ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo এবার গ্র্যামির দৌড়ে ‘ধুরন্ধর ২’ Logo রিকশাচালক থেকে মুচি, ১ নভেম্বর থেকে সবাই বাংলা কিউআর ব্যবহার করতে পারবেন Logo প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে চাকরিচ্যুত ও গ্রেপ্তার করতে হবে: আখতার হোসেন Logo ৩৪৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ Logo ককরোচ পার্টির কর্মসূচি : দিল্লিতে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিসহ আটক ১০০০ Logo মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারের স্বাস্থ্যনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক: তারেক রহমান Logo মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo যাত্রাবাড়ীতে বাসে তল্লাশি, ৯ হাজার ই’য়া’বা’স’হ গ্রে’প্তা’র ২ Logo কুকুর উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাঠাতে জ্বালানি খরচের দাবি, ৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার Logo সরকারি কর্মচারীদের ‘গোলামি’ ও অঢেল সম্পদের পাহাড়: বেরিয়ে আসছে সদ্য বিদায়ী ডিজি জায়েদ কামালের থলের বিড়াল 

কুবিতে প্রক্টরের সামনে সহকারী প্রক্টরকে মারতে তেড়ে গেলেন ২ নেতা

প্রতিনিধি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৮:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩ ৩২২ বার পড়া হয়েছে

দায়িত্ব পালনকালে ছাত্রলীগের দুই নেতা কর্তৃক লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন অমিত দত্ত নামে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী প্রক্টর। ৩০ জানুয়ারি (সোমবার) রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে প্রাধ্যক্ষের কক্ষে হল প্রাধ্যক্ষ ও প্রক্টরের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে রেজা-ই-এলাহী সমর্থিত কুবির মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুর বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দাস, মাহি হাসনাইন, ছাত্রলীগের পদ প্রত্যাশী ইকবাল হাসান ও ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বজন বরণ বিশ্বাস কক্ষ দখল করেন। এরপর ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির নেতাকর্মীদের সাথে তীব্র দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

 

এ দ্বন্দ্ব নিরসনে দুই পক্ষকে নিয়ে হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে আলোচনায় বসেন প্রক্টরিয়াল বডি ও হল প্রাধ্যক্ষ। আলোচনার এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতারা উত্তেজিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীদের রুম থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করলে ঘটনা সামাল দিতে এগিয়ে যান প্রক্টরিয়াল বডি। এসময় নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর অমিত দত্তকে মারতে তেড়ে যান শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালমান চৌধুরী।

 

তখন উপস্থিত প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী, সহকারী প্রক্টর কাজী এম আনিছুল ইসলামসহ অন্য শিক্ষকরা উত্তেজিত নেতাকর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করলে তারা অন্য শিক্ষকদের প্রতিও চড়াও হোন।

 

এসময় শিক্ষকদের প্রতি চড়াও হয় কাজী নজরুল ইসলাম হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হাসান পলাশ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাহারাতবির হোসেন পাপন মিয়াজী, একই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রিফাত আহমেদসহ আরো কয়েকজন।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হেনস্থার শিকার সহকারী প্রক্টর অমিত দত্ত বলেন, এখানে আমরা প্রক্টরিয়াল টিম দ্বায়িত্ব পালনকালে বাধার সম্মুখীন হয়েছি। দুই পক্ষের উত্তেজনা থামাতে গেলে আমাকে লাঞ্চিত করা হয়।

 

তবে শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগ অস্বীকার করে এনায়েত উল্লাহ বলেন, আমি এরকম কিছুই করি নাই। স্যার আমাদের দুই পক্ষকেই শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। সেখানে অনেকেই ধাক্কাধাক্কি ও আওয়াজ করছিলো। স্যার হয়তো ভুল বুঝেছে তাই অভিযোগ করেছে। স্যারের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আমি ব্যাক্তিগতভাবে স্যারের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিবো।

 

অভিযুক্ত আরেকজন সালমান চৌধুরী বলেন, ‘এগ্রেসিভ মুডে স্যারের সাথে কথা বলা যাবে না? আমি যদি বলি স্যার আমাদের মারতে আসছেন? সবকিছু পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। আর স্যার যদি বলে থাকেন আমরা মারতে গিয়েছি এটা উনার ব্যক্তিগত ব্যাপার।’

 

অভিযুক্ত নেতাদের দিয়ে শিক্ষকের কাছে ‘স্যরি’ বলাবেন জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, সহকারী প্রক্টর হিসেবে যে কোন জায়গাতে ভূমিকা রাখার জন্য উনি ধমক দেয়াটাই স্বাভাবিক। এটা ওনার রাইট ছিল। পোলাপান না বুঝতে পেরে চিৎকার চেচামেচি করছে। মারতে যাওয়া এটা ভিত্তিহীন। তার পরেও যারা স্যারের সাথে উচ্চ বাক্য করছে আমরা ব্যক্তিগতভাবে স্যারের সাথে এদেরকে স্যরি বলার ব্যবস্থা করবো।

 

এই বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ মো. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম বলেন, আজকের ঘটনা আসলেই দুঃখজনক। আমরা আগামীকাল সব হলের প্রভোস্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মিলে বসবো। তারপর আমরা তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবো। আর অছাত্র কেউ হলে থাকার কোন সুযোগ নেই। যারা হলে থাকবে তাদের প্রত্যেককে ছাত্র এবং এলটেড হতে হবে।

 

দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানিয়ে প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, এ ঘটনা আমাদের সবার সামনেই ঘটেছে। অনেক ভিডিও রয়েছে। আমরা তথ্য প্রমাণ সব যাচাই করে ঘটনায় কারা কারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

কুবিতে প্রক্টরের সামনে সহকারী প্রক্টরকে মারতে তেড়ে গেলেন ২ নেতা

আপডেট সময় : ০৫:৩৮:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩

দায়িত্ব পালনকালে ছাত্রলীগের দুই নেতা কর্তৃক লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন অমিত দত্ত নামে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী প্রক্টর। ৩০ জানুয়ারি (সোমবার) রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে প্রাধ্যক্ষের কক্ষে হল প্রাধ্যক্ষ ও প্রক্টরের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে রেজা-ই-এলাহী সমর্থিত কুবির মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুর বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দাস, মাহি হাসনাইন, ছাত্রলীগের পদ প্রত্যাশী ইকবাল হাসান ও ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বজন বরণ বিশ্বাস কক্ষ দখল করেন। এরপর ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির নেতাকর্মীদের সাথে তীব্র দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

 

এ দ্বন্দ্ব নিরসনে দুই পক্ষকে নিয়ে হলের প্রাধ্যক্ষের কক্ষে আলোচনায় বসেন প্রক্টরিয়াল বডি ও হল প্রাধ্যক্ষ। আলোচনার এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতারা উত্তেজিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীদের রুম থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করলে ঘটনা সামাল দিতে এগিয়ে যান প্রক্টরিয়াল বডি। এসময় নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর অমিত দত্তকে মারতে তেড়ে যান শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালমান চৌধুরী।

 

তখন উপস্থিত প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী, সহকারী প্রক্টর কাজী এম আনিছুল ইসলামসহ অন্য শিক্ষকরা উত্তেজিত নেতাকর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করলে তারা অন্য শিক্ষকদের প্রতিও চড়াও হোন।

 

এসময় শিক্ষকদের প্রতি চড়াও হয় কাজী নজরুল ইসলাম হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হাসান পলাশ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাহারাতবির হোসেন পাপন মিয়াজী, একই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রিফাত আহমেদসহ আরো কয়েকজন।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হেনস্থার শিকার সহকারী প্রক্টর অমিত দত্ত বলেন, এখানে আমরা প্রক্টরিয়াল টিম দ্বায়িত্ব পালনকালে বাধার সম্মুখীন হয়েছি। দুই পক্ষের উত্তেজনা থামাতে গেলে আমাকে লাঞ্চিত করা হয়।

 

তবে শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগ অস্বীকার করে এনায়েত উল্লাহ বলেন, আমি এরকম কিছুই করি নাই। স্যার আমাদের দুই পক্ষকেই শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। সেখানে অনেকেই ধাক্কাধাক্কি ও আওয়াজ করছিলো। স্যার হয়তো ভুল বুঝেছে তাই অভিযোগ করেছে। স্যারের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আমি ব্যাক্তিগতভাবে স্যারের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিবো।

 

অভিযুক্ত আরেকজন সালমান চৌধুরী বলেন, ‘এগ্রেসিভ মুডে স্যারের সাথে কথা বলা যাবে না? আমি যদি বলি স্যার আমাদের মারতে আসছেন? সবকিছু পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। আর স্যার যদি বলে থাকেন আমরা মারতে গিয়েছি এটা উনার ব্যক্তিগত ব্যাপার।’

 

অভিযুক্ত নেতাদের দিয়ে শিক্ষকের কাছে ‘স্যরি’ বলাবেন জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, সহকারী প্রক্টর হিসেবে যে কোন জায়গাতে ভূমিকা রাখার জন্য উনি ধমক দেয়াটাই স্বাভাবিক। এটা ওনার রাইট ছিল। পোলাপান না বুঝতে পেরে চিৎকার চেচামেচি করছে। মারতে যাওয়া এটা ভিত্তিহীন। তার পরেও যারা স্যারের সাথে উচ্চ বাক্য করছে আমরা ব্যক্তিগতভাবে স্যারের সাথে এদেরকে স্যরি বলার ব্যবস্থা করবো।

 

এই বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ মো. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম বলেন, আজকের ঘটনা আসলেই দুঃখজনক। আমরা আগামীকাল সব হলের প্রভোস্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মিলে বসবো। তারপর আমরা তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবো। আর অছাত্র কেউ হলে থাকার কোন সুযোগ নেই। যারা হলে থাকবে তাদের প্রত্যেককে ছাত্র এবং এলটেড হতে হবে।

 

দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানিয়ে প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, এ ঘটনা আমাদের সবার সামনেই ঘটেছে। অনেক ভিডিও রয়েছে। আমরা তথ্য প্রমাণ সব যাচাই করে ঘটনায় কারা কারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিব।