ঢাকা ০৪:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“পুরনো প্রশ্নফাঁসের বিচার হয়নি অথচ নতুন নিয়োগে নতুন অভিযোগ: ফায়ার সার্ভিসে কি সক্রিয় সেই পুরনো চক্র?”

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৬:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ ১৫২৬ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) জায়েদ কামাল দায়িত্ব গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত প্রথম নিয়োগ কার্যক্রমই প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। সে সময় চাকরিপ্রার্থীরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন। বিষয়টি দেশের বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং টেলিভিশন চ্যানেলে ব্যাপক প্রচার পায়।

কিন্তু অভিযোগকারীদের দাবি, সেই বিতর্কের সুষ্ঠু তদন্ত বা অভিযোগের নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই বর্তমানে নতুন আরেকটি নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। আর এই নিয়োগকে ঘিরেও আবারও নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি সিন্ডিকেট, বহিরাগত ব্যক্তির হস্তক্ষেপ এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।

থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরিবর্তে একই চক্র কি আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে?

নিয়োগ ও বদলি নিয়ন্ত্রণে ‘অদৃশ্য সিন্ডিকেট’?

ফায়ার সার্ভিসের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর অভিযোগ, বর্তমান নিয়োগ কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য হিসেবে আলোচনায় এসেছে পার্ক-ই-র্যাবিট নামের একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের মালিক নাফিসের নাম।

সরকারি কর্মকর্তা না হয়েও তিনি কীভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, ডিজির ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ব্যবহার করে নিয়োগ ও বদলি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে।

অভিযোগে নাম এসেছে ডিজির ব্যক্তিগত স্টাফ শামস আরমান, বদলি শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমরান এবং পরিচালক (প্রশাসন) দপ্তরের পিএস সফিকের। প্রশাসনের অভ্যন্তরে তাদের নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুরনো বিতর্কের মাঝেই নতুন নিয়োগ

চাকরিপ্রার্থীদের একটি অংশের অভিযোগ, পূর্বের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ওঠা প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্তের ফলাফল এখনও জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। এর মধ্যেই নতুন নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় অনেকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তাদের আশঙ্কা, অতীতের অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়াও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়তে পারে।

ই-ফায়ার লাইসেন্স ও সফটওয়্যার চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগ রয়েছে, ই-ফায়ার লাইসেন্স ব্যবস্থাপনার জন্য সফটওয়্যার উন্নয়নের কাজ কোনো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া লাইসেন্স আবেদন ফি আদায়ের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতিটি আবেদন থেকে ২৯১ টাকা করে আদায় করা হলেও সেই অর্থ সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না।

লাইসেন্স ফি বৃদ্ধি ও ব্যবসায়ীদের অসন্তোষ

ব্যবসায়ী মহলের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লাইসেন্স ফি বৃদ্ধির কারণে তাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান বিধিমালা ও নতুন পরিপত্রের মধ্যে অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রযুক্তি প্রকল্পে একক আধিপত্যের অভিযোগ

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সফটওয়্যার উন্নয়ন, ড্রোন ক্রয় এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন প্রকল্পে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতার বিষয়টি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

জমি অধিগ্রহণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ

পূর্বাচলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন ফায়ার স্টেশন স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, কিছু ক্ষেত্রে কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রকল্প গ্রহণ ও বিল নিষ্পত্তির ঘটনা ঘটেছে।

খাত সংশ্লিষ্টদের তদন্তের দাবি

সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী সংশ্লিষ্টদের মতে, অতীতের প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ থেকে শুরু করে বর্তমান নিয়োগ কার্যক্রমকে ঘিরে ওঠা নতুন অভিযোগগুলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি।

তাদের মতে, নিয়োগ, বদলি, সফটওয়্যার ক্রয়, লাইসেন্স ব্যবস্থাপনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ তদন্তই কেবল জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্নের জবাব দিতে পারে।

এ বিষয়ে মহাপরিচালক জাহেদ কামালের বক্তব্য জানতে সরকারি নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

“পুরনো প্রশ্নফাঁসের বিচার হয়নি অথচ নতুন নিয়োগে নতুন অভিযোগ: ফায়ার সার্ভিসে কি সক্রিয় সেই পুরনো চক্র?”

আপডেট সময় : ০৮:২৬:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) জায়েদ কামাল দায়িত্ব গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত প্রথম নিয়োগ কার্যক্রমই প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। সে সময় চাকরিপ্রার্থীরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন। বিষয়টি দেশের বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং টেলিভিশন চ্যানেলে ব্যাপক প্রচার পায়।

কিন্তু অভিযোগকারীদের দাবি, সেই বিতর্কের সুষ্ঠু তদন্ত বা অভিযোগের নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই বর্তমানে নতুন আরেকটি নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। আর এই নিয়োগকে ঘিরেও আবারও নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি সিন্ডিকেট, বহিরাগত ব্যক্তির হস্তক্ষেপ এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।

থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরিবর্তে একই চক্র কি আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে?

নিয়োগ ও বদলি নিয়ন্ত্রণে ‘অদৃশ্য সিন্ডিকেট’?

ফায়ার সার্ভিসের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর অভিযোগ, বর্তমান নিয়োগ কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য হিসেবে আলোচনায় এসেছে পার্ক-ই-র্যাবিট নামের একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের মালিক নাফিসের নাম।

সরকারি কর্মকর্তা না হয়েও তিনি কীভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, ডিজির ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ব্যবহার করে নিয়োগ ও বদলি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে।

অভিযোগে নাম এসেছে ডিজির ব্যক্তিগত স্টাফ শামস আরমান, বদলি শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমরান এবং পরিচালক (প্রশাসন) দপ্তরের পিএস সফিকের। প্রশাসনের অভ্যন্তরে তাদের নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুরনো বিতর্কের মাঝেই নতুন নিয়োগ

চাকরিপ্রার্থীদের একটি অংশের অভিযোগ, পূর্বের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ওঠা প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্তের ফলাফল এখনও জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। এর মধ্যেই নতুন নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় অনেকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তাদের আশঙ্কা, অতীতের অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়াও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়তে পারে।

ই-ফায়ার লাইসেন্স ও সফটওয়্যার চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগ রয়েছে, ই-ফায়ার লাইসেন্স ব্যবস্থাপনার জন্য সফটওয়্যার উন্নয়নের কাজ কোনো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া লাইসেন্স আবেদন ফি আদায়ের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতিটি আবেদন থেকে ২৯১ টাকা করে আদায় করা হলেও সেই অর্থ সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না।

লাইসেন্স ফি বৃদ্ধি ও ব্যবসায়ীদের অসন্তোষ

ব্যবসায়ী মহলের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লাইসেন্স ফি বৃদ্ধির কারণে তাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান বিধিমালা ও নতুন পরিপত্রের মধ্যে অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রযুক্তি প্রকল্পে একক আধিপত্যের অভিযোগ

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সফটওয়্যার উন্নয়ন, ড্রোন ক্রয় এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন প্রকল্পে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতার বিষয়টি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

জমি অধিগ্রহণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ

পূর্বাচলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন ফায়ার স্টেশন স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, কিছু ক্ষেত্রে কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রকল্প গ্রহণ ও বিল নিষ্পত্তির ঘটনা ঘটেছে।

খাত সংশ্লিষ্টদের তদন্তের দাবি

সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী সংশ্লিষ্টদের মতে, অতীতের প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ থেকে শুরু করে বর্তমান নিয়োগ কার্যক্রমকে ঘিরে ওঠা নতুন অভিযোগগুলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি।

তাদের মতে, নিয়োগ, বদলি, সফটওয়্যার ক্রয়, লাইসেন্স ব্যবস্থাপনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ তদন্তই কেবল জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্নের জবাব দিতে পারে।

এ বিষয়ে মহাপরিচালক জাহেদ কামালের বক্তব্য জানতে সরকারি নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।