ঢাকা ১০:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo এবার গ্র্যামির দৌড়ে ‘ধুরন্ধর ২’ Logo রিকশাচালক থেকে মুচি, ১ নভেম্বর থেকে সবাই বাংলা কিউআর ব্যবহার করতে পারবেন Logo প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে চাকরিচ্যুত ও গ্রেপ্তার করতে হবে: আখতার হোসেন Logo ৩৪৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ Logo ককরোচ পার্টির কর্মসূচি : দিল্লিতে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিসহ আটক ১০০০ Logo মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের স্বাস্থ্যনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক: তারেক রহমান Logo মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo যাত্রাবাড়ীতে বাসে তল্লাশি, ৯ হাজার ই’য়া’বা’স’হ গ্রে’প্তা’র ২ Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল 

সাভারের কাউন্দিয়া ইউপি সার্ভেয়ার শাহজাহানের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রতিনিধি, সাভার
  • আপডেট সময় : ১১:৫৪:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৩ ৩৬৫ বার পড়া হয়েছে

কাউন্দিয়া ইউনিয়নে জরিপ কর্মকর্তা ও সার্ভেয়ার শাহজাহানের বিরুদ্ধে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ। ঘুষ বানিজ্যে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কাউন্দিয়া ইউনিয়নের ভূমি মালিকরা। তাদের অভিযোগ, টাকা ছাড়া কোনো সেবা পাওয়া যায় না। এর উপর চলে নানারকম ভয়ভীতি দেখিয়ে ভূমি মালিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়।

 

জরিপের সময় জমি ও বাড়ী সঠিকভাবে রেকর্ড করিয়ে নিতে মালিককে দলিল-দস্তাবেজসহ উপস্থিত হতে হয় মৌজার দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্ভেয়ারের কাছে। সেখানেই কাজ করতে এলেই চলে ঘুষের মহোৎসব।

 

ভুক্তভোগী এক জমির মালিক বলেন, এখানে টাকা পয়সা ছাড়া কোনো কাজই হয় না। আসলে ‘চিলে যখন ঝাপটা দিবো কিছু না কিছু নিয়ে যাইবো’।

 

আর একজন ভুক্তভোগী বলেন, যে দেশে ভূমি জরিপ আসে সেই দেশে মানুষ গরিব হয়ে যায়। যাদের টাকা আছে তাদের ঘরে গিয়ে রেকর্ড করে। যাদের টাকা নাই তাদেরকে মাসের পর মাস ঘুরতে হয়।

 

স্থানীয় ভূমি মালিকদের অভিযোগ, জমি সরকারের নামে রেকর্ড হয়ে যাবে এমন ভয় দেখিয়েও টাকা আদায় করা হচ্ছে সেখানে। কাউন্দিয়া ইউনিয়নের ইসাকাবাদ মৌজায় দরিদ্র এক বিধবার জমি রেকর্ডে দাবি করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। আর বৃদ্ধ কৃষককে জমির পর্চা পেতে গুনতে হয়েছে ১০ হাজার টাকা। এভাবে প্রতিটি পর্চা ও জমির মালিকদের থেকেই টাকা আদায় করা হচ্ছে। যার পরিমাণ সর্বনিম্ন ২ থেকে এক লক্ষ টাকা।

 

একজন জমির মালিক বলেন, অনেক জোরাজোরি করেছি দেয় না, তাই কি করবো! ওরা বলে সরকারী জমি সরকার লয়ে যাইবো গা। ‘ আমাদের ভয় দেহাইছে তাই ভয়ে ট্যাহা দিয়ে পচ্চা নিচি’

 

জানতে চাওয়া হয় সার্ভেয়ার শাহজাহানের কাছে। তিনি বলেন, আমরা মানুষে কাছ থেকে জুলুম করে টাকা আদায় করি না। নামে মাত্র কিছু টাকা আদায় করেন তারা স্বীকার করেন। তিনি আরো বলেন, আমি প্রতি সপ্তাহে ৫৩ জন সাংবাদিকে ১০০০ হাজার টাকা দিয়ে থাকি। জানতে চাওয়া হয়, কেন সাংবাদিকে টাকা দিতে হয়? তিনি কিছু না বলে তড়িঘড়ি করে চলে যান। তাহলে ঘুষ বাণিজ্যে সত্য? এবং নিউজ না করার জন্য একাধিক সাংবাদিক দিয়ে অনুরোধ করান।

 

