ঢাকা ০২:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গণপূর্তের ইএম শাখা সার্কেল ৪: তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তৈমুর আলমের দূর্নীতির কীর্তি! Logo সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন জাহাঙ্গীর শিকদার Logo প্রকল্প বণ্টনে অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগে গণপূর্ত সচিব নজরুলকে নিয়ে বিতর্কের ঝড়! Logo শিক্ষা প্রকৌশলে দুর্নীতির অভিযোগ: কোটি টাকার চুক্তিতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহজাহান আলী Logo কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগে সীমাহীন ঘুষ–দুর্নীতির অভিযোগ Logo বটিয়াঘাটায় বিএনপি প্রার্থীর উঠান বৈঠক: সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরবিচ্ছিন্ন নিরাপত্তার আশ্বাস Logo গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার কবির ও ক্যাশিয়ার এনামুল হকের বিরুদ্ধে কোটি টাকার লুটপাটের অভিযোগ|| পর্ব – Logo বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের অর্থ অপব্যবহার: এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি ইস্যুতে হাইকোর্টে যাচ্ছে আইনজীদের সংগঠন  Logo বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের জ্যেষ্ঠ নেতার পদোন্নতি সহ পিআরএল: রয়েছে শত কোটি টাকার লুটপাটের অভিযোগ! Logo দৈনিক সবুজ বাংলাদেশের সম্পাদক মোহাম্মদ মাসুদ এর জন্মদিন আজ

মিয়ানমারের প্রশংসা করে তোপের মুখে টুইটার প্রধান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৮:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ ২৫৮ বার পড়া হয়েছে

 

রোহিঙ্গা মুসলিম হত্যায় অভিযুক্ত মিয়ানমারকে আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরে টুইট লিখে বেকায়দায় পড়েছেন টুইটারের প্রধান কর্মকর্তা জ্যাক ডোরসি। আর তা করার সঙ্গে সঙ্গেই সমালোচনার ঝড়ে পড়েছেন তিনি। খবর বিবিসির।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সারা দুনিয়া যখন সমালোচনা মুখর, তখন মিয়ানমারের প্রশংসা করে ডোরসি লিখেছেন, ‘দেশটি খুবই সুন্দর। সেখানে লোকজন দারুণ আনন্দে থাকে এবং খাবারও অসাধারণ। আমি দেশটির রেঙ্গুন, মানদালাই ও বেগান নগরী ভ্রমণ করেছি।’

মিয়ানমার নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি পোস্ট দিয়েছেন ডোরসি। সেগুলোতে বলা হয়েছে, গত মাসে তিনি মিয়ানমারের উত্তরাংশে ভ্রমণ করেছেন। মেডিটেশন বা ধ্যানকে কেন্দ্র করেই মূলত ছিল তার এই বিশেষ পরিভ্রমণ। টুইটারে ডোরসির প্রায় ৪০ লাখ ফলোয়ার বা অনুসরণকারী রয়েছে।

এই ব্যাপক সংখ্যক অনুসরণকারীদের সামনে তিনি মিয়ানমারকে ভ্রমণের ইতিবাচক গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরলেও সেখানে মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপরে নির্যাতন, নিপীড়নের ও তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি ডোরসি একেবারেই উপেক্ষা করে গেছেন বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।

গত বছর রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়ি আক্রমণ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমনাভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। তারা হাজার হাজার নিরীহ রোহিঙ্গাকে হত্যা করে। সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা ও ধর্ষণ করেছে, তাদের ঘরবাড়ি, জমি সবকিছু পুড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। রোহিঙ্গারা এখনো প্রতিদিনই প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সাগর পেরিয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটির পরিবেশ নিয়ে ডোরসির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা সবাইকে আহত করেছে।

এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে মিয়ানমারকে একটি পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরায় ডোরসি’র টুইটকে ‘নিন্দনীয়’ বলে আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেছে মন্তব্য লিখেছেন একজন।

আরেকজন মন্তব্যকারী আরও বেশ কড়া ভাষায় লিখেছেন, ‘এটি অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন পরামর্শ।’

মিয়ানমারের পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে এই ব্যক্তি আরও লেখেন, ‘এত নিউজ, এত হৈচৈ-কোলাহল হচ্ছে। অথচ এই নিয়ে উনার প্ল্যাটফর্মে কোনও মনোযোগ নেই?’

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে টুইটার ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর সমালোচনা করেছে অন্য আরও অনেকে।

গত মাসে ফেসবুক বলেছে যে, মিয়ানমারে ‘অফলাইন’ বা মানুষের বাস্তব জীবনে যে সহিংসতা চলছে তা থামাতে তারা ব্যর্থ হয়েছে।

এই বিষয়টিকে সামনে এনে একজন লিখেছেন, ‘গণহত্যা চালাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেও ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু জ্যাক ডোরসি খুব গর্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন তার নীরব পরিভ্রমণের খবর।’

আরেকজন টুইটার ব্যবহারকারী এই বলে ডোরসিকে প্রশ্ন করেছেন যে, ‘তুমি যখন মিয়ানমারে ধ্যান করছিলে তখন কি ধ্যানের ভেতর মিয়ানমার সরকার ও তাদের সমর্থকরা তোমার প্ল্যাটফর্মকে (টু্‌ইটার) ব্যবহার করে কীভাবে সহিংসতার বিস্তার ঘটাচ্ছে তা থামানোর উপায় খুঁজেছিলে?’

