• ২১শে অক্টোবর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ভারতীয় রাজনীতির নতুন তারকা মহুয়া মৈত্র

সকালের সংবাদ ডেস্ক;
প্রকাশিত জুন ৩০, ২০১৯, ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ভারতীয় রাজনীতির নতুন তারকা মহুয়া মৈত্র

অনলাইন ডেস্ক;
ভারতীয় পার্লামেন্টে প্রথম বক্তৃতাতেই ঝড় তুলেছেন কলকাতার মেয়ে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি মহুয়া মৈত্র। ক্ষমতাসীন মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তার জোরালো বক্তব্য এখন ভারতীয় রাজনীতির প্রধান আলোচ্য। দেশটির সামাজিক মাধ্যমও মেতেছে তাকে নিয়ে। ভারতীয় রাজনীতিতে হঠাৎ আলোচনায় আসা বিলাত ফেরত কন্যা মহুয়া মৈত্রকে নিয়ে লিখেছেন পরাগ মাঝি।

কে এই মহুয়া? 

মহুয়া মৈত্রের জন্ম ১৯৭৫ সালের ৫ মে। কলকাতার পশ্চিমবঙ্গে জন্ম হলেও তার বেড়ে ওঠা কলকাতা এবং আসাম দুই জায়গাতেই। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি পড়াশোনা করার জন্য আমেরিকায় পাড়ি দেন। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে মাউন্ট হলিয়োক থেকে তিনি অর্থনীতির ওপর ডিগ্রি নেন। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও লন্ডনে একজন ব্যাংকার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

২০০৮ সালে যখন চাকরি ছাড়েন, তখন তিনি লন্ডনের জে.পি. মরগ্যান ব্যাংকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন। মাত্র ৩২ বছর বয়সে বিশ্ববিখ্যাত একটি ব্যাংকে এত বড় পদে আসীন হওয়া সহজ ব্যপার নয়। ওই বয়সে এত বড় পদ তার দারুণ একটি ভবিষ্যতেরই ইঙ্গিত দিচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই চাকরি ছাড়লেন কেন মহুয়া?

বিলাত ফেরত মেয়ে

জে. পি. মরগ্যান ব্যাংকের চাকরি ছাড়ার আগে তিনি তার কলেজে ১০ বছর পূর্তির একটি পুনর্মিলনীতে যোগ দেন। কিন্তু ওই পুনর্মিলনীতে গিয়ে হঠাৎ করেই ব্যাংকার জীবনের প্রতি তার এক ধরনের অনীহা তৈরি হয়। তিনি দেখছিলেন, পুনর্মিলনীতে অংশ নেওয়া তার প্রায় সব বন্ধুই ব্যাংকার হয়েছে। কারও মধ্যেই কোনো বৈচিত্র্য নেই। মহুয়া তার স্বামীকে (বর্তমানে সাবেক) বললেন, ‘আগামী ২০ বছরের পূর্তিতে আমি একজন ব্যাংকার কিংবা জে. পি মরগ্যানের মতো কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা হয়ে এখানে আসতে চাই না।’

মহুয়া মৈত্র তাৎক্ষণিকভাবেই সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি ভারতে ফিরে যাবেন এবং রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হবেন। এজন্য তিনি তার স্বামী এবং বন্ধুদের আশ্বাস দিলেন, যদি পাঁচ বছরের মধ্যে তিনি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে উল্লেখযোগ্য কোনো ছাপ ফেলতে না পারেন, তবে আবারও লন্ডনে ফিরবেন। যে কথা সেই কাজ, চাকরি সংসার ছেড়ে নিজ দেশ ভারতের মাটিতে ২০০৮ সালে ফিরে যান মহুয়া।

