ঢাকা ০৬:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo এবার গ্র্যামির দৌড়ে ‘ধুরন্ধর ২’ Logo রিকশাচালক থেকে মুচি, ১ নভেম্বর থেকে সবাই বাংলা কিউআর ব্যবহার করতে পারবেন Logo প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে চাকরিচ্যুত ও গ্রেপ্তার করতে হবে: আখতার হোসেন Logo ৩৪৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ Logo ককরোচ পার্টির কর্মসূচি : দিল্লিতে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিসহ আটক ১০০০ Logo মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের স্বাস্থ্যনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক: তারেক রহমান Logo মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo যাত্রাবাড়ীতে বাসে তল্লাশি, ৯ হাজার ই’য়া’বা’স’হ গ্রে’প্তা’র ২ Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল 

ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে শিশু বিক্রি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৭:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ মে ২০২৩ ৩৮০ বার পড়া হয়েছে

সিসিটিভি ফুটেজে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছবি: র‌্যাবের সৌজন্যে

ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে শিশু বিক্রি

সিসিটিভি ফুটেজে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছবি: র‌্যাবের সৌজন্যে
সিসিটিভি ফুটেজে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছবি: র‌্যাবের সৌজন্যে

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকা থেকে ২৩ দিন আগে ৩ বছরের শিশু মো. সিদ্দিককে অপহরণ করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা ও গোপালগঞ্জে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব-২। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ২৬ এপ্রিল দুপুরে মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় বাসার পাশে শিশু সিদ্দিককে নিয়ে খেলছিল তার আট বছর বয়সী বোন হুমায়রা। তাদের সঙ্গে আরও ছয় থেকে সাতটি শিশু ছিল। এক ব্যক্তি ওই শিশুদের চকলেট খাওয়ান। তারপর কৌশলে তিন বছর বয়সী শিশু সিদ্দিককে নিয়ে পালিয়ে যান।
সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-২–এর অধিনায়ক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন খান বলেন, তদন্তে নেমে সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় নিশ্চিত হওয়া যায়, অপহরণকারী ব্যক্তির নাম পীযূষ কান্তি পাল (২৯)। পীযূষ ও তাঁর স্ত্রী রিদ্ধিতা পাল (২৫) গোপালগঞ্জের এক নিঃসন্তান দম্পতির (পল্লব কান্তি বিশ্বাস (৫২) ও বেবী সরকার (৪৬)) কাছে শিশুটিকে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করেন। সুজন সুতার (৩২) নামের এক ব্যক্তি এ ক্ষেত্রে মধ্যস্থতা করেন। শিশু অপহরণ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শিশু অপহরণ ও বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা
শিশু অপহরণ ও বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা

ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে শিশু বিক্রি
র‌্যাব বলছে, পীযূষ কান্তি পাল একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় স্পা সেন্টারে কাজ করতেন। সেখানেই রিদ্ধিতা পালের সঙ্গে পরিচয় হয়। ২০২০ সালে তাঁরা বিয়ে করেন। স্পা সেন্টারে কাজ করার সময় মানব পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন পীযূষ কান্তি। গত বছর মানব পাচারের অভিযোগে বনানী থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার কিছুদিন পর তিনি জামিনে মুক্ত হন। এই দম্পতি ফেসবুকে ‘সনাতনী উদ্যোক্তা ফোরাম (এসইউএফ)’ নামে একটি গ্রুপে ‘শিশু দত্তকের’ বিজ্ঞাপন দেন। সেই গ্রুপে সুজন সুতারের সঙ্গে রিদ্ধিতা পালের পরিচয় হয় এবং টাকার বিনিয়মে শিশু দত্তক দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

র‌্যাব-২–এর অধিনায়ক আনোয়ার হোসেন খান বলেন, পীযূষের স্ত্রী রিদ্ধিতা পাল নিজের সন্তানের ছবি সুজন সুতারকে পাঠিয়ে বলেন, ‘এই ছেলেকে দত্তক দেওয়া হবে, আপনাদের পছন্দ হয় কি না বলেন।’ শিশুটিকে রিদ্ধিতার বাসার গৃহকর্মীর সন্তান বলে পরিচয় দেওয়া হয়। ওই গৃহকর্মীকে তাঁর স্বামী ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় শিশুটিকে ‘টাকার বিনিময়ে দত্তক’ দেওয়া হবে বলেও জানান রিদ্ধিতা।
দুই পক্ষের মধ্যস্থতার পর ২৬ এপ্রিল দুপুরে পীযূষ তাঁর বাসা সাভার থেকে ঢাকা উদ্যান এলাকায় আসেন। সেখানে কয়েকটি শিশু খেলছিল। তাদের চকলেট খাইয়ে তিন বছরের শিশু সিদ্দিককে অপহরণ করেন। বিকেলে পীযূষ-রিদ্ধিতা দম্পতি রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় এসে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে সুজনের কাছে শিশুটিকে বিক্রি করে দেন।

সুজন সুতারকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, সুজনের স্ত্রীর বড় বোন বেবী সরকার এবং তাঁর (বেবী) স্বামী পল্লব কান্তি বিশ্বাস নিঃসন্তান। তাঁদের একটি সন্তান প্রয়োজন ছিল। সুজন ২৬ এপ্রিল রাতে গোপালগঞ্জে বেবী সরকার-পল্লব কান্তি দম্পতির বাসায় শিশুটিকে পৌঁছে দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে শিশু বিক্রি

আপডেট সময় : ০৬:৫৭:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ মে ২০২৩

ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে শিশু বিক্রি

সিসিটিভি ফুটেজে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছবি: র‌্যাবের সৌজন্যে
সিসিটিভি ফুটেজে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছবি: র‌্যাবের সৌজন্যে

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকা থেকে ২৩ দিন আগে ৩ বছরের শিশু মো. সিদ্দিককে অপহরণ করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা ও গোপালগঞ্জে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব-২। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ২৬ এপ্রিল দুপুরে মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় বাসার পাশে শিশু সিদ্দিককে নিয়ে খেলছিল তার আট বছর বয়সী বোন হুমায়রা। তাদের সঙ্গে আরও ছয় থেকে সাতটি শিশু ছিল। এক ব্যক্তি ওই শিশুদের চকলেট খাওয়ান। তারপর কৌশলে তিন বছর বয়সী শিশু সিদ্দিককে নিয়ে পালিয়ে যান।
সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-২–এর অধিনায়ক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন খান বলেন, তদন্তে নেমে সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় নিশ্চিত হওয়া যায়, অপহরণকারী ব্যক্তির নাম পীযূষ কান্তি পাল (২৯)। পীযূষ ও তাঁর স্ত্রী রিদ্ধিতা পাল (২৫) গোপালগঞ্জের এক নিঃসন্তান দম্পতির (পল্লব কান্তি বিশ্বাস (৫২) ও বেবী সরকার (৪৬)) কাছে শিশুটিকে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করেন। সুজন সুতার (৩২) নামের এক ব্যক্তি এ ক্ষেত্রে মধ্যস্থতা করেন। শিশু অপহরণ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শিশু অপহরণ ও বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা
শিশু অপহরণ ও বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা

ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে শিশু বিক্রি
র‌্যাব বলছে, পীযূষ কান্তি পাল একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় স্পা সেন্টারে কাজ করতেন। সেখানেই রিদ্ধিতা পালের সঙ্গে পরিচয় হয়। ২০২০ সালে তাঁরা বিয়ে করেন। স্পা সেন্টারে কাজ করার সময় মানব পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন পীযূষ কান্তি। গত বছর মানব পাচারের অভিযোগে বনানী থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার কিছুদিন পর তিনি জামিনে মুক্ত হন। এই দম্পতি ফেসবুকে ‘সনাতনী উদ্যোক্তা ফোরাম (এসইউএফ)’ নামে একটি গ্রুপে ‘শিশু দত্তকের’ বিজ্ঞাপন দেন। সেই গ্রুপে সুজন সুতারের সঙ্গে রিদ্ধিতা পালের পরিচয় হয় এবং টাকার বিনিয়মে শিশু দত্তক দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

র‌্যাব-২–এর অধিনায়ক আনোয়ার হোসেন খান বলেন, পীযূষের স্ত্রী রিদ্ধিতা পাল নিজের সন্তানের ছবি সুজন সুতারকে পাঠিয়ে বলেন, ‘এই ছেলেকে দত্তক দেওয়া হবে, আপনাদের পছন্দ হয় কি না বলেন।’ শিশুটিকে রিদ্ধিতার বাসার গৃহকর্মীর সন্তান বলে পরিচয় দেওয়া হয়। ওই গৃহকর্মীকে তাঁর স্বামী ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় শিশুটিকে ‘টাকার বিনিময়ে দত্তক’ দেওয়া হবে বলেও জানান রিদ্ধিতা।
দুই পক্ষের মধ্যস্থতার পর ২৬ এপ্রিল দুপুরে পীযূষ তাঁর বাসা সাভার থেকে ঢাকা উদ্যান এলাকায় আসেন। সেখানে কয়েকটি শিশু খেলছিল। তাদের চকলেট খাইয়ে তিন বছরের শিশু সিদ্দিককে অপহরণ করেন। বিকেলে পীযূষ-রিদ্ধিতা দম্পতি রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় এসে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে সুজনের কাছে শিশুটিকে বিক্রি করে দেন।

সুজন সুতারকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, সুজনের স্ত্রীর বড় বোন বেবী সরকার এবং তাঁর (বেবী) স্বামী পল্লব কান্তি বিশ্বাস নিঃসন্তান। তাঁদের একটি সন্তান প্রয়োজন ছিল। সুজন ২৬ এপ্রিল রাতে গোপালগঞ্জে বেবী সরকার-পল্লব কান্তি দম্পতির বাসায় শিশুটিকে পৌঁছে দেন।