, সুপারের সেচ্ছাচারিতার এবং পারিবারিক কলহের জের ধরে অপছন্দের কারনে কোন কোন ছাত্র পরিক্ষাও দিতে পারছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে উক্ত মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে।

বর্তমান সরকার এসএসসি এবং দাখিল পরিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ফি করে দেন ১৫৫৫/-কিন্তু গুইমারা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রিসায় প্রতিটি ছাত্রের প্রায় তিনগুন ৪২৪০/- হারে ফি নিচ্ছে বলে জানা যায়। এ যেন “আলীবাবা চল্লিশ চোরের “চিচিংপাকের” গুপ্তধনের সন্ধান”। এতোটাকা কি জন্য প্রতিটি ছাত্রের কাছ থেকে আদায় করছেন? সুপারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বিভিন্ন খাতের কথা উল্লেখ করেন। তবে কোন ছাত্রকেই তিনি টাকার রশিদ বা স্লীপ দেননি। শুধু তাই নয় বর্তমান এবতেদায়ি পরিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও তিনি বাড়তি অর্থ আদায় করেছেন বলে জানা যায়।
মাদ্রাসার নিজস্ব দোকান প্লটসহ নানা ধরনের আয়ের উৎস থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক কেলেংকারী নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে মাদ্রাসাটির ২০১৯ সালের দাখিল পরীক্ষার্থী নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে প্রেম করার অভিযোগ এনে বিগত ১৬মে ২০১৮ইং তারিখে কৌশলগত ভাবে বহিস্কার করান তিনি। নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে কিন্তু ক্লাস করতে পারবে না বলে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভায় রেজুলেশন করানো হয়। এসময়ে ক্লাস না করেই কিভাবে পরীক্ষায় কৃতকার্য হবে অভিভাবকদের এমন প্রশ্নে হুংকার দিয়ে সুপার বলেন, হোটেল কর্মচারীর ছেলে বেশী লেখাপড়া করতে হয় না । এরপর নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ কালে অন্যের দোষ নুরুন্নবীর গায়ে দিয়ে এক বিষয়ে অকৃতকার্য দেখানো হয় বলে পরিক্ষার্থীর “মা” অভিযোগ সূত্রে জানান। ক্লাস করার সুযোগ না দিয়ে ২০১৯ সালের দাখিল পরীক্ষার ফি ও বেতন নেওয়ার পরও ফরম পিলআপ করতে দেওয়া হয়নি। ইতিপূর্বে আরো বেশ কিছু ছাত্রকে তিনি নানান অজুহাতে বহিস্কার করার অভিযোগ রয়েছে। পরিক্ষার ফরম পুরণ করতে না পেরে শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পড়ার টেবিল ছেড়ে অনাগত ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাওয়ার শংকায় দিশেহারা হয়ে মা ছেলে গুরছে বিভিন্নজনের কাছে।

এদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নুরুন্নবীর মা জানান অন্যকথা, ভাড়া বাসায় সুপার তাদের পাশাপাশি বসবাস করেন। ইতিপূর্বে সুপারের স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্য ছিলো তার। এসবের জের ধরে নানান অজুহাতে গরিব বলে তাদের হয়রানি করছে। নির্বাচনী পরীক্ষার সময় ২৬০০টাকা দিয়ে অংশগ্রহণ করতে দিলেও ফরম ফিলআপের নামে আরো ৪২৪০ টাকা দাবী করছে।

অসহায় মা দাবিকৃত টাকা দিতে না পেরে ঘুরছেন পরিচালনা কমিটির কর্তা ব্যক্তিদের দরজায়। এরপর কানপুল বিক্রি করে দাবীকৃত টাকাসহ গেলে সুপারের পারিবারিক ইস্যু টেনে স্বেচ্ছাচারি মনোভাব পোষন করে তালবাহানা করছেন বলে তিনি জানান।

বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গী আলমসহ অন্যান্য সদস্যরা ৫ দফায় বৈঠক করলেও সুপারের কারণে ঐক্যমতে পৌঁছতে পারেনি বলে পরিচালনা কমিটির সদস্য সূত্রে জানাযায়। পরিচালনা কমিটির সদস্য আনিসুল হক জানান, সুপার জায়নুল কমিটির কোন কথা মানে না। শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন নষ্ট করার অধিকার কারো নেই বলেও তিনি জানান। কমিটির সবাই একমত হলেও সুপারের কারণে ছেলেটি ফরম পিলআপ করতে পারছেনা। অপর সদস্য আবু তাহের লোকজনের উপস্থিতিতে জানান অনেক অনুরোধের পরও কাজ হয়নি তাই তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

গুইমারা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পলাশ চৌধুরী জানান, সরকারী নিয়মকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে মাদ্রাসার সুপার। তাঁর প্রতিবেশী গরীব শিক্ষার্থীর জন্য অনেক তদবির করেছেন কিন্তু সুপার সরকারী নয় নিজের নিয়মে কাজ করায় দুঃখ প্রকাশ করেন। অনেক শিক্ষার্থী, অভিভাবকের অভিযোগ শুনে অনিয়ম পরিহারের অনুরোধ করেছেন কিন্তু সুপার কোন কর্নপাত করেনি। তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে এমন শিক্ষার্থীদের তিনি অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে বাড়তি র্মাক দেওয়ার অভিযোগ করেন পলাশ চেীধুরী।

অপরদিকে ২০১৮ সালে সুপারের ছেলে প্রেমের চিঠিও নির্বাচনী পরীক্ষায় নকল সহ হল পর্যবেক্ষকের হাতে ধরা পড়ার পর নিজের ছেলে বলে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গরীব বলে অন্যদের শাস্তি অনেক ব্যতিক্রম।

এছাড়াও সুপারের নিজ এলাকা রামগড় গর্জনতলীর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং তার নিকট আত্মীয় সূত্রে জানাযায়, একসময়ের জামাতের অন্যতম সংগঠক জায়নুলের অনিয়মের অভিযোগ নতুন বাজার মাদ্রাসায় ও রয়েছে। সেখানে তিনি লাঞ্চিত হয়ে বর্তমানে গুইমারা মাদ্রাসায় স্থান নিয়েছেন। তার চারিত্রিক বিষয়ে ও প্রশ্ন তুলেছেন তারা