ঢাকা ০৭:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ




মশা থেকে এখনই সতকর্তা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১১:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯ ১২২ বার পড়া হয়েছে

অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ;

অ্যানোফিলিস, এডিস ও কিউলেক্স—এ তিন ধরনের মশা আমাদের দেশে বেশি দেখা যায়। এদের দেখে চেনা সহজ। অ্যানোফিলিস মশা তার লেজের দিকটি উঁচু করে বসে। এডিস ও কিউলেক্স মশা লেজের দিকটি উঁচু না করে বসার স্থানের সঙ্গে তাদের শরীরকে মোটামুটি সমান্তরাল করে রাখে। এডিস মশার পায়ে বাঘের মতো ডোরাকাটা থাকে। এডিস মশা দিনের বেলাতেও কামড়ায়। প্রতিবছর অনেক মানুষ মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়। আবার ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার মৌসুমও এসে গেছে। তাই এখন থেকেই সাবধান হতে হবে।

কোথায় ডিম পাড়ে

অ্যানোফিলিস মশা পুকুরের বা খেতখামারের পরিষ্কার বদ্ধ পানিতে ডিম পাড়ে। এডিস মশা ডিম পাড়ে গাড়ির পরিত্যক্ত টায়ার, ছাদের ওপরে বা বারান্দায় থাকা ফুলের টব, পরিত্যক্ত নারকেলের মালা, ডাবের খোসা ইত্যাদিতে জমে থাকা অল্প পরিমাণ পরিষ্কার পানিতে। আর কিউলেক্স মশা ডিম পাড়ে বদ্ধ নোংরা পানিতে (যেমন, বদ্ধ ড্রেনের নোংরা পানি)। মশার ডিম থেকে পরিণত মশা হতে এক থেকে দুই সপ্তাহ লাগে। পরিণত মশা মোটামুটি এক সপ্তাহ থেকে এক মাস পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

কীভাবে রোগ ছড়ায়
কামড় দিয়ে অসুস্থ মানুষের রক্ত চুষে নেওয়ার সময় রক্তে থাকা জীবাণুগুলোও মশার পেটে প্রবেশ করে। তারপর কয়েক দিনের মধ্যেই জীবাণুগুলো সংখ্যায় বেড়ে মশার লালাগ্রন্থিতে প্রবেশ করে। তখন এই মশা অন্য কোনো সুস্থ মানুষকে কামড় দিলে মশার লালায় থাকা জীবাণুগুলো সুস্থ মানুষের রক্তে প্রবেশ করে।

মশা নানান রোগের বাহক। স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ‘ম্যালেরিয়া’ রোগ ছড়ায়। এডিস মশার কামড়ে ছড়ায় ‘ডেঙ্গুজ্বর’ ও ‘চিকুনগুনিয়া জ্বর’। আর কিউলেক্স মশা ছড়ায় ‘ফাইলেরিয়া’ বা ‘গোদরোগ’।

প্রতিরোধের উপায়
মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রথমত মশা মারার ওষুধ ছিটিয়ে মশা নিধন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ব্যবস্থা নিতে হবে যেন মশার ডিম পাড়ার স্থানগুলোতে মশা ডিম না পাড়তে পারে। যেমন, বদ্ধ পানিতে প্রবাহ আনতে হবে যেন অ্যানোফিলিস ও কিউলেক্স মশা ডিম না পাড়তে পারে। ড্রেন, পুকুর বা অন্য জলাশয়ের নোংরা পানি পরিষ্কার করতে হবে। বাসাবাড়ির ছাদে ও আশপাশে থাকা ফুলের টব, ডাবের খোসা, কোমল পানীয়র ক্যান, পরিত্যক্ত টায়ার ইত্যাদিতে চার–পাঁচ দিনের বেশি সময় ধরে যেন পানি জমে থাকতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাহলে এডিস মশার ডিম পাড়ার জায়গা থাকবে না। এই পরিচ্ছন্নতা কেবল সরকার বা সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে সম্ভব নয়, পাড়ায় পাড়ায় এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। তৃতীয়ত, ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করতে হবে। এ ছাড়া ঘরে স্প্রে, মশার কয়েল ও দরজা–জানালায় নেট ব্যবহার করেও মশার কামড় থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। ছোট শিশুদের ফুল হাতা জামা বা প্যান্ট পরাতে হবে সন্ধ্যার পর।

ডা. মো. শহীদুল্লাহ: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ, কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




মশা থেকে এখনই সতকর্তা

আপডেট সময় : ১১:১১:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯

অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ;

অ্যানোফিলিস, এডিস ও কিউলেক্স—এ তিন ধরনের মশা আমাদের দেশে বেশি দেখা যায়। এদের দেখে চেনা সহজ। অ্যানোফিলিস মশা তার লেজের দিকটি উঁচু করে বসে। এডিস ও কিউলেক্স মশা লেজের দিকটি উঁচু না করে বসার স্থানের সঙ্গে তাদের শরীরকে মোটামুটি সমান্তরাল করে রাখে। এডিস মশার পায়ে বাঘের মতো ডোরাকাটা থাকে। এডিস মশা দিনের বেলাতেও কামড়ায়। প্রতিবছর অনেক মানুষ মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়। আবার ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার মৌসুমও এসে গেছে। তাই এখন থেকেই সাবধান হতে হবে।

কোথায় ডিম পাড়ে

অ্যানোফিলিস মশা পুকুরের বা খেতখামারের পরিষ্কার বদ্ধ পানিতে ডিম পাড়ে। এডিস মশা ডিম পাড়ে গাড়ির পরিত্যক্ত টায়ার, ছাদের ওপরে বা বারান্দায় থাকা ফুলের টব, পরিত্যক্ত নারকেলের মালা, ডাবের খোসা ইত্যাদিতে জমে থাকা অল্প পরিমাণ পরিষ্কার পানিতে। আর কিউলেক্স মশা ডিম পাড়ে বদ্ধ নোংরা পানিতে (যেমন, বদ্ধ ড্রেনের নোংরা পানি)। মশার ডিম থেকে পরিণত মশা হতে এক থেকে দুই সপ্তাহ লাগে। পরিণত মশা মোটামুটি এক সপ্তাহ থেকে এক মাস পর্যন্ত বেঁচে থাকে।

কীভাবে রোগ ছড়ায়
কামড় দিয়ে অসুস্থ মানুষের রক্ত চুষে নেওয়ার সময় রক্তে থাকা জীবাণুগুলোও মশার পেটে প্রবেশ করে। তারপর কয়েক দিনের মধ্যেই জীবাণুগুলো সংখ্যায় বেড়ে মশার লালাগ্রন্থিতে প্রবেশ করে। তখন এই মশা অন্য কোনো সুস্থ মানুষকে কামড় দিলে মশার লালায় থাকা জীবাণুগুলো সুস্থ মানুষের রক্তে প্রবেশ করে।

মশা নানান রোগের বাহক। স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ‘ম্যালেরিয়া’ রোগ ছড়ায়। এডিস মