ঢাকা ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল  Logo ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন: কর্মীরা পাবেন নিজ জেলায় কাজের সুযোগ Logo তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার Logo সিডিবিএল চালু করবে মোবাইল অ্যাপ Logo দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না : রিজভী Logo গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম Logo ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ফের মা হতে চলেছেন কিয়ারা Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : হানিফসহ ৪ আ. লীগ নেতার রায় যেকোনো দিন

ডিজিটাল ও আধুনিক সেবায় অনন্য ডেমরা ভূমি অফিস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫ ৯১৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ডিজিটাল ও হয়রানিমুক্ত সেবায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ডেমরা ভূমি অফিস। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাকির হোসেন ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল যোগদানের পর থেকেই এ অফিসে বদলে গেছে কাজের ধারা। জমির নামজারি, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় ও মিসকেস নিষ্পত্তি—সবখানেই এসেছে দ্রুততা ও স্বচ্ছতা।

জাকির হোসেন জানান, মানুষের ভোগান্তি কমানোই তার মূল লক্ষ্য। দালাল ও অসাধু কর্মকর্তাদের দৌরাত্ম্য যে কারণে ভূমি অফিস নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল, তা ভেঙে ইতোমধ্যেই আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, কিছু ভূমিদস্যু জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে নামজারি করতে চাইছে। এসবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ডেমরা ভূমি অফিস এখন পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল। প্রবেশপথে ফ্লো চার্ট ও সিটিজেন চার্টার টানানো রয়েছে। এতে নামজারি, খতিয়ান উত্তোলন, খাস জমি বন্দোবস্তসহ বিভিন্ন সেবার খরচ ও প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে লেখা আছে। ফলে সেবাগ্রহীতারা আগেই তথ্য জেনে সহজে কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন।

সেবাগ্রহীতাদের ভাষায়, আগের তুলনায় এখন নামজারি ও জমি খারিজের প্রক্রিয়া অনেক সহজ। আগে যেখানে ছয় মাস থেকে এক বছর লাগত, এখন তা হচ্ছে মাত্র ২৮ দিনে। এসিল্যান্ড স্যার সরাসরি সমস্যা শোনেন এবং দ্রুত সমাধান করেন—এমন মন্তব্য করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।

কর্মকর্তা হিসেবে মো. জাকির হোসেন পরিচিত সততা, নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতার জন্য। বিসিএস ৩৭তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা যোগদানের কয়েক মাসের মধ্যেই কয়েক হাজার নামজারি ও শতাধিক মিসকেস নিষ্পত্তি করেছেন। তবে এরই মধ্যে ভূমিদস্যু ও স্বার্থান্বেষী মহলের বিরাগভাজনও হয়েছেন তিনি। তার সাফল্যে ক্ষুব্ধ একটি চক্র মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সুনাম ক্ষুণ্নের চেষ্টা করছে।

ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের আয়তন ৩১ বর্গকিলোমিটার। এর অধীনে রয়েছে ২টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস—ডেমরা (মাতুয়াইল) ও নন্দীপাড়া। সার্কেলে মোট মৌজা ২৭টি, দাগ সংখ্যা ১,৬৬,৫৬১ এবং খতিয়ান সংখ্যা ৫৩,২৬৫। মোট জমির পরিমাণ ১১ হাজার ২৯১ একর, এর মধ্যে কৃষিজমি ৯২৩৭ একর এবং খাস জমি ৫৬৫ একর।

ভূমি সংরক্ষণ, ভিপি ও অর্পিত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, নামজারি, জমা খারিজ, ভূমি উন্নয়ন কর আদায়—সব ক্ষেত্রেই ডেমরা ভূমি অফিস এখন আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা দিচ্ছে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও জটিলতার জায়গা থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে এই কার্যালয় দ্রুতই একটি আস্থার প্রতীক হয়ে উঠছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

ডিজিটাল ও আধুনিক সেবায় অনন্য ডেমরা ভূমি অফিস

আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ডিজিটাল ও হয়রানিমুক্ত সেবায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ডেমরা ভূমি অফিস। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাকির হোসেন ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল যোগদানের পর থেকেই এ অফিসে বদলে গেছে কাজের ধারা। জমির নামজারি, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় ও মিসকেস নিষ্পত্তি—সবখানেই এসেছে দ্রুততা ও স্বচ্ছতা।

জাকির হোসেন জানান, মানুষের ভোগান্তি কমানোই তার মূল লক্ষ্য। দালাল ও অসাধু কর্মকর্তাদের দৌরাত্ম্য যে কারণে ভূমি অফিস নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল, তা ভেঙে ইতোমধ্যেই আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, কিছু ভূমিদস্যু জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে নামজারি করতে চাইছে। এসবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ডেমরা ভূমি অফিস এখন পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল। প্রবেশপথে ফ্লো চার্ট ও সিটিজেন চার্টার টানানো রয়েছে। এতে নামজারি, খতিয়ান উত্তোলন, খাস জমি বন্দোবস্তসহ বিভিন্ন সেবার খরচ ও প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে লেখা আছে। ফলে সেবাগ্রহীতারা আগেই তথ্য জেনে সহজে কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন।

সেবাগ্রহীতাদের ভাষায়, আগের তুলনায় এখন নামজারি ও জমি খারিজের প্রক্রিয়া অনেক সহজ। আগে যেখানে ছয় মাস থেকে এক বছর লাগত, এখন তা হচ্ছে মাত্র ২৮ দিনে। এসিল্যান্ড স্যার সরাসরি সমস্যা শোনেন এবং দ্রুত সমাধান করেন—এমন মন্তব্য করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।

কর্মকর্তা হিসেবে মো. জাকির হোসেন পরিচিত সততা, নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতার জন্য। বিসিএস ৩৭তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা যোগদানের কয়েক মাসের মধ্যেই কয়েক হাজার নামজারি ও শতাধিক মিসকেস নিষ্পত্তি করেছেন। তবে এরই মধ্যে ভূমিদস্যু ও স্বার্থান্বেষী মহলের বিরাগভাজনও হয়েছেন তিনি। তার সাফল্যে ক্ষুব্ধ একটি চক্র মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সুনাম ক্ষুণ্নের চেষ্টা করছে।

ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের আয়তন ৩১ বর্গকিলোমিটার। এর অধীনে রয়েছে ২টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস—ডেমরা (মাতুয়াইল) ও নন্দীপাড়া। সার্কেলে মোট মৌজা ২৭টি, দাগ সংখ্যা ১,৬৬,৫৬১ এবং খতিয়ান সংখ্যা ৫৩,২৬৫। মোট জমির পরিমাণ ১১ হাজার ২৯১ একর, এর মধ্যে কৃষিজমি ৯২৩৭ একর এবং খাস জমি ৫৬৫ একর।

ভূমি সংরক্ষণ, ভিপি ও অর্পিত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, নামজারি, জমা খারিজ, ভূমি উন্নয়ন কর আদায়—সব ক্ষেত্রেই ডেমরা ভূমি অফিস এখন আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা দিচ্ছে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও জটিলতার জায়গা থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে এই কার্যালয় দ্রুতই একটি আস্থার প্রতীক হয়ে উঠছে।