কংগ্রেস থেকে তৃণমূল কংগ্রেস

ভারতীয় কংগ্রেস পার্টি প্রধান নেতা রাহুল গান্ধী তার বন্ধু। রাহুলের অনুপ্রেরণায় ২০০৯ সালে ভারতীয় কংগ্রেস পার্টিতে যোগদান করেন মহুয়া। পশ্চিমবঙ্গে ‘আম আদমি কা সিপাহি’ নামে কংগ্রেসের একটি যুব সম্মেলনে রাহুল গান্ধীর বিশ^স্ত কর্মী হিসেবে তিনি মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেন। সে সময়ই রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার সংযোগ ঘটে। কিন্তু ওই সময়টি ভারতীয় কংগ্রেসের জন্য মোটেও সুসময় ছিল না। দলটির জনপ্রিয়তা ছিল পড়তির দিকে।

২০১০ সালে কলকাতা থেকে একটি ফ্লাইটে চড়ে দিল্লি যাচ্ছিলেন মহুয়া। সৌভাগ্যক্রমে একই ফ্লাইটে দিল্লির উদ্দেশে যাচ্ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও। ওই ফ্লাইটেই মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে প্রথমবারের মতো কথা হয় মহুয়ার। আলাপচারিতায় দুজনের মধ্যে বোঝাপড়াটাও বেশ জমে যায়। সে বছরই ভারতীয় কংগ্রেস ছেড়ে মমতার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন মহুয়া মৈত্র। তাকে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র করা হয়। তারপর মাত্র ৬ বছরের ব্যবধানে ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে নদিয়ার করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তাকে প্রার্থী করা হয়। ওই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও সিপিএমের শক্তিশালী ভিত থাকলে নাটকীয়ভাবে তিনি জয়লাভ করেন।

এই সময়ের মধ্যে তৃণমূলের একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে তাকে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে। এনআরসি’র প্রতিবাদে অসমের প্রতিনিধিদলে ছিলেন তিনি। পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে সিবিআই অভিযানের প্রতিবাদে ধরনা মঞ্চে মমতা ব্যানার্জির সঙ্গেও ছিলেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ মুহূর্তে আনন্দবাজার পত্রিকায় তাকে নিয়ে শিরোনাম করা হয়। বড় সানগ্লাস পরা মহুয়াকে পত্রিকাটি ‘বিলাত ফেরত মেয়ে’ পরিচয়ে তাদের প্রতিবেদন ছাপে।

ভারতের রাজনীতি জড়ানোর একটি প্রবণতা থাকে দেশটির মধ্যবিত্ত সমাজের মধ্যে। কিন্তু এত যোগ্যতা নিয়ে মহুয়া কেন রাজনীতি করতে আসলেন, এমন প্রশ্ন ছিল অনেকের। এসবের উত্তর স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিভিন্ন সমাবেশ সাক্ষাৎকারে দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, রাজনীতির প্রতি তিনি দারুণভাবে আগ্রহী ছিলেন। ৩৩ বছর বয়সে রাজনীতির মাঠে নামলেও ১৮ বছর বয়সেই রাজনীতি করার প্রতি তার আগ্রহ জন্মেছিল।

আলোচনার কেন্দ্রে

রাজনীতিতে সফল হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো নিজেকে আলোচনায় রাখা। এ ব্যাপারে বেশ সফলতার পরিচয় দিয়েছেন মহুয়া। বিভিন্ন টেলিভিশন টকশো’তে অল্প সময়ের মধ্যেই সুপরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন এই সাবেক ব্যাংকার। এছাড়াও আরও কয়েকটি বিষয়ে তিনি আলোচনায় উঠে এসেছিলেন। এসবের মধ্যে বিজেপি’র সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়র সঙ্গে দ্বন্দ্বও অন্যতম। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের ‘লাইভ শো’তে মহুয়া মৈত্রের উদ্দেশ্যে ‘কটূক্তি’ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। শো চলাকালীন বাবুল মন্তব্য করেন, ‘মহুয়া, তুমি কি মহুয়া খেয়ে আছো?’

