কাস্টমস কমিশনার শওকত আলী সাদীর “ঢাকা টু চট্টগ্রাম দূর্নীতির এক্সপ্রেস”!
- আপডেট সময় : ১১:৩৭:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে

ঢাকায় দুর্নীতির মহা উৎসব শেষে বর্তমান কর্মস্থল চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস যেন এক দুর্নীতির এক্সপ্রেস এ পরিণত করেছেন কমিশনার শওকত আলী সাদী! তাই অনেকেই বলে থাকেন, কাস্টমস কমিশনার শওকত আলী সাদীর “ঢাকা টু চট্টগ্রাম দূর্নীতির এক্সপ্রেস”!
নিজস্ব প্রতিনিধি: সদ্য যোগদান করা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট চট্টগ্রাম কমিশনার শওকত আলী সাদীর বিরুদ্ধে বর্তমান ও পূর্ববর্তী কর্মস্থলের সময়কার একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই চট্টগ্রামে বড় শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট যোগাযোগ গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে, যা রাষ্ট্রীয় রাজস্বের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি আবুল খায়ের গ্রুপসহ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আমদানি, রফতানি ও ভ্যাট সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে সরকারকে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে কেপিএফসহ আরও কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও তার ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনদেন নিয়ে।
চট্টগ্রামের এসব অভিযোগের পাশাপাশি ঢাকায় কর্মরত থাকার সময়ের ঘটনাগুলোও নতুন করে সামনে আসছে। বিশেষ করে পুরান ঢাকার নাহিদ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ২৭৫ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের মতে, এই একটি ঘটনায়ই শওকত আলী সাদীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত।
সূত্র অনুযায়ী, ২০২১ সালে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর নাহিদ এন্টারপ্রাইজের বিপুল ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উদ্ঘাটন করে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি পাঁচ বছরে দাখিলপত্রে বিক্রয়মূল্য দেখিয়েছে প্রায় ২৯২ কোটি টাকা, অথচ প্রকৃত বিক্রয়মূল্য ছিল এক হাজার ৫৪০ কোটি টাকার বেশি। এই হিসাব অনুযায়ী ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় প্রায় ২৭৫ কোটি টাকা।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তী সময়ে একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়। কারণ দর্শানোর নোটিশ, শুনানি ও একাধিক কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে বিষয়টি ধীরে ধীরে ভিন্ন পথে প্রবাহিত করা হয় বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের মতে, এই পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে শওকত আলী সাদীসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার ভূমিকা ছিল। এমনকি প্রায় ২৫ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে নাহিদ এন্টারপ্রাইজসহ সংশ্লিষ্টদের ভ্যাট ফাঁকির ঘটনা আড়াল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এই ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন শওকত আলী সাদী ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। দুদকের দুই সদস্যের একটি টিম ইতোমধ্যে তদন্তকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ভ্যাট গোয়েন্দা ও কাস্টমস কমিশনারেট থেকে সাত হাজারের বেশি পৃষ্ঠার নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নথি যাচাই করে অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে তদন্তের গতি ধীর হওয়ায় প্রকৃত সত্য চাপা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কাস্টমস ও রাজস্ব বিভাগের সাবেক ও বর্তমান একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, এনবিআরের ইতিহাসে এত বড় অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকির ঘটনা এভাবে নিষ্পত্তি করা নজিরবিহীন। তাদের মতে, উচ্চপর্যায়ের প্রভাব ও স্বার্থ জড়িত না থাকলে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে তারা উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শওকত আলী সাদী কিংবা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সচেতন মহল মনে করছে, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় তার বিরুদ্ধে ওঠা বর্তমান ও অতীতের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত না হলে রাজস্ব ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। তারা দ্রুত স্বচ্ছ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।





















