ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo টাটা মটরস বাংলাদেশে উদ্বোধন করলো টাটা যোদ্ধা Logo আশা শিক্ষা কর্মসূচী কর্তৃক অভিভাবক মতবিনিময় সভা Logo গণপূর্ত প্রধান প্রকৌশলীর গাড়ি চাপায় পিষ্ট সহকারী প্রকৌশলী -উত্তাল গণপূর্ত Logo শাবিপ্রবির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ Logo সওজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাহিনুরের সীমাহীন সম্পদ ও অনিয়ম -পর্ব-০১ Logo তামাক সেবনের আলাদা কক্ষ বানালেন গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী: রয়েছে দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ! Logo দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি: কালবে সর্বোচ্চ পদ দখলে রেখেছে আগস্টিন! Logo আইআইএফসি ও মার্কটেল বাংলাদেশ’র মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর Logo ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী Logo সর্বজনীন পেনশন প্রত্যাহারে শাবি শিক্ষক সমিতি মৌন মিছিল ও কালোব্যাজ ধারণ




৮০ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি ক্রয় ৭ কোটিতে!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৫:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০১৯ ১১৯ বার পড়া হয়েছে

সকালের সংবাদ; 
রূপপুরের বালিশ কাহিনিকে হার মানিয়েছে, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ১৪ তলা ভবনই হয়নি অথচ যন্ত্রপাতি আনতে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল জার্মানি যাচ্ছে, আগের কেনা যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে আবার ক্রয়, ৮০ লাখ টাকার সরঞ্জাম কেনা হয় ৭ কোটিতে

সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ১৪ তলা ভবনেরই খবর নেই অথচ এই হাসপাতাল ভবনের জন্য যে যন্ত্রপাতি কেনা হবে তা দেখতে ও যাচাই-বাছাই করতে জার্মানি যাচ্ছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। তারা জার্মানির লুবেক শহরে অবস্থিত ড্রাগারওয়ের্ক কোম্পানির কারখানা পরিদর্শন করবেন। যেসব মেশিন আনা হবে সেগুলো কীভাবে স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে সে বিষয়ে ধারণা অর্জনের উদ্দেশ্যে কর্মকর্তাদের এই সফর। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

রূপপুরের বালিশ কাহিনিকেও হার মানিয়েছে সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল। এই হাসপাতালের ১৪ তলা ভবন নির্মাণ তো দূরের কথা, এখনো অনুমোদনই পায়নি। অথচ সরকারি অর্থের অপচয় করে দেদারসে মেডিকেল যন্ত্রপাতি কিনছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, যা রীতিমতো তুঘলকি কারবার। হাসপাতাল ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার আগেই এর মেডিকেল যন্ত্রপাতি কিনতে শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ! ইতিমধ্যে অনেকগুলো যন্ত্রপাতি কেনাও হয়েছে। এমনকি ৮০ লাখ টাকার যন্ত্র কেনা হয়েছে ৭ কোটি টাকায়, যেগুলো কোনো কাজেই আসছে না! উল্টো এগুলো অব্যবহৃত থাকতে থাকতে অকেজো হয়ে পড়েছে। কোনো কোনোটি একেবারেই নষ্ট হয়ে পড়েছে। আবার কোনো কোনো যন্ত্রপাতিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন করে আবার সেগুলো কেনা হচ্ছে, যাতে শুধু সরকারের অর্থেরই অপচয় হচ্ছে।সূত্র জানায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন রাজধানীর ফুলবাড়িয়ায় অবস্থিত সরকারি কর্মচারী হাসাপাতালের জন্য একটি ১৪ তলা ভবন নির্মাণ অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ইতিমধ্যে এই হাসপাতাল ভবনটি চারতলা পর্যন্ত নির্মাণ হয়েছে। বাকি ১০ তলা কবে নির্মাণ হবে কিংবা ১৪ তলা পর্যন্ত অনুমোদন পাওয়া যাবে কি না সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। যদিও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, কর্মচারী হাসপাতালের জন্য ১৪ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্পটি ইতিমধ্যে একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন সেটির জিও জারির অপেক্ষায় রয়েছে। অথচ এই ভবনের নির্মাণকাজ শেষ না হলেও হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে দরপত্র আহ্বান করে সেগুলো কেনাকাটাও শুরু হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে এই হাসপাতালের জন্য যে সিটিস্ক্যান মেশিন কেনা হয়েছিল, সেটিও গত এক বছর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। কোনো কাজে আসেনি। একইভাবে একটি এমআরআই মেশিন কেনা হয়েছে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে। সেটিও কোনো কাজে আসছে না। পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায়।

