কোটি টাকার চুক্তিত রাজউকে পদায়ন: সদস্য শামসুল আলমের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার ‘লোন চুক্তি’ নিয়ে তোলপাড়
- আপডেট সময় : ১০:২৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬ ২৭৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এ সদ্য নিয়োগ পাওয়া সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) শামসুল আলমকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বড় অংকের আর্থিক চুক্তির বিনিময়ে তিনি রাজউকে গুরুত্বপূর্ণ এই পদে বদলি হয়েছেন। আর দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোটি কোটি টাকার ‘লোন চুক্তি’ করে আলোচনায় এসেছেন এই যুগ্ম সচিব।
জানা গেছে, চলতি মাসের ৩ তারিখে শামসুল আলম রাজউকের সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন। এরপর ১০ ও ১১ তারিখের মধ্যে একের পর এক চুক্তিপত্র সম্পাদন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব চুক্তির কপি ঘুরে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন মহলে।
অভিযোগ অনুযায়ী, একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তিনি ১৬ কোটি টাকা গ্রহণের বিপরীতে ১৮ মাস পর ২০ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা চুক্তিতে ২৪ মাসে সুদ-লভ্যাংশসহ প্রায় ৫৬ কোটি টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এমন অন্তত চার থেকে পাঁচটি পৃথক চুক্তিপত্রের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে, এসব চুক্তিতে অর্থ পরিশোধের মাধ্যম হিসেবে “ক্যাশ অথবা কাজ” দেওয়ার উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ নগদ অর্থের পাশাপাশি রাজউকের বিভিন্ন প্রকল্প বা কাজ পাইয়ে দিয়েও দেনা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এটি কার্যত সরকারি পদ ব্যবহার করে ভবিষ্যৎ সুবিধা বণ্টনের আগাম অঙ্গীকারের সামিল।
সূত্র বলছে, রাজউকে পদায়নের পেছনে যে বড় অংকের আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, সেই অর্থের জোগান দিতেই তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এই ঋণ নিয়েছেন। পরে রাজউকের কাজ বণ্টনের মাধ্যমে সেই দেনা শোধের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
চুক্তিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে শামসুল আলম বিভিন্ন পক্ষকে নিজের ব্যাংক হিসাবের ব্ল্যাংক চেক দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। এর মধ্যে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ফাঁকা চেকের কপিও ঘুরছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
প্রশ্ন উঠেছে, একজন সরকারি কর্মকর্তা হঠাৎ কেন এত বিপুল অংকের ঋণ নিলেন? আর কী এমন ব্যবসা বা বিনিয়োগ রয়েছে, যার জন্য আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে শতকোটি টাকার বেশি অর্থ সুদসহ পরিশোধের দায় নিতে হলো?
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, শামসুল আলম অতীতেও বিভিন্ন লাভজনক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত সরকারের সময়েও তিনি সুবিধাজনক পোস্টিং পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আর এবার দেশের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি রাজউকে সদস্য হিসেবে যোগ দেওয়ার পরই তার বিরুদ্ধে উঠছে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শামসুল আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।






















