৬০০ কোটি টাকার প্রকল্পে হরিলুট
বিএডিসির বীজ বিপণন প্রকল্পে ১২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পিডি মাহমুদুল আলমের বিরুদ্ধে
- আপডেট সময় : ০২:২৬:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ১৬৬ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষি উন্নয়নের নামে নেওয়া শত শত কোটি টাকার প্রকল্পকে ঘিরে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কৃষি বীজ বিপণন প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মাহমুদুল আলম। প্রায় ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থেকে তিনি ও তার ঘনিষ্ঠ সিন্ডিকেট অন্তত ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, প্রকল্পের শুরুতে কৃষি খাতে উন্নয়ন ও মানসম্মত বীজ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তা পরিণত হয় দুর্নীতির অভয়ারণ্যে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে কমিশন বাণিজ্য, টেন্ডার কারসাজি, বিল বৃদ্ধি এবং নিম্নমানের সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে সরকারের বিপুল অর্থ লোপাট করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, মাহমুদুল আলম দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে “কমিশন” নামে নিয়মিত ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে আসছিলেন। ঠিকাদারদের সঙ্গে গড়ে তোলেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট। কাজ পাইয়ে দেওয়া, বিল দ্রুত ছাড় এবং অতিরিক্ত মূল্য সংযোজনের বিনিময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। তার নিয়ন্ত্রণে থাকা এই সিন্ডিকেট প্রকল্পের অর্থ লুটপাটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
অভিযোগ আরও রয়েছে, প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে অস্বচ্ছতা ও অনিয়ম এতটাই প্রকট হয়ে ওঠে যে একপর্যায়ে তাকে প্রকল্প পরিচালক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে এরপরও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অবৈধভাবে অর্জিত বিপুল অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পরিবার নিয়ে দেশত্যাগের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন মাহমুদুল আলম। এ ঘটনায় সচেতন মহল দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।
বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম বিভাগে দায়িত্ব পালন করলেও অতীতের নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক অঙ্গনে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ অডিট ও স্বাধীন তদন্ত ছাড়া প্রকৃত দুর্নীতির চিত্র সামনে আসবে না।
সচেতন মহলের মতে, কৃষকের স্বার্থ ও সরকারি অর্থের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে মাহমুদুল আলমের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত, সম্পদের হিসাব যাচাই এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান এখন সময়ের দাবি।
দেখুন, ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব। পরবর্তী পর্বে থাকছে আরও বিস্ফোরক তথ্য।

