বাবুল সুপ্রিয়র এমন কথায় ভীষণ চটে যান মহুয়া। তিনি এর শেষ দেখে ছাড়বেন বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন। পরে তার সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগ তুলে বাবুলের বিরুদ্ধে আলিপুর থানায় এফআইআর দায়ের করেন। মহুয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে আলিপুর থানা নোটিস পাঠায় বাবুল সুপ্রিয়কে। অভিযোগের ভিত্তিতে মহুয়ার গোপন জবানবন্দিও নেন ম্যাজিস্ট্রেট। বাবুলের বিরুদ্ধে ৫০৯ ধারায় (মহিলার উদ্দেশে অশালীন শব্দ ব্যবহার বা অঙ্গভঙ্গি) মামলা নথিভুক্ত করা হয়। মহুয়া মৈত্রর মামলায় বিজেপি সাংসদ বাবুলকে তিরস্কার করে হাইকোর্ট। বিচারপতি জয়নমাল্য বাগচি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের এই ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত নিম্নমানের। বাবুলের ব্যবহৃত শব্দের মধ্যে ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণ রয়েছে। এটা একটা ভয়ঙ্কর শব্দ। একজন জনপ্রতিনিধি এটা ব্যবহার করতে পারেন না। তিনি দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো আচরণ করেছেন।

এদিকে, ভারতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আগে চলতি বছরের ২২ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগরের একটি জনসভায় বিজেপির নদিয়া উত্তরের সভাপতি মহাদেব সরকার মহুয়া মৈত্রকে ‘সুন্দরী রমণী’ বলে উল্লেখ করেন।

মহাদেব বলেন, ‘সৌন্দর্যে ভর করেই ভোট বৈতরণী পারের চেষ্টা করছে শাসক দল। মহুয়ার উদ্দেশে তিনি বলেন, বিদেশে পড়ায় ভারতীয় সংস্কৃতি ভুলে গিয়েছেন আপনি। লজ্জাই নারীর ভূষণ। আপনি রঙিন জল পান করেন। আপনাকে ভারতীয় নারীরা মেনে নেবে না।’

মহাদেবের এই ধরনের মন্তব্যে তেলেবেগুনে জ¦লে উঠেছিলেন মহুয়া। তিনি তাৎক্ষণিকভাবেই এর প্রতিবাদ করেন এবং সুপ্রিম কোর্টে মহাদেবসহ কৃষ্ণনগরে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কল্যাণ চৌবের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষকে। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে এমন প্রতিক্রিয়া দৃষ্টি কেড়েছিল ভোটারদের।

জিতে গেলেন নির্বাচনে

চলতি বছরের শুরুতেই ভারতে নির্বাচনী দামামা বেজে ওঠে।

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা ব্যানার্জি প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময়ই কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্র থেকে মহুয়াকে লড়ার জন্য টিকিট দেন। দলনেত্রীর নির্দেশে করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ইস্তফা দিয়ে সাংসদ হওয়ার দৌড়ে মাঠে নেমে পড়েন মহুয়া। নির্বাচনী প্রচারণায় নামার শুরুতেই তিনি আবারও আলোচনায় আসেন ড. বিআর আম্বেদকর থেকে শুরু করে কৃষ্ণনগর রবীন্দ্র ভবনের শহীদবাগে শহীদ বসন্ত বিশ^াস এবং বিভিন্ন মনীষীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে।

নদিয়া জেলা পরিষদ থেকে প্রথম প্রচার শুরু করেন তিনি। প্রচারের প্রথম দিনই বাজিমাত করেন তিনি। তার প্রচারণায় সাধারণ মানুষের বিপুল অংশগ্রহণ ভারতীয় গণমাধ্যমের দৃষ্টি কাড়ে। ব্যান্ড পার্টিসহ তার প্রথম দিনের প্রচারে দলীয় সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা যায়। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা জড়ো হয়ে মিছিলে অংশ নেন। রাস্তার দুই পাশে থাকা সাধারণ মানুষকে বারবার হাত তুলে নমস্কার করেন মহুয়া।