জানতে চাওয়া হয়, উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসার সুশান্ত কুমার রায়, জরিপ করতে কোন টাকা লাগে না।শাহাজাহান মুন্সি যদি টাকা নিয়ে থাকে তা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবং ভূমি মালিকদের কাছ থেকে টাকা চাইলে লিখিত অভিযোগ জানানোর জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

 

এলাকাবাসীর দাবি, ভূমি জরিপ কাজে দুর্নীতি বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সরকারের ঘোষিত ডিজিটাল সার্ভে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

সাভারের কাউন্দিয়া ইউপি সার্ভেয়ার শাহজাহানের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:৫৪:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৩

কাউন্দিয়া ইউনিয়নে জরিপ কর্মকর্তা ও সার্ভেয়ার শাহজাহানের বিরুদ্ধে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ। ঘুষ বানিজ্যে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কাউন্দিয়া ইউনিয়নের ভূমি মালিকরা। তাদের অভিযোগ, টাকা ছাড়া কোনো সেবা পাওয়া যায় না। এর উপর চলে নানারকম ভয়ভীতি দেখিয়ে ভূমি মালিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়।

 

জরিপের সময় জমি ও বাড়ী সঠিকভাবে রেকর্ড করিয়ে নিতে মালিককে দলিল-দস্তাবেজসহ উপস্থিত হতে হয় মৌজার দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্ভেয়ারের কাছে। সেখানেই কাজ করতে এলেই চলে ঘুষের মহোৎসব।

 

ভুক্তভোগী এক জমির মালিক বলেন, এখানে টাকা পয়সা ছাড়া কোনো কাজই হয় না। আসলে ‘চিলে যখন ঝাপটা দিবো কিছু না কিছু নিয়ে যাইবো’।

 

আর একজন ভুক্তভোগী বলেন, যে দেশে ভূমি জরিপ আসে সেই দেশে মানুষ গরিব হয়ে যায়। যাদের টাকা আছে তাদের ঘরে গিয়ে রেকর্ড করে। যাদের টাকা নাই তাদেরকে মাসের পর মাস ঘুরতে হয়।

 

স্থানীয় ভূমি মালিকদের অভিযোগ, জমি সরকারের নামে রেকর্ড হয়ে যাবে এমন ভয় দেখিয়েও টাকা আদায় করা হচ্ছে সেখানে। কাউন্দিয়া ইউনিয়নের ইসাকাবাদ মৌজায় দরিদ্র এক বিধবার জমি রেকর্ডে দাবি করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। আর বৃদ্ধ কৃষককে জমির পর্চা পেতে গুনতে হয়েছে ১০ হাজার টাকা। এভাবে প্রতিটি পর্চা ও জমির মালিকদের থেকেই টাকা আদায় করা হচ্ছে। যার পরিমাণ সর্বনিম্ন ২ থেকে এক লক্ষ টাকা।

 

একজন জমির মালিক বলেন, অনেক জোরাজোরি করেছি দেয় না, তাই কি করবো! ওরা বলে সরকারী জমি সরকার লয়ে যাইবো গা। ‘ আমাদের ভয় দেহাইছে তাই ভয়ে ট্যাহা দিয়ে পচ্চা নিচি’

 

জানতে চাওয়া হয় সার্ভেয়ার শাহজাহানের কাছে। তিনি বলেন, আমরা মানুষে কাছ থেকে জুলুম করে টাকা আদায় করি না। নামে মাত্র কিছু টাকা আদায় করেন তারা স্বীকার করেন। তিনি আরো বলেন, আমি প্রতি সপ্তাহে ৫৩ জন সাংবাদিকে ১০০০ হাজার টাকা দিয়ে থাকি। জানতে চাওয়া হয়, কেন সাংবাদিকে টাকা দিতে হয়? তিনি কিছু না বলে তড়িঘড়ি করে চলে যান। তাহলে ঘুষ বাণিজ্যে সত্য? এবং নিউজ না করার জন্য একাধিক সাংবাদিক দিয়ে অনুরোধ করান।

 

জানতে চাওয়া হয়, উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসার সুশান্ত কুমার রায়, জরিপ করতে কোন টাকা লাগে না।শাহাজাহান মুন্সি যদি টাকা নিয়ে থাকে তা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবং ভূমি মালিকদের কাছ থেকে টাকা চাইলে লিখিত অভিযোগ জানানোর জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

 

এলাকাবাসীর দাবি, ভূমি জরিপ কাজে দুর্নীতি বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সরকারের ঘোষিত ডিজিটাল সার্ভে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।