ঢাকা ০৮:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল  Logo ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন: কর্মীরা পাবেন নিজ জেলায় কাজের সুযোগ Logo তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার Logo সিডিবিএল চালু করবে মোবাইল অ্যাপ Logo দেশবিরোধী চক্রান্তের কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি আত্মসমর্পণ করবে না : রিজভী Logo গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নয়, নতুন চুক্তি চায় এনসিপি: নাহিদ ইসলাম Logo ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo ফের মা হতে চলেছেন কিয়ারা Logo মানবতাবিরোধী অপরাধ : হানিফসহ ৪ আ. লীগ নেতার রায় যেকোনো দিন

কেরানীগঞ্জে পিআইও রাশেদ খানের টেন্ডার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও কমিশন বাণিজ্য

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ ৩৫৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসকে ঘিরে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, টেন্ডার সিন্ডিকেট, কমিশন বাণিজ্য এবং সম্পদের অসামঞ্জস্যের নানা অভিযোগ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মোঃ রাশেদ খান। স্থানীয় সূত্র, কয়েকজন ঠিকাদার ও ভুক্তভোগীদের দাবি—উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে অনিয়মের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যেখানে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া, নিম্নমানের কাজের বিপরীতে পূর্ণাঙ্গ বিল উত্তোলন এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের কিছু কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে প্রকল্প বণ্টন ও বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়ায় একটি অঘোষিত সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের কার্যাদেশ ও বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৭ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হতো বলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে জনমনে প্রশ্ন বাড়ছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ ঘুরে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কাগজে-কলমে বড় অঙ্কের ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে অনেক কাজেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। কিছু স্থাপনায় অল্প সময়ের মধ্যেই ফাটল, ভাঙন ও ক্ষয়ের চিহ্ন দেখা গেছে বলেও দাবি করেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের মান যাচাই ও তদারকিতে কার্যকর নজরদারির অভাব রয়েছে।

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন ঠিকাদার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা অভিযোগ করেন, নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর বাইরে নতুন ঠিকাদারদের কাজ পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাদের ভাষ্য, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ায় একই গোষ্ঠী বারবার সুবিধা পাচ্ছে।

এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম নিয়েও নানা অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন ভুক্তভোগীর দাবি, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবর্তে প্রভাবশালীদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কোথাও কোথাও ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগও পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জের কয়েকজন সচেতন নাগরিক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য হলেও অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির কারণে প্রকৃত উন্নয়নের সুফল অনেক ক্ষেত্রে জনগণ পাচ্ছে না। তাদের ভাষ্য, একটি প্রকল্পে বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে কাজের মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন উঠছে।

স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক বলেন, “সরকার উন্নয়নের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে যদি সঠিক তদারকি না থাকে, তাহলে জনগণের টাকার অপচয়ই হবে। অনিয়মের অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।”

আরেকজন সমাজকর্মীর ভাষ্য, “টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে একই গোষ্ঠীর আধিপত্য চলতেই থাকবে। এতে যোগ্য ও সৎ ঠিকাদাররা প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে উন্নয়ন ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর।”

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়ন, ত্রাণ বিতরণ এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, অডিট বিভাগ ও দুর্নীতি দমন সংস্থার আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানান।

সম্পদের পরিমাণ ও জীবনযাত্রা নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগকারীদের দাবি, চাকরিজীবনের আয়ের তুলনায় সম্পদের বিস্তার অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রকল্পভিত্তিক অডিট, টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বাধীন পর্যবেক্ষণ এবং সম্পদের তথ্য যাচাই জরুরি হয়ে পড়েছে। তাদের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে আস্থা ফিরবে।

অভিযোগের বিষয়ে মোঃ রাশেদ খান-এর বক্তব্য পেতে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

কেরানীগঞ্জে পিআইও রাশেদ খানের টেন্ডার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও কমিশন বাণিজ্য

আপডেট সময় : ০৯:৫১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসকে ঘিরে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, টেন্ডার সিন্ডিকেট, কমিশন বাণিজ্য এবং সম্পদের অসামঞ্জস্যের নানা অভিযোগ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মোঃ রাশেদ খান। স্থানীয় সূত্র, কয়েকজন ঠিকাদার ও ভুক্তভোগীদের দাবি—উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে অনিয়মের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যেখানে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া, নিম্নমানের কাজের বিপরীতে পূর্ণাঙ্গ বিল উত্তোলন এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের কিছু কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে প্রকল্প বণ্টন ও বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়ায় একটি অঘোষিত সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের কার্যাদেশ ও বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৭ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হতো বলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে জনমনে প্রশ্ন বাড়ছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ ঘুরে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কাগজে-কলমে বড় অঙ্কের ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে অনেক কাজেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। কিছু স্থাপনায় অল্প সময়ের মধ্যেই ফাটল, ভাঙন ও ক্ষয়ের চিহ্ন দেখা গেছে বলেও দাবি করেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের মান যাচাই ও তদারকিতে কার্যকর নজরদারির অভাব রয়েছে।

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন ঠিকাদার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা অভিযোগ করেন, নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর বাইরে নতুন ঠিকাদারদের কাজ পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাদের ভাষ্য, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ায় একই গোষ্ঠী বারবার সুবিধা পাচ্ছে।

এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম নিয়েও নানা অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন ভুক্তভোগীর দাবি, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবর্তে প্রভাবশালীদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কোথাও কোথাও ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগও পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জের কয়েকজন সচেতন নাগরিক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য হলেও অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির কারণে প্রকৃত উন্নয়নের সুফল অনেক ক্ষেত্রে জনগণ পাচ্ছে না। তাদের ভাষ্য, একটি প্রকল্পে বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে কাজের মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন উঠছে।

স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক বলেন, “সরকার উন্নয়নের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে যদি সঠিক তদারকি না থাকে, তাহলে জনগণের টাকার অপচয়ই হবে। অনিয়মের অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।”

আরেকজন সমাজকর্মীর ভাষ্য, “টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে একই গোষ্ঠীর আধিপত্য চলতেই থাকবে। এতে যোগ্য ও সৎ ঠিকাদাররা প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে উন্নয়ন ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর।”

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়ন, ত্রাণ বিতরণ এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, অডিট বিভাগ ও দুর্নীতি দমন সংস্থার আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানান।

সম্পদের পরিমাণ ও জীবনযাত্রা নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগকারীদের দাবি, চাকরিজীবনের আয়ের তুলনায় সম্পদের বিস্তার অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রকল্পভিত্তিক অডিট, টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বাধীন পর্যবেক্ষণ এবং সম্পদের তথ্য যাচাই জরুরি হয়ে পড়েছে। তাদের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে আস্থা ফিরবে।

অভিযোগের বিষয়ে মোঃ রাশেদ খান-এর বক্তব্য পেতে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।