সবচেয়ে বড় ব্যপার মহুয়াকে এক নজর দেখার জন্যই সেদিন অসংখ্য মানুষের সমাগম ঘটেছিল। রোদের মধ্যেও এদিন প্রায় তিন কিলোমিটার পথ হাঁটেন তিনি। মিছিল শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমার জীবনের প্রথম রাজনৈতিক লড়াই এই জেলা থেকেই শুরু করেছি। গত তিন বছর ধরে আমি করিমপুরের বিধায়ক। আমি সৌভাগ্যবান যে, এই মাটিতেই লোকসভার জন্য দিদি আমাকে মনোনীত করেছেন। আমি ১০০ শতাংশ আত্মবিশ^াসী।’

মহুয়া যে আসনে লড়ছিলেন এই আসন থেকেই ২০০৯ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে পর পর দুইবার জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী অভিনেতা তাপস পাল। কিন্তু রোজভ্যালি কা-ে জড়িত থাকার অপরাধে তিনি গ্রেপ্তার হন সিবিআইয়ের হাতে। তারপর থেকেই রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিলেন তাপস পাল। শূন্যস্থান পূরণ করতে মহুয়াকেই বেছে নিয়েছিলেন মমতা।

মহুয়ার একটি বিশেষ গুণ হলো তিনি ভালো বক্তৃতা দিতে পারেন। সাধারণ মানুষ তন্ময় হয়ে তার কথা শুনে। বক্তব্যের সময় খুব সহজেই তিনি সাধারণ মানুষকে তার আলোচনায় নিয়ে আসতে পারেন। নির্বাচনী প্রচারের প্রথম দিন থেকেই তার আত্মবিশ্বাসী মনোভব সাধারণ মানুষকে তার দিকে টেনে এনেছিল। নির্বাচনে এর ফলও পেয়ে যান। প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির প্রার্থী কল্যাণ চৌবে’কে তিনি প্রায় ৭৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে ভারতীয় সংসদের সাংসদ নির্বাচিত হন।

যেভাবে কাঁপালেন ভারতীয় সংসদ

গত ২৫ জুন ভারতীয় সংসদে জোরালো বক্তব্য রাখবেন মহুয়া, এটি আগে থেকেই অনেকে অনুমান করেছিলেন। এতদিন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সুবক্তা হিসেবে তিনি ভালোই সুনাম কুড়িয়েছিলেন। ভারতীয় সংসদে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে মমতা ব্যানার্জি তাই মহুয়া মৈত্রকেই পাঠিয়েছিলেন। মমতার এই সিদ্ধান্তকে অক্ষরে অক্ষরে খাঁটি প্রমাণ করলেন মহুয়া। বলা যায়, সংসদে এমন ধারালো বক্তব্য বহুদিন শোনেনি ভারতবাসী। তাই মহুয়ার বক্তব্য আলোড়ন তুলেছে দেশটিতে। কেউ কেউ বলছেন, ভারতীয় রাজনীতির আকাশে নতুন তারার উদয় হয়েছে। বহুদূর যাবেন এই নেত্রী।

সংসদে ১০ মিনিট বক্তব্য দেন মহুয়া। বক্তব্যের প্রায় পুরোটা সময় সরকারি দলের সাংসদরা হট্টগোল করে তাকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু এমন হট্টগোলে একবারের জন্যও মহুয়াকে বিচলিত হতে দেখা যায়নি। তিনি দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বিজেপি’র বিজয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এতে যেন ভিন্নমত পোষণকারীদের কণ্ঠ রুদ্ধ না হয়ে যায়।’

পুরো ভাষণটি ইংরেজিতে দিলেও কখনো কখনো তিনি দু’একটি হিন্দি কবিতার লাইন বলেছেন। এনআরসি ইস্যুতে বিজেপি’কে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘সাংসদরা নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট দিতেই যদি ব্যর্থ হন তাহলে আপনারা কীসের ভিত্তিতে সাধারণ মানুষের কাছে নাগরিকত্বের প্রমাণ চাইছেন? যারা ৫০ বছর ধরে দেশে থাকছেন তাদের বাধ্য করছেন প্রমাণ দেখাতে? তিনি এ সময় হিন্দি কবি রামধারী সিং দিনাকরের একটি কবিতার লাইন আওড়ে বলেন, ‘ সাভি কা খুন হ্যায় সামিল ইহাঁ কি মিট্টি ম্যায়/কিসি কে বাপ কা হিন্দুস্তান থোড়ি হ্যায়।’ যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায়Ñ ‘সবার রক্তে গড়া এই মাটি/ হিন্দুস্তান কারও বাবার নয়।’

ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘুদের গণপিটুনিতে হত্যা করার মতো প্রসঙ্গগুলো নিয়েও বিজেপি শিবিরকে আক্রমণ করেন মহুয়া। তার ভাষণে উঠে আসে পেহলু খান হত্যা থেকে শুরু করে সম্প্রতি ঝাড়খন্ডে গণপিটুনির জেরে মৃত্যুর ঘটনাও। মহুয়া বলেন, ‘মনীষীদের অপমান প্রতিদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গবেষণার জন্য অনুদান কমানো হচ্ছে। আপনারা ভারতকে অন্ধকার যুগে নিয়ে যাচ্ছেন।’

মহুয়ার বক্তব্যের সবচেয়ে চুম্বক অংশটি ছিলÑ যখন তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়ামে একটি পোস্টারে তিনি ফ্যাসিবাদের প্রাথমিক লক্ষণসমূহের এক তালিকা দেখেছিলাম।’ তালিকার সে সব লক্ষণ তিনি একে একে পড়ে শুনিয়ে বলেন, ‘ভারতের সংবিধান এখন হুমকির মুখে এবং দেশটির ক্ষমতাসীন দলের বিভক্তির রাজনীতিতে ভারত এখন ছিঁড়ে টুকরো হয়ে যাচ্ছে।’

মহুয়ার বক্তৃতায় ফ্যাসিবাদের লক্ষণ

দেশে শক্তিশালী ও ধারাবাহিক জাতীয়তাবাদ ক্রমে দেশের জাতীয় পরিচয়ে পরিণত হয়। এটা ‘সুপারফিশিয়াল’। এর আসলে কোনো গভীরতা নেই বলে মহুয়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘এটা বর্ণবাদ এবং সংকীর্ণ ভাবনা। এটা বিভক্তি বাড়ায় আর কোনোভাবেই ঐক্যের চেষ্টা করে না।’

মহুয়া উল্লেখ করেন, ‘মানবাধিকারের প্রতি একটি ব্যাপক অবজ্ঞা দেখা যাচ্ছে, যা ২০১৪ থেকে ২০১৯ এর মধ্যে অন্তত ১০ গুণ বেড়েছে।’

গণমাধ্যমের ওপর কর্তৃত্ব এবং নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘ভারতের টিভি চ্যানেলগুলো নিজেদের এয়ারটাইমের একটি বড় অংশ ক্ষমতাসীন দলের প্রচার- প্রোপাগান্ডায় ব্যয় করেছে।

জাতীয় নিরাপত্তায় বাড়তি সচেতনতার জন্য সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ভারতে এক ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছে এবং প্রতিনিয়ত নতুন শত্রু তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘সরকার ও ধর্ম পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।’ তিনি উল্লেখ করেন, মুসলমানদের টার্গেট করে আইনে সংশোধন আনা হয়েছে।

বুদ্ধিজীবী ও শিল্পের প্রতি চরম অবজ্ঞা দেখানো হচ্ছে এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর শোষণ চালানো হচ্ছে। এটি ফ্যাসিবাদের সব চিহ্নের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন মহুয়া।

দেশটির নির্বাচন ব্যবস্থার স্বাধীনতা নষ্ট হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এটি ফ্যাসিবাদের শেষ চিহ্ন।’

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৪৬
  • ১১:৪৭
  • ৩:৫১
  • ৫:৩২
  • ৬:৪৬
  • ৫:৫৮
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!