সূত্র জানায়, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের জন্য একটি এসটিইএম সেল থেরাপি মেশিন কেনা হয়েছিল ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে। অথচ এ রকম মেশিনের বাজারমূল্য ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা বলে জানা গেছে। কিন্তু ৭ কোটি টাকা দিয়ে এই মেশিনটি কেনা হলেও সেটি রোগীদের কোনো কাজে আসছে না। কারণ এই থেরাপি দিতে হলে আরও ৮০ হাজার টাকা মূল্যের পৃথক আরেকটি মেশিন প্রয়োজন হয়। কিন্তু রোগীদের এ নিয়ে আগ্রহ নেই।

শুধু সিটিস্ক্যান মেশিন, থেরাপি যন্ত্র বা এমআরআই মেশিন নয়, বিকল হয়ে পড়ে আছে মেমোগ্রাফি মেশিনও। তিন বছর ধরে এটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। দাঁতের এক্স-রে করার জন্য ওপিজি মেশিন কেনা হলেও সেটিও আজ পর্যন্ত চালু হয়নি।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ওই হাসপাতালে আজ পর্যন্ত ফিজিওথেরাপি বিভাগ চালু না হলেও সরকারি অর্থ ব্যয় করে মেশিন কেনা হয়েছে, যা কোনো কাজেই আসছে না। আরও মজার তথ্য হচ্ছে, এই হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের চারটি টেবিল কেনা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো ব্যবহার না করে উপরন্তু সেগুলোকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে আরও চারটি অপারেশন টেবিল কেনা হয়েছে, যা রীতিমতো হরিলুট!

এখন এই হাসপাতালের জন্য অ্যানেসথেশিয়া ও ভেন্টিলেশন মেশিন কিনতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই মেডিকেল যন্ত্রপাতিগুলো সরবরাহ করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। দরপত্রের শর্তানুযায়ী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানির লুবেক শহরে অবস্থিত ড্রাগারওয়ের্ক এজি অ্যান্ড কাগা কোম্পানি থেকে ওই যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য, অর্থাৎ সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সত্যি সত্যি জার্মানি থেকে যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছে, নাকি চীনের যন্ত্রপাতি দিয়ে সেটিকে জার্মানি বলে চালিয়ে দিচ্ছে তা যাচাই করতেই সরকারের এক অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল জার্মানি যাচ্ছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রতিনিধি দলটির ৮ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত জার্মানির লুবেক শহরে ওই কোম্পানি পরিদর্শনে যাওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী জিও জারি হয়েছিল। কিন্তু কিছু জটিলতার জন্য নির্ধারিত সময়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

জানতে চাইলে প্রতিনিধি দলের সদস্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. আলি কদর গত রাতে বলেন, হাসপাতালের জন্য যে অ্যানেসথেশিয়া ও ভেন্টিলেশন মেশিন কেনা হচ্ছে, তা যাচাই-বাছাই করতে গত মাসেই তাদের জার্মানি যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মেশিন সরবরাহকারী ওই কোম্পানি থেকে অফার লেটার না আসায় তারা মে মাসে যেতে পারেননি। এখন অফার লেটার এসেছে। তারা ইতিমধ্যে ভিসার জন্য জার্মান দূতাবাসে আবেদন করেছেন। ভিসা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা জার্মানি যাবেন। কত দিনের সফরে যাচ্ছেন জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আগে সাত দিনের একটা শিডিউল ছিল। কিন্তু জার্মান কোম্পানি যে অফার লেটার পাঠিয়েছে তাতে পাঁচ দিনের কথা উল্লেখ করেছে। এ হিসেবে আমরা এখন পাঁচ দিনের জন্য যাব।’

হাসপাতালের ভবন এখনো নির্মাণ হয়নি অথচ যন্ত্রপাতি কেনা হচ্ছে আগেই- এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের এই যুগ্ম সচিব বলেন, ‘আমার মনে হয় বর্তমান যে হাসপাতাল রয়েছে, এর জন্যই এগুলো কেনা হচ্ছে।’ আর ১৪ তলা ভবনের বিষয়ে ইতিমধ্যে একনেকের অনুমোদন পাওয়া গেছেও বলে জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




৮০ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি ক্রয় ৭ কোটিতে!

আপডেট সময় : ১১:০৫:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০১৯

সকালের সংবাদ; 
রূপপুরের বালিশ কাহিনিকে হার মানিয়েছে, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ১৪ তলা ভবনই হয়নি অথচ যন্ত্রপাতি আনতে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল জার্মানি যাচ্ছে, আগের কেনা যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে আবার ক্রয়, ৮০ লাখ টাকার সরঞ্জাম কেনা হয় ৭ কোটিতে

সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ১৪ তলা ভবনেরই খবর নেই অথচ এই হাসপাতাল ভবনের জন্য যে যন্ত্রপাতি কেনা হবে তা দেখতে ও যাচাই-বাছাই করতে জার্মানি যাচ্ছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। তারা জার্মানির লুবেক শহরে অবস্থিত ড্রাগারওয়ের্ক কোম্পানির কারখানা পরিদর্শন করবেন। যেসব মেশিন আনা হবে সেগুলো কীভাবে স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে সে বিষয়ে ধারণা অর্জনের উদ্দেশ্যে কর্মকর্তাদের এই সফর। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

রূপপুরের বালিশ কাহিনিকেও হার মানিয়েছে সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল। এই হাসপাতালের ১৪ তলা ভবন নির্মাণ তো দূরের কথা, এখনো অনুমোদনই পায়নি। অথচ সরকারি অর্থের অপচয় করে দেদারসে মেডিকেল যন্ত্রপাতি কিনছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, যা রীতিমতো তুঘলকি কারবার। হাসপাতাল ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার আগেই এর মেডিকেল যন্ত্রপাতি কিনতে শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ! ইতিমধ্যে অনেকগুলো যন্ত্রপাতি কেনাও হয়েছে। এমনকি ৮০ লাখ টাকার যন্ত্র কেনা হয়েছে ৭ কোটি টাকায়, যেগুলো কোনো কাজেই আসছে না! উল্টো এগুলো অব্যবহৃত থাকতে থাকতে অকেজো হয়ে পড়েছে। কোনো কোনোটি একেবারেই নষ্ট হয়ে পড়েছে। আবার কোনো কোনো যন্ত্রপাতিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন করে আবার সেগুলো কেনা হচ্ছে, যাতে শুধু সরকারের অর্থেরই অপচয় হচ্ছে।সূত্র জানায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন রাজধানীর ফুলবাড়িয়ায় অবস্থিত সরকারি কর্মচারী হাসাপাতালের জন্য একটি ১৪ তলা ভবন নির্মাণ অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ইতিমধ্যে এই হাসপাতাল ভবনটি চারতলা পর্যন্ত নির্মাণ হয়েছে। বাকি ১০ তলা কবে নির্মাণ হবে কিংবা ১৪ তলা পর্যন্ত অনুমোদন পাওয়া যাবে কি না সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। যদিও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, কর্মচারী হাসপাতালের জন্য ১৪ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্পটি ইতিমধ্যে একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন সেটির জিও জারির অপেক্ষায় রয়েছে। অথচ এই ভবনের নির্মাণকাজ শেষ না হলেও হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে দরপত্র আহ্বান করে সেগুলো কেনাকাটাও শুরু হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে এই হাসপাতালের জন্য যে সিটিস্ক্যান মেশিন কেনা হয়েছিল, সেটিও গত এক বছর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। কোনো কাজে আসেনি। একইভাবে একটি এমআরআই মেশিন কেনা হয়েছে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে। সেটিও কোনো কাজে আসছে না। পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায়।

