ঢাকা ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :




পারিশ্রমিক বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন ম্যাকরোঁ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ ১১ বার পড়া হয়েছে

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশ জুড়ে সহিংস প্রতিবাদের পর সর্বনিম্ন মজুরি বৃদ্ধি ও কর হ্রাসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরোঁ। খবর বিবিসির।

জ্বালানি কর বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিসহ অন্যান্য ইস্যুতে পরপর চারটি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ নামে পরিচিতি পাওয়া আন্দোলনকারীদের সহিংস প্রতিবাদ প্রত্যক্ষ করেছে ফ্রান্স।

জাতির উদ্দেশ্যে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে ম্যাকরোঁ বলেছেন, সহিংসতার নিন্দা করলেও প্রতিবাদকারীদের ক্ষোভ গভীর এবং অনেক দিক থেকেই বৈধ ছিল।

অনেক লোক তাদের জীবনযাত্রার মান নিয়ে অসুখী ছিল এবং ‘তাদের কথা শোনা হচ্ছিল না’ বলে তারা অনুভব করছিলেন বলেও স্বীকার করেছেন ম্যাকরোঁ।

আন্দোলনকারীদের ক্ষোভের ন্যায্যতা স্বীকার করে ২০১৯ সাল থেকে মাস প্রতি সর্বনিম্ন মজুরি ১০০ ইউরো বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

নিম্ন আয়ের পেনশনভোগীদের কর বাড়ানোর পরিকল্পনা বাতিল করা হবে, ওভারটাইমের মজুরির ওপর কর বসানো হবে না এবং বছর শেষে কর্মচারীদের করমুক্ত বোনাস দেওয়ার বিষয়ে নিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তবে বিত্তশালীদের ওপর কর পুনর্বহালের সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ‘এটি আমাদের দুর্বল করবে, আমাদের চাকরি বাড়ানো দরকার।’

সর্বনিম্ন মজুরি সাত শতাংশ বাড়বে এবং এই বৃদ্ধিজনিত খরচ নিয়োগকারীদের বদলে সরকার বহন করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে মোট আট থেকে ১০ বিলিয়ন ইউরো খরচ হতে পারে বলে ব্রডকাস্টার বিএফএমটিভিকে জানিয়েছেন সরকারের মন্ত্রী অলিভিয়ে ডুসো।

বেঞ্জামিন কুশি নামের এক ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনকারী ম্যাকরোঁর এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ফ্রান্স টু টিভিকে বলেছেন, ‘এগুলো অর্ধেক পদক্ষেপ। ম্যাকরোঁর আরও অনেক কিছু দেওয়ার আছে।’

বিরোধী রাজনীতিকদের মধ্যেও ছিল সমালোচনার সুর। বামপন্তী নেতা জ লুক মিনোশ জানিয়েছেন, আরও প্রতিবাদ হবে বলে ধারণা করছেন তিনি। ডানপন্থি রাজনীতিক এরিক ইভোর্থ এসব পদক্ষেপকে ‘স্বল্প-মেয়াদি’ সমাধান বলে অভিহিত করেছেন। চরম ডানপন্থি নেতা ম্যারিন লু পেন বলেছেন, ম্যাকরোঁ তার কিছু ভুল স্বীকার করলেও সবগুলো করেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




error: Content is protected !!

পারিশ্রমিক বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন ম্যাকরোঁ

আপডেট সময় : ০১:৪৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশ জুড়ে সহিংস প্রতিবাদের পর সর্বনিম্ন মজুরি বৃদ্ধি ও কর হ্রাসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরোঁ। খবর বিবিসির।

জ্বালানি কর বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিসহ অন্যান্য ইস্যুতে পরপর চারটি সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ নামে পরিচিতি পাওয়া আন্দোলনকারীদের সহিংস প্রতিবাদ প্রত্যক্ষ করেছে ফ্রান্স।

জাতির উদ্দেশ্যে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে ম্যাকরোঁ বলেছেন, সহিংসতার নিন্দা করলেও প্রতিবাদকারীদের ক্ষোভ গভীর এবং অনেক দিক থেকেই বৈধ ছিল।

অনেক লোক তাদের জীবনযাত্রার মান নিয়ে অসুখী ছিল এবং ‘তাদের কথা শোনা হচ্ছিল না’ বলে তারা অনুভব করছিলেন বলেও স্বীকার করেছেন ম্যাকরোঁ।

আন্দোলনকারীদের ক্ষোভের ন্যায্যতা স্বীকার করে ২০১৯ সাল থেকে মাস প্রতি সর্বনিম্ন মজুরি ১০০ ইউরো বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

নিম্ন আয়ের পেনশনভোগীদের কর বাড়ানোর পরিকল্পনা বাতিল করা হবে, ওভারটাইমের মজুরির ওপর কর বসানো হবে না এবং বছর শেষে কর্মচারীদের করমুক্ত বোনাস দেওয়ার বিষয়ে নিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তবে বিত্তশালীদের ওপর কর পুনর্বহালের সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ‘এটি আমাদের দুর্বল করবে, আমাদের চাকরি বাড়ানো দরকার।’

সর্বনিম্ন মজুরি সাত শতাংশ বাড়বে এবং এই বৃদ্ধিজনিত খরচ নিয়োগকারীদের বদলে সরকার বহন করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে মোট আট থেকে ১০ বিলিয়ন ইউরো খরচ হতে পারে বলে ব্রডকাস্টার বিএফএমটিভিকে জানিয়েছেন সরকারের মন্ত্রী অলিভিয়ে ডুসো।

বেঞ্জামিন কুশি নামের এক ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনকারী ম্যাকরোঁর এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ফ্রান্স টু টিভিকে বলেছেন, ‘এগুলো অর্ধেক পদক্ষেপ। ম্যাকরোঁর আরও অনেক কিছু দেওয়ার আছে।’

বিরোধী রাজনীতিকদের মধ্যেও ছিল সমালোচনার সুর। বামপন্তী নেতা জ লুক মিনোশ জানিয়েছেন, আরও প্রতিবাদ হবে বলে ধারণা করছেন তিনি। ডানপন্থি রাজনীতিক এরিক ইভোর্থ এসব পদক্ষেপকে ‘স্বল্প-মেয়াদি’ সমাধান বলে অভিহিত করেছেন। চরম ডানপন্থি নেতা ম্যারিন লু পেন বলেছেন, ম্যাকরোঁ তার কিছু ভুল স্বীকার করলেও সবগুলো করেননি।