ঢাকা ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo এবার গ্র্যামির দৌড়ে ‘ধুরন্ধর ২’ Logo রিকশাচালক থেকে মুচি, ১ নভেম্বর থেকে সবাই বাংলা কিউআর ব্যবহার করতে পারবেন Logo প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে চাকরিচ্যুত ও গ্রেপ্তার করতে হবে: আখতার হোসেন Logo ৩৪৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ Logo ককরোচ পার্টির কর্মসূচি : দিল্লিতে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিসহ আটক ১০০০ Logo মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের স্বাস্থ্যনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক: তারেক রহমান Logo মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo যাত্রাবাড়ীতে বাসে তল্লাশি, ৯ হাজার ই’য়া’বা’স’হ গ্রে’প্তা’র ২ Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল 

বরিশাল নদী ফায়ার স্টেশনে দুর্নীতির মহোৎসব ||পর্ব:২

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫ ৯৯৮ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদন:

বরিশাল নদী ফায়ার স্টেশনের কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপচয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ডিপার্টমেন্টের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনিয়ম সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টির আড়ালে থাকায় পুরো ইউনিটের মান ও সুনাম আজ প্রশ্নবিদ্ধ।

বিশেষ করে বরিশাল নদী ফায়ার স্টেশনের আওতাধীন “অগ্নি যোদ্ধা” নামের একটি ফায়ার জাহাজকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ৩১ মাস আগে বরিশালে যুক্ত হওয়া এই জাহাজটি এতদিনে সর্বমোট চালানো হয়েছে মাত্র ৭০ ঘণ্টার মতো, যার মধ্যে প্রায় ৪০ ঘণ্টা খরচ হয়েছে খুলনা ডকইয়ার্ড থেকে ইঞ্জিন লাগানো ও ট্রায়ালসহ পটুয়াখালী হয়ে বরিশাল আসার যাত্রায়। অথচ এরপর বাকি পুরো সময়ে জাহাজটি মাত্র ৩০ ঘণ্টা চলেছে, যা তার মিটারে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তবে বাস্তবতা ভিন্ন -এই স্বল্প সময় ব্যবহারের মধ্যেও “মেইনটেনেন্স” এবং “নৌ টেস্ট”-এর নামে কাগজে কলমে তেল খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় কোটি টাকার উপরে, যেখানে প্রকৃতপক্ষে খরচ হওয়ার কথা বড়জোর ১০ লাখ টাকার তেল।

••বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র:-

>>তেল খরচে বিপুল দুর্নীতি:

প্রতি ঈদে দুই ইঞ্জিনের স্পিডবোট কাগজে দেখানো হলেও, বাস্তবে ডুবুরিদের পায়ে হেঁটেই ডিউটি করতে পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি ঈদের জন্য প্রায় ২০০০ লিটার তেল খরচ দেখানো হয়।

>>ভুয়া মেইনটেনেন্স ও ব্যাটারি অপচয়:

রুট টেস্ট না করানোর কারণে প্রায় প্রতি বছর ব্যাটারিগুলো অকেজো হয়—একটি জাহাজে প্রায় ১০-১১টি ব্যাটারি বারবার পরিবর্তন করা হয়েছে। খুলনা নৌবাহিনী ডক থেকে নির্ধারিত ১৬০ লিটার/ঘণ্টার পরিবর্তে ৩৪০ লিটার দেখিয়ে মিথ্যা খরচ দেখানো হয়।

>>. প্রশাসনিক ভয়ভীতি ও চেপে যাওয়া:

যে কেউ এই অনিয়ম নিয়ে কথা বললেই বদলি, শাস্তি বা প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হয়। স্পিডবোটে এক ইঞ্জিন ব্যবহার করেও দুই ইঞ্জিন দেখিয়ে বাজেট তোলা হয়।

>>জাহাজের তালা ও গোপনীয়তা:

প্রতিটি জলযান তালাবদ্ধ অবস্থায় রাখা হয়। অফিসার ও অফিস মুন্সির চাবি ছাড়া কেউ চালু করতে পারে না। ডিজেল ঢালার সময় পর্যন্ত ড্রাইভারদের পর্যন্ত জানানো হয় না কত লিটার তেল ঢালা হচ্ছে। গত ৮ মাসে জাহাজে মাত্র ২০০ লিটার ডিজেল দেওয়া হয়েছে—যা সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট।

>>তুলনামূলক বিশ্লেষণ:

ঢাকার সদরঘাট নদী ফায়ার স্টেশনের “অগ্নিশাসক” জাহাজ, যেখানে মেনটেনেন্সে মাত্র ১২ লিটার তেল খরচ দেখানো হয়, সেখানে বরিশালের জাহাজে সেই তুলনায় দশ গুণ বেশি খরচ দেখানো হয়, অথচ কার্যক্রম ও টার্ন আউটের হার ঢাকার চেয়ে অনেক কম। ১৫ দিনে বরিশালে ২০০০ লিটার তেল খরচ দেখানো হয়েছে, যেখানে একই সময়ে ঢাকায় মাত্র ২০০-২৫০ লিটার তেল খরচ হয়েছে।

>>সাধারণ কর্মচারীদের দাবী:

অফিসের এই জবাবদিহিহীন ও দুর্নীতিপরায়ণ ব্যবস্থাপনার ফলে সাধারণ ফায়ারকর্মীরা প্রতিনিয়ত মানসিক চাপে কাজ করছেন। ছোট কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার হরণ করা হচ্ছে এবং কর্মকর্তারা নিজেদের পক্ষে সমস্ত ব্যবস্থাপনা একচেটিয়াভাবে চালাচ্ছেন।

সবার পক্ষ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি, বরিশাল নদী ফায়ার স্টেশনে চলমান এই দুর্নীতির চক্র ভেঙে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু করা হোক, যেন সাধারণ কর্মচারীরাও ন্যায়বিচার এবং পেশাদার পরিবেশে কাজ করতে পারেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

বরিশাল নদী ফায়ার স্টেশনে দুর্নীতির মহোৎসব ||পর্ব:২

আপডেট সময় : ০৫:২৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫

বিশেষ প্রতিবেদন:

বরিশাল নদী ফায়ার স্টেশনের কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপচয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ডিপার্টমেন্টের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনিয়ম সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টির আড়ালে থাকায় পুরো ইউনিটের মান ও সুনাম আজ প্রশ্নবিদ্ধ।

বিশেষ করে বরিশাল নদী ফায়ার স্টেশনের আওতাধীন “অগ্নি যোদ্ধা” নামের একটি ফায়ার জাহাজকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ৩১ মাস আগে বরিশালে যুক্ত হওয়া এই জাহাজটি এতদিনে সর্বমোট চালানো হয়েছে মাত্র ৭০ ঘণ্টার মতো, যার মধ্যে প্রায় ৪০ ঘণ্টা খরচ হয়েছে খুলনা ডকইয়ার্ড থেকে ইঞ্জিন লাগানো ও ট্রায়ালসহ পটুয়াখালী হয়ে বরিশাল আসার যাত্রায়। অথচ এরপর বাকি পুরো সময়ে জাহাজটি মাত্র ৩০ ঘণ্টা চলেছে, যা তার মিটারে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তবে বাস্তবতা ভিন্ন -এই স্বল্প সময় ব্যবহারের মধ্যেও “মেইনটেনেন্স” এবং “নৌ টেস্ট”-এর নামে কাগজে কলমে তেল খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় কোটি টাকার উপরে, যেখানে প্রকৃতপক্ষে খরচ হওয়ার কথা বড়জোর ১০ লাখ টাকার তেল।

••বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র:-

>>তেল খরচে বিপুল দুর্নীতি:

প্রতি ঈদে দুই ইঞ্জিনের স্পিডবোট কাগজে দেখানো হলেও, বাস্তবে ডুবুরিদের পায়ে হেঁটেই ডিউটি করতে পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি ঈদের জন্য প্রায় ২০০০ লিটার তেল খরচ দেখানো হয়।

>>ভুয়া মেইনটেনেন্স ও ব্যাটারি অপচয়:

রুট টেস্ট না করানোর কারণে প্রায় প্রতি বছর ব্যাটারিগুলো অকেজো হয়—একটি জাহাজে প্রায় ১০-১১টি ব্যাটারি বারবার পরিবর্তন করা হয়েছে। খুলনা নৌবাহিনী ডক থেকে নির্ধারিত ১৬০ লিটার/ঘণ্টার পরিবর্তে ৩৪০ লিটার দেখিয়ে মিথ্যা খরচ দেখানো হয়।

>>. প্রশাসনিক ভয়ভীতি ও চেপে যাওয়া:

যে কেউ এই অনিয়ম নিয়ে কথা বললেই বদলি, শাস্তি বা প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হয়। স্পিডবোটে এক ইঞ্জিন ব্যবহার করেও দুই ইঞ্জিন দেখিয়ে বাজেট তোলা হয়।

>>জাহাজের তালা ও গোপনীয়তা:

প্রতিটি জলযান তালাবদ্ধ অবস্থায় রাখা হয়। অফিসার ও অফিস মুন্সির চাবি ছাড়া কেউ চালু করতে পারে না। ডিজেল ঢালার সময় পর্যন্ত ড্রাইভারদের পর্যন্ত জানানো হয় না কত লিটার তেল ঢালা হচ্ছে। গত ৮ মাসে জাহাজে মাত্র ২০০ লিটার ডিজেল দেওয়া হয়েছে—যা সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট।

>>তুলনামূলক বিশ্লেষণ:

ঢাকার সদরঘাট নদী ফায়ার স্টেশনের “অগ্নিশাসক” জাহাজ, যেখানে মেনটেনেন্সে মাত্র ১২ লিটার তেল খরচ দেখানো হয়, সেখানে বরিশালের জাহাজে সেই তুলনায় দশ গুণ বেশি খরচ দেখানো হয়, অথচ কার্যক্রম ও টার্ন আউটের হার ঢাকার চেয়ে অনেক কম। ১৫ দিনে বরিশালে ২০০০ লিটার তেল খরচ দেখানো হয়েছে, যেখানে একই সময়ে ঢাকায় মাত্র ২০০-২৫০ লিটার তেল খরচ হয়েছে।

>>সাধারণ কর্মচারীদের দাবী:

অফিসের এই জবাবদিহিহীন ও দুর্নীতিপরায়ণ ব্যবস্থাপনার ফলে সাধারণ ফায়ারকর্মীরা প্রতিনিয়ত মানসিক চাপে কাজ করছেন। ছোট কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার হরণ করা হচ্ছে এবং কর্মকর্তারা নিজেদের পক্ষে সমস্ত ব্যবস্থাপনা একচেটিয়াভাবে চালাচ্ছেন।

সবার পক্ষ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি, বরিশাল নদী ফায়ার স্টেশনে চলমান এই দুর্নীতির চক্র ভেঙে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু করা হোক, যেন সাধারণ কর্মচারীরাও ন্যায়বিচার এবং পেশাদার পরিবেশে কাজ করতে পারেন।