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর দমন-নিপীড়ন শুরুর পর ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘ একে ‘জাতিগত নিধন’ আখ্যা দিয়ে মিয়ানমারের ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছে। তবে মিয়ানমার সেনাবাহিনী সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া কাতারের সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিনিধি মোহাম্মদ জামজুম বলেন, ডোরসির টুইট দেখে তিনি ‘একেবারেই বাকরুদ্ধ’।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
error: Content is protected !!

মিয়ানমারের প্রশংসা করে তোপের মুখে টুইটার প্রধান

আপডেট সময় : ০১:৪৮:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮

 

রোহিঙ্গা মুসলিম হত্যায় অভিযুক্ত মিয়ানমারকে আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরে টুইট লিখে বেকায়দায় পড়েছেন টুইটারের প্রধান কর্মকর্তা জ্যাক ডোরসি। আর তা করার সঙ্গে সঙ্গেই সমালোচনার ঝড়ে পড়েছেন তিনি। খবর বিবিসির।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সারা দুনিয়া যখন সমালোচনা মুখর, তখন মিয়ানমারের প্রশংসা করে ডোরসি লিখেছেন, ‘দেশটি খুবই সুন্দর। সেখানে লোকজন দারুণ আনন্দে থাকে এবং খাবারও অসাধারণ। আমি দেশটির রেঙ্গুন, মানদালাই ও বেগান নগরী ভ্রমণ করেছি।’

মিয়ানমার নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি পোস্ট দিয়েছেন ডোরসি। সেগুলোতে বলা হয়েছে, গত মাসে তিনি মিয়ানমারের উত্তরাংশে ভ্রমণ করেছেন। মেডিটেশন বা ধ্যানকে কেন্দ্র করেই মূলত ছিল তার এই বিশেষ পরিভ্রমণ। টুইটারে ডোরসির প্রায় ৪০ লাখ ফলোয়ার বা অনুসরণকারী রয়েছে।

এই ব্যাপক সংখ্যক অনুসরণকারীদের সামনে তিনি মিয়ানমারকে ভ্রমণের ইতিবাচক গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরলেও সেখানে মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপরে নির্যাতন, নিপীড়নের ও তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি ডোরসি একেবারেই উপেক্ষা করে গেছেন বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।

গত বছর রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়ি আক্রমণ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমনাভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। তারা হাজার হাজার নিরীহ রোহিঙ্গাকে হত্যা করে। সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা ও ধর্ষণ করেছে, তাদের ঘরবাড়ি, জমি সবকিছু পুড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। রোহিঙ্গারা এখনো প্রতিদিনই প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সাগর পেরিয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটির পরিবেশ নিয়ে ডোরসির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা সবাইকে আহত করেছে।

এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে মিয়ানমারকে একটি পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরায় ডোরসি’র টুইটকে ‘নিন্দনীয়’ বলে আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেছে মন্তব্য লিখেছেন একজন।

আরেকজন মন্তব্যকারী আরও বেশ কড়া ভাষায় লিখেছেন, ‘এটি অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন পরামর্শ।’

মিয়ানমারের পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে এই ব্যক্তি আরও লেখেন, ‘এত নিউজ, এত হৈচৈ-কোলাহল হচ্ছে। অথচ এই নিয়ে উনার প্ল্যাটফর্মে কোনও মনোযোগ নেই?’

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে টুইটার ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর সমালোচনা করেছে অন্য আরও অনেকে।

গত মাসে ফেসবুক বলেছে যে, মিয়ানমারে ‘অফলাইন’ বা মানুষের বাস্তব জীবনে যে সহিংসতা চলছে তা থামাতে তারা ব্যর্থ হয়েছে।

এই বিষয়টিকে সামনে এনে একজন লিখেছেন, ‘গণহত্যা চালাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেও ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু জ্যাক ডোরসি খুব গর্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন তার নীরব পরিভ্রমণের খবর।’

আরেকজন টুইটার ব্যবহারকারী এই বলে ডোরসিকে প্রশ্ন করেছেন যে, ‘তুমি যখন মিয়ানমারে ধ্যান করছিলে তখন কি ধ্যানের ভেতর মিয়ানমার সরকার ও তাদের সমর্থকরা তোমার প্ল্যাটফর্মকে (টু্‌ইটার) ব্যবহার করে কীভাবে সহিংসতার বিস্তার ঘটাচ্ছে তা থামানোর উপায় খুঁজেছিলে?’

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর দমন-নিপীড়ন শুরুর পর ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘ একে ‘জাতিগত নিধন’ আখ্যা দিয়ে মিয়ানমারের ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছে। তবে মিয়ানমার সেনাবাহিনী সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া কাতারের সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিনিধি মোহাম্মদ জামজুম বলেন, ডোরসির টুইট দেখে তিনি ‘একেবারেই বাকরুদ্ধ’।