সূত্র জানায়, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের জন্য একটি এসটিইএম সেল থেরাপি মেশিন কেনা হয়েছিল ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে। অথচ এ রকম মেশিনের বাজারমূল্য ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা বলে জানা গেছে। কিন্তু ৭ কোটি টাকা দিয়ে এই মেশিনটি কেনা হলেও সেটি রোগীদের কোনো কাজে আসছে না। কারণ এই থেরাপি দিতে হলে আরও ৮০ হাজার টাকা মূল্যের পৃথক আরেকটি মেশিন প্রয়োজন হয়। কিন্তু রোগীদের এ নিয়ে আগ্রহ নেই।

শুধু সিটিস্ক্যান মেশিন, থেরাপি যন্ত্র বা এমআরআই মেশিন নয়, বিকল হয়ে পড়ে আছে মেমোগ্রাফি মেশিনও। তিন বছর ধরে এটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। দাঁতের এক্স-রে করার জন্য ওপিজি মেশিন কেনা হলেও সেটিও আজ পর্যন্ত চালু হয়নি।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ওই হাসপাতালে আজ পর্যন্ত ফিজিওথেরাপি বিভাগ চালু না হলেও সরকারি অর্থ ব্যয় করে মেশিন কেনা হয়েছে, যা কোনো কাজেই আসছে না। আরও মজার তথ্য হচ্ছে, এই হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের চারটি টেবিল কেনা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো ব্যবহার না করে উপরন্তু সেগুলোকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে আরও চারটি অপারেশন টেবিল কেনা হয়েছে, যা রীতিমতো হরিলুট!

এখন এই হাসপাতালের জন্য অ্যানেসথেশিয়া ও ভেন্টিলেশন মেশিন কিনতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই মেডিকেল যন্ত্রপাতিগুলো সরবরাহ করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। দরপত্রের শর্তানুযায়ী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানির লুবেক শহরে অবস্থিত ড্রাগারওয়ের্ক এজি অ্যান্ড কাগা কোম্পানি থেকে ওই যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য, অর্থাৎ সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সত্যি সত্যি জার্মানি থেকে যন্ত্রপাতি সরবরাহ করছে, নাকি চীনের যন্ত্রপাতি দিয়ে সেটিকে জার্মানি বলে চালিয়ে দিচ্ছে তা যাচাই করতেই সরকারের এক অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল জার্মানি যাচ্ছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রতিনিধি দলটির ৮ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত জার্মানির লুবেক শহরে ওই কোম্পানি পরিদর্শনে যাওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী জিও জারি হয়েছিল। কিন্তু কিছু জটিলতার জন্য নির্ধারিত সময়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

জানতে চাইলে প্রতিনিধি দলের সদস্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. আলি কদর গত রাতে বলেন, হাসপাতালের জন্য যে অ্যানেসথেশিয়া ও ভেন্টিলেশন মেশিন কেনা হচ্ছে, তা যাচাই-বাছাই করতে গত মাসেই তাদের জার্মানি যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মেশিন সরবরাহকারী ওই কোম্পানি থেকে অফার লেটার না আসায় তারা মে মাসে যেতে পারেননি। এখন অফার লেটার এসেছে। তারা ইতিমধ্যে ভিসার জন্য জার্মান দূতাবাসে আবেদন করেছেন। ভিসা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা জার্মানি যাবেন। কত দিনের সফরে যাচ্ছেন জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আগে সাত দিনের একটা শিডিউল ছিল। কিন্তু জার্মান কোম্পানি যে অফার লেটার পাঠিয়েছে তাতে পাঁচ দিনের কথা উল্লেখ করেছে। এ হিসেবে আমরা এখন পাঁচ দিনের জন্য যাব।’

হাসপাতালের ভবন এখনো নির্মাণ হয়নি অথচ যন্ত্রপাতি কেনা হচ্ছে আগেই- এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের এই যুগ্ম সচিব বলেন, ‘আমার মনে হয় বর্তমান যে হাসপাতাল রয়েছে, এর জন্যই এগুলো কেনা হচ্ছে।’ আর ১৪ তলা ভবনের বিষয়ে ইতিমধ্যে একনেকের অনুমোদন পাওয়া গেছেও বলে জানান তিনি।