ঢাকা ০৫:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গ্যাস সংকট আগের সরকারের পাপের ফল: ডা. জাহেদ Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই-নির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু Logo প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুবরাজ বিন সালমান Logo ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সরকারের ১৮০ দিনের সালতামামি: ধ্বংসস্তূপ থেকে পরিকল্পিত পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ Logo শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করবে সরকার : নজরুল ইসলাম খান Logo রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য:সালেহ শিবলী Logo শেখ হাসিনার কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছেন জানা নেই: চিফ প্রসিকিউটর Logo ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo আগামীকাল কিশোরগঞ্জ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম কারাগারে বসেই হামকা নূর আলমের ইয়াবা কারবার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১০:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯ ২৯৩ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রাম কারাগারে বসেই ‘মাদকের কারবার চালাচ্ছিলেন’ হামকা নূর আলম

অস্ত্রবাজি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ২০ মামলার আসামি হামকা নূর আলম চট্টগ্রামের কারাগারে বসেই ভেতরে-বাইরে মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিলেন; আর এ কাজে তিনি কারারক্ষীদেরও ব্যবহার করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার নগরীর কদমতলী ফ্লাইওভার থেকে ৫০টি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারারক্ষী সাইফুল ইসলামকে (২২) জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ এসব তথ্য জানতে পেরেছে।

জেলখানায় নূর আলমকে মাদক সরবরাহের অভিযোগে গ্রেপ্তার তিনজন জেলখানায় নূর আলমকে মাদক সরবরাহের অভিযোগে গ্রেপ্তার তিনজন সাইফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার এক নারীসহ আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
তারাও পুলিশকে বলেছেন, হামকা নূর আলমের ‘নির্দেশে’ তারা কারারক্ষী সাইফুলকে ইয়াবা ও গাঁজা সরবরাহ করতেন। নূর আলম কারাগারে বসেই মাদকের দাম শোধ করতেন।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- দিদারুল আলম মাছুম ওরফে আবু তালেব মাছুম (৩৫) ও আজিজুল ইসলাম জালাল (৩৬) এবং আলো বেগম (৩৫)।

কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন সংবাদ মাধমকে বলেন, “কারারক্ষী সাইফুল জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, সে ইয়াবা সংগ্রহ করেছে মাছুমের কাছ থেকে। আর থানায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার মোবাইলে জালালের ফোন আসে গাঁজা সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়ার জন্য।”

এরপর সাইফুলকে সঙ্গে নিয়ে ‘ফাঁদ পেতে’ লালদীঘির পাড় এলাকা থেকে জালালকে গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাতে তাদের নিয়ে এনায়েত বাজার এলাকা থেকে মাছুমকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান ওসি।

গ্রেপ্তার সাইফুল পুলিশকে বলেছেন, মাছুমের কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে হালিশহর কাঁচাবাজার এলাকায় এক লোকের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন তিনি। ৫০টি ইয়াবার মধ্যে ওই লোকের হাতে ১০টি দেওয়ার কথা ছিল তার। বাকি ৪০টি ইয়াবা কারাগারে নূর আলমকেই বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল।

হামকা নূর আলম হামকা নূর আলম পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী নূর আলম একজন ‘দুধর্ষ সন্ত্রাসী ও ছিনতাকারী’। ‘হামকা গ্রুপ’ নামে একটি সন্ত্রাসী দলের এই নেতা চট্টগ্রাম শহরজুড়ে ছিনতাই, অস্ত্রবাজি চালিয়ে আসছিলেন। পুলিশের করা ‘শীর্ষ ছিনতাইকারীদের’ তালিকাতেও তার নাম রয়েছে।
২০ মামলার আসামি নূর আলম দুই বছর আগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে কারাগারেই আছেন। তবে সেখানে বসেই তিনি বাইরে নিজের সহযোগীদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখতেন এবং মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিলেন বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।

মহানগর পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সংবাদ মাধমকে বলেন, “চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ৩২ নম্বর সেলের ৩ নম্বর কারা কক্ষে রাখা হয়েছে হামকা নূর আলমকে। সেখানে থেকেই সে কারাগারের ভেতর এবং বাইরে ইয়াবা কেনা-বেচা করে আসছিল।”

কারারক্ষী সাইফুল ইসলাম কারারক্ষী সাইফুল ইসলাম গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, “মাছুম আগেও গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন। তখনই নূর আলমের সঙ্গে তার পরিচয়। সেই সূত্রে মাছুম জেলে থাকা নূর আলমকে নিয়মিত ইয়াবা সরবরাহ করতেন। আর তাদের এই লেনদেন হত কারারক্ষী সাইফুলের মাধ্যমে।
“মাছুম জানিয়েছে, নূর আলম তাকে ফোন করে কারারক্ষী সাইফুলের মাধ্যমে ইয়াবা পাঠানোর কথা বলে। সকালে আলোর কাছ থেকে মাসুম ৫০টি ইয়াবা সংগ্রহ করে। দুপুরে সাইফুল ইয়াবাগুলো মাছুমের কাছ থেকে বুঝে নেন। তিন দিন আগেও একবার সাইফুলকে ৫০টি ইয়াবা দেওয়ার কথা তিনি জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন।

জালাল পুলিশকে বলেছেন, এক বন্ধুর মাধ্যমে হামকা নূর আলমের সঙ্গে তার পরিচয়। নূর আলম তাকে ফোন করে গাঁজা পাঠানোর কথা বলেছিলেন। সাইফুল তার কাছ থেকে সেই গাঁজা সংগ্রহ করে পৌঁছে দিতেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

চট্টগ্রাম কারাগারে বসেই হামকা নূর আলমের ইয়াবা কারবার

আপডেট সময় : ০১:১০:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯
চট্টগ্রাম কারাগারে বসেই ‘মাদকের কারবার চালাচ্ছিলেন’ হামকা নূর আলম

অস্ত্রবাজি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ২০ মামলার আসামি হামকা নূর আলম চট্টগ্রামের কারাগারে বসেই ভেতরে-বাইরে মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিলেন; আর এ কাজে তিনি কারারক্ষীদেরও ব্যবহার করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার নগরীর কদমতলী ফ্লাইওভার থেকে ৫০টি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারারক্ষী সাইফুল ইসলামকে (২২) জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ এসব তথ্য জানতে পেরেছে।

জেলখানায় নূর আলমকে মাদক সরবরাহের অভিযোগে গ্রেপ্তার তিনজন জেলখানায় নূর আলমকে মাদক সরবরাহের অভিযোগে গ্রেপ্তার তিনজন সাইফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার এক নারীসহ আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
তারাও পুলিশকে বলেছেন, হামকা নূর আলমের ‘নির্দেশে’ তারা কারারক্ষী সাইফুলকে ইয়াবা ও গাঁজা সরবরাহ করতেন। নূর আলম কারাগারে বসেই মাদকের দাম শোধ করতেন।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- দিদারুল আলম মাছুম ওরফে আবু তালেব মাছুম (৩৫) ও আজিজুল ইসলাম জালাল (৩৬) এবং আলো বেগম (৩৫)।

কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন সংবাদ মাধমকে বলেন, “কারারক্ষী সাইফুল জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, সে ইয়াবা সংগ্রহ করেছে মাছুমের কাছ থেকে। আর থানায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার মোবাইলে জালালের ফোন আসে গাঁজা সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়ার জন্য।”

এরপর সাইফুলকে সঙ্গে নিয়ে ‘ফাঁদ পেতে’ লালদীঘির পাড় এলাকা থেকে জালালকে গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাতে তাদের নিয়ে এনায়েত বাজার এলাকা থেকে মাছুমকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান ওসি।

গ্রেপ্তার সাইফুল পুলিশকে বলেছেন, মাছুমের কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে হালিশহর কাঁচাবাজার এলাকায় এক লোকের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন তিনি। ৫০টি ইয়াবার মধ্যে ওই লোকের হাতে ১০টি দেওয়ার কথা ছিল তার। বাকি ৪০টি ইয়াবা কারাগারে নূর আলমকেই বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল।

হামকা নূর আলম হামকা নূর আলম পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী নূর আলম একজন ‘দুধর্ষ সন্ত্রাসী ও ছিনতাকারী’। ‘হামকা গ্রুপ’ নামে একটি সন্ত্রাসী দলের এই নেতা চট্টগ্রাম শহরজুড়ে ছিনতাই, অস্ত্রবাজি চালিয়ে আসছিলেন। পুলিশের করা ‘শীর্ষ ছিনতাইকারীদের’ তালিকাতেও তার নাম রয়েছে।
২০ মামলার আসামি নূর আলম দুই বছর আগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে কারাগারেই আছেন। তবে সেখানে বসেই তিনি বাইরে নিজের সহযোগীদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখতেন এবং মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিলেন বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।

মহানগর পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সংবাদ মাধমকে বলেন, “চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ৩২ নম্বর সেলের ৩ নম্বর কারা কক্ষে রাখা হয়েছে হামকা নূর আলমকে। সেখানে থেকেই সে কারাগারের ভেতর এবং বাইরে ইয়াবা কেনা-বেচা করে আসছিল।”

কারারক্ষী সাইফুল ইসলাম কারারক্ষী সাইফুল ইসলাম গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, “মাছুম আগেও গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন। তখনই নূর আলমের সঙ্গে তার পরিচয়। সেই সূত্রে মাছুম জেলে থাকা নূর আলমকে নিয়মিত ইয়াবা সরবরাহ করতেন। আর তাদের এই লেনদেন হত কারারক্ষী সাইফুলের মাধ্যমে।
“মাছুম জানিয়েছে, নূর আলম তাকে ফোন করে কারারক্ষী সাইফুলের মাধ্যমে ইয়াবা পাঠানোর কথা বলে। সকালে আলোর কাছ থেকে মাসুম ৫০টি ইয়াবা সংগ্রহ করে। দুপুরে সাইফুল ইয়াবাগুলো মাছুমের কাছ থেকে বুঝে নেন। তিন দিন আগেও একবার সাইফুলকে ৫০টি ইয়াবা দেওয়ার কথা তিনি জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন।

জালাল পুলিশকে বলেছেন, এক বন্ধুর মাধ্যমে হামকা নূর আলমের সঙ্গে তার পরিচয়। নূর আলম তাকে ফোন করে গাঁজা পাঠানোর কথা বলেছিলেন। সাইফুল তার কাছ থেকে সেই গাঁজা সংগ্রহ করে পৌঁছে দিতেন।