ঢাকা ০২:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডিএনসিসি মার্কেট এখন ধ্বংসস্তূপ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪২:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মার্চ ২০১৯ ২৯৬ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর গুলশানের ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মার্কেট এখন ধ্বংসস্তূপ। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বহু ব্যবসায়ীর স্বপ্ন। অনেকের পুড়েছে কষ্টার্জিত শেষ সম্বল। মার্কেটজুড়ে এখন শুধু আহাজারি আর কান্নার রোল। শনিবার (৩০ মার্চ) ভোর ৫টা ৪৮ মিনিটে আগুন লাগে গুলশান ১ নম্বরের এ মার্কেটে। খবর পেয়েই ছুটে আসেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশনের এ মার্কেটে প্রায় ১৮৮টি দোকান ছিলো। সবগুলোই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখানে বেশিরভাগই দুধ, মশলা, খাদ্য ও শিশু পণ্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিনে দেখা যায়, গুলশান ১ নম্বর পয়েন্টের এ মার্কেট এখন ধ্বংসস্তূপ। সবদিকে শুধু পুড়ে যাওয়া পণ্যের ছাই। কোনো কিছুই অবশিষ্ট নেই দোকানের। আবার কোনো দোকানের সামনে পড়ে আছে আলু, পেঁয়াজ। পুড়েছে ফ্রিজে থাকা মাছ, মুরগিও। কেউ সর্বস্ব হারিয়ে নির্বাক হয়ে দোকানের সামনে বসে আছেন। আর শুধু বিলাপ করছেন।

গুলশানের এ মার্কেটের ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার রাতে দোকান লাগিয়ে বাসায় যাই। কিন্তু কে জানতো, ভোরেই উপার্জনের এ সম্বল হারিয়ে যাবে।

মো. রিপন নামের এক ব্যবসায়ী বলছিলেন, এ দোকানেই ছিল তার সব সম্বল। পাইকারি মশলা বাজারজাত করতেন তিনি। সারা দেশের ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারি পণ্য বিক্রি করতেন। অনেক ব্যবসায়ীর কাছে বড় অংকের টাকা পাওনা রয়েছে। কিন্তু সব হিসাবের খাতা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দোকানে অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন এ ব্যবসায়ী।

আরিফ হাসান নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ভাই আমরা কেমনে বাঁচবো, উপার্জনের একমাত্র সম্বল দোকানটি হারালাম। অনেক কষ্টের জমানো টাকা দিয়েই এ স্বপ্ন সাজাই। কিন্তু আগুনে আমার স্বপ্ন ছাই করে দিলো।

শনিবার ভোরে লাগা এ আগুনে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট কাজ করে। পাশাপাশি কাজ করে সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা।

ঘটনাস্থলে উপস্থিথ হয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ বলেন, ২০১৭ সালে ডিএনসিসি মার্কেটে আগুন লাগার পর কর্তৃপক্ষকে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখার জন্য তিন/চারবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু নোটিশের জবাবে মার্কেট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এর আগে ২০১৭ সালের ৩ জানুয়ারি গুলশান-১ এর ডিএনসিসি মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিলো। প্রায় দুই বছরের ব্যবধানে ফের ডিএনসিসি মার্কেটের কাঁচাবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

ডিএনসিসি মার্কেট এখন ধ্বংসস্তূপ

আপডেট সময় : ০৫:৪২:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মার্চ ২০১৯

রাজধানীর গুলশানের ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মার্কেট এখন ধ্বংসস্তূপ। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বহু ব্যবসায়ীর স্বপ্ন। অনেকের পুড়েছে কষ্টার্জিত শেষ সম্বল। মার্কেটজুড়ে এখন শুধু আহাজারি আর কান্নার রোল। শনিবার (৩০ মার্চ) ভোর ৫টা ৪৮ মিনিটে আগুন লাগে গুলশান ১ নম্বরের এ মার্কেটে। খবর পেয়েই ছুটে আসেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশনের এ মার্কেটে প্রায় ১৮৮টি দোকান ছিলো। সবগুলোই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখানে বেশিরভাগই দুধ, মশলা, খাদ্য ও শিশু পণ্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিনে দেখা যায়, গুলশান ১ নম্বর পয়েন্টের এ মার্কেট এখন ধ্বংসস্তূপ। সবদিকে শুধু পুড়ে যাওয়া পণ্যের ছাই। কোনো কিছুই অবশিষ্ট নেই দোকানের। আবার কোনো দোকানের সামনে পড়ে আছে আলু, পেঁয়াজ। পুড়েছে ফ্রিজে থাকা মাছ, মুরগিও। কেউ সর্বস্ব হারিয়ে নির্বাক হয়ে দোকানের সামনে বসে আছেন। আর শুধু বিলাপ করছেন।

গুলশানের এ মার্কেটের ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার রাতে দোকান লাগিয়ে বাসায় যাই। কিন্তু কে জানতো, ভোরেই উপার্জনের এ সম্বল হারিয়ে যাবে।

মো. রিপন নামের এক ব্যবসায়ী বলছিলেন, এ দোকানেই ছিল তার সব সম্বল। পাইকারি মশলা বাজারজাত করতেন তিনি। সারা দেশের ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারি পণ্য বিক্রি করতেন। অনেক ব্যবসায়ীর কাছে বড় অংকের টাকা পাওনা রয়েছে। কিন্তু সব হিসাবের খাতা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দোকানে অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন এ ব্যবসায়ী।

আরিফ হাসান নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ভাই আমরা কেমনে বাঁচবো, উপার্জনের একমাত্র সম্বল দোকানটি হারালাম। অনেক কষ্টের জমানো টাকা দিয়েই এ স্বপ্ন সাজাই। কিন্তু আগুনে আমার স্বপ্ন ছাই করে দিলো।

শনিবার ভোরে লাগা এ আগুনে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট কাজ করে। পাশাপাশি কাজ করে সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা।

ঘটনাস্থলে উপস্থিথ হয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ বলেন, ২০১৭ সালে ডিএনসিসি মার্কেটে আগুন লাগার পর কর্তৃপক্ষকে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখার জন্য তিন/চারবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু নোটিশের জবাবে মার্কেট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এর আগে ২০১৭ সালের ৩ জানুয়ারি গুলশান-১ এর ডিএনসিসি মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিলো। প্রায় দুই বছরের ব্যবধানে ফের ডিএনসিসি মার্কেটের কাঁচাবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো।