ঢাকা ০৪:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এমডির বিরূদ্ধে প্রকাশিত সংবাদে জনতা ব্যাংকের প্রতিবাদ |  দুদকের তদন্ত ছাড়া নিষ্পাপ বলার সুযোগ নেই: প্রতিবেদক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৮:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬ ১০৫ বার পড়া হয়েছে

সকালের সংবাদ|| রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন -এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোঃ মজিবর রহমানকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ব্যাংকটির দাবি, সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাস্তবতা বিবর্জিত, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, যা জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে পারে।

২৩ মে ২০২৬ তারিখে ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক খলিলুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, “জনতা ব্যাংকের কয়েকশ কোটি টাকার লোকসান, বদলি বাণিজ্য ও কমিশন কেলেঙ্কারির কেন্দ্রে এমডি মজিবর রহমান” শীর্ষক সংবাদে উপস্থাপিত অভিযোগগুলো প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান এমডি মোঃ মজিবর রহমান ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ফলে ২০২৪ সালের প্রায় ৩ হাজার ৬৬ কোটি টাকার লোকসানের দায় এককভাবে তাঁর ওপর চাপানো অযৌক্তিক। ব্যাংকটি দাবি করে, দীর্ঘ ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনা, রাজনৈতিক বিবেচনায় বিতরণকৃত অনিরাপদ ঋণ এবং বিপুল খেলাপি ঋণের কারণেই আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে।

প্রতিবাদপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমান এমডি দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যাংকের সুশাসন নিশ্চিত, আমানত বৃদ্ধি, বোরোয়িং কমানো এবং নিরাপদ খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে ২০২৫ সালে প্রায় ২৮০০ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১০০০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ের দাবিও করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

ব্যাংকটির দাবি, বদলি বাণিজ্যের অভিযোগও ভিত্তিহীন। প্রশাসনিক প্রয়োজনেই দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকা কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়েছে। এতে অসন্তুষ্ট একটি পক্ষ অপপ্রচার চালাতে পারে বলে মন্তব্য করা হয়।

এছাড়া Orion Pharma-র ফায়ার ইন্স্যুরেন্স সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে ব্যাংক বলেছে, গ্রাহকের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতেই বীমা প্রিমিয়াম পরিশোধ করা হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়া শাখা পর্যায়ে সম্পন্ন হয়েছে। এতে এমডির ব্যক্তিগত কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না বলেও দাবি করা হয়।

এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, (দুদক)-এ জমা দেওয়া এক অভিযোগপত্রে জনতা ব্যাংক ও -এ অনিয়ম, আর্থিক ক্ষতি, বদলি বাণিজ্য ও কমিশন কেলেঙ্কারির অভিযোগ আনা হয়েছে এমডি মজিবর রহমানের বিরুদ্ধে।

অভিযোগে দাবি করা হয়, জনতা ব্যাংকের ইতিহাসে অন্যতম বড় আর্থিক লোকসান, অডিট অনিয়ম, নিয়োগ ও বদলিতে সিন্ডিকেট, ঘুষ বাণিজ্য এবং নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইন্স্যুরেন্স কমিশন গ্রহণের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত সুবিধা পাওয়া গ্রাহকদের পুনঃতফসিলে গড়িমসির অভিযোগও তোলা হয়।

প্রতিবেদকের বক্তব্য:

প্রতিবেদকের বক্তব্যে বলা হয়েছে, সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা দেওয়া একটি লিখিত অভিযোগের রিসিভ কপি বিশ্বস্ত সূত্র মারফত প্রতিবেদকের হাতে আসে। সংবাদটি মূলত ওই অভিযোগপত্রে উত্থাপিত তথ্যের ভিত্তিতেই প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের আগে এমডি মজিবুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এমডির বিরূদ্ধে উত্থাপিত ব্যাক্তিগত অভিযোগ সম্পর্কে তার ব্যাংক কর্মকর্তারা রহস্যজনকভাবে বারংবার প্রাতিষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

সংবাদ প্রকাশের পরে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের চিঠিতে প্রতিবাদ জানালেও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের থাকাকালীন দুর্নীতির বিষয়টি অস্পষ্ট রয়ে গেছে। মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত দুর্নীতির দায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রতিবাদ জানিয়েছেন, অপর ব্যাংকে থাকাকালীন যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে সেগুলো সম্পর্কে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদকের মতে, যেহেতু অভিযোগগুলো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা, আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট, তাই সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে দুদকের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া অভিযোগ থেকে জনতা ব্যাংকের এমডি মোঃ মজিবর রহমানকে সম্পূর্ণভাবে দায়মুক্ত বা নিষ্পাপ বলার সুযোগ নেই।

একইসঙ্গে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে বলা হয়, অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও আইনগত মূল্যায়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

এমডির বিরূদ্ধে প্রকাশিত সংবাদে জনতা ব্যাংকের প্রতিবাদ |  দুদকের তদন্ত ছাড়া নিষ্পাপ বলার সুযোগ নেই: প্রতিবেদক

আপডেট সময় : ০৬:০৮:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

সকালের সংবাদ|| রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন -এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোঃ মজিবর রহমানকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ব্যাংকটির দাবি, সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাস্তবতা বিবর্জিত, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, যা জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে পারে।

২৩ মে ২০২৬ তারিখে ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক খলিলুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, “জনতা ব্যাংকের কয়েকশ কোটি টাকার লোকসান, বদলি বাণিজ্য ও কমিশন কেলেঙ্কারির কেন্দ্রে এমডি মজিবর রহমান” শীর্ষক সংবাদে উপস্থাপিত অভিযোগগুলো প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান এমডি মোঃ মজিবর রহমান ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ফলে ২০২৪ সালের প্রায় ৩ হাজার ৬৬ কোটি টাকার লোকসানের দায় এককভাবে তাঁর ওপর চাপানো অযৌক্তিক। ব্যাংকটি দাবি করে, দীর্ঘ ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনা, রাজনৈতিক বিবেচনায় বিতরণকৃত অনিরাপদ ঋণ এবং বিপুল খেলাপি ঋণের কারণেই আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে।

প্রতিবাদপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমান এমডি দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যাংকের সুশাসন নিশ্চিত, আমানত বৃদ্ধি, বোরোয়িং কমানো এবং নিরাপদ খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে ২০২৫ সালে প্রায় ২৮০০ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১০০০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ের দাবিও করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

ব্যাংকটির দাবি, বদলি বাণিজ্যের অভিযোগও ভিত্তিহীন। প্রশাসনিক প্রয়োজনেই দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকা কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়েছে। এতে অসন্তুষ্ট একটি পক্ষ অপপ্রচার চালাতে পারে বলে মন্তব্য করা হয়।

এছাড়া Orion Pharma-র ফায়ার ইন্স্যুরেন্স সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে ব্যাংক বলেছে, গ্রাহকের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতেই বীমা প্রিমিয়াম পরিশোধ করা হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়া শাখা পর্যায়ে সম্পন্ন হয়েছে। এতে এমডির ব্যক্তিগত কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না বলেও দাবি করা হয়।

এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, (দুদক)-এ জমা দেওয়া এক অভিযোগপত্রে জনতা ব্যাংক ও -এ অনিয়ম, আর্থিক ক্ষতি, বদলি বাণিজ্য ও কমিশন কেলেঙ্কারির অভিযোগ আনা হয়েছে এমডি মজিবর রহমানের বিরুদ্ধে।

অভিযোগে দাবি করা হয়, জনতা ব্যাংকের ইতিহাসে অন্যতম বড় আর্থিক লোকসান, অডিট অনিয়ম, নিয়োগ ও বদলিতে সিন্ডিকেট, ঘুষ বাণিজ্য এবং নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইন্স্যুরেন্স কমিশন গ্রহণের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত সুবিধা পাওয়া গ্রাহকদের পুনঃতফসিলে গড়িমসির অভিযোগও তোলা হয়।

প্রতিবেদকের বক্তব্য:

প্রতিবেদকের বক্তব্যে বলা হয়েছে, সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা দেওয়া একটি লিখিত অভিযোগের রিসিভ কপি বিশ্বস্ত সূত্র মারফত প্রতিবেদকের হাতে আসে। সংবাদটি মূলত ওই অভিযোগপত্রে উত্থাপিত তথ্যের ভিত্তিতেই প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের আগে এমডি মজিবুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এমডির বিরূদ্ধে উত্থাপিত ব্যাক্তিগত অভিযোগ সম্পর্কে তার ব্যাংক কর্মকর্তারা রহস্যজনকভাবে বারংবার প্রাতিষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

সংবাদ প্রকাশের পরে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের চিঠিতে প্রতিবাদ জানালেও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের থাকাকালীন দুর্নীতির বিষয়টি অস্পষ্ট রয়ে গেছে। মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত দুর্নীতির দায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রতিবাদ জানিয়েছেন, অপর ব্যাংকে থাকাকালীন যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে সেগুলো সম্পর্কে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদকের মতে, যেহেতু অভিযোগগুলো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা, আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট, তাই সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে দুদকের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া অভিযোগ থেকে জনতা ব্যাংকের এমডি মোঃ মজিবর রহমানকে সম্পূর্ণভাবে দায়মুক্ত বা নিষ্পাপ বলার সুযোগ নেই।

একইসঙ্গে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে বলা হয়, অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও আইনগত মূল্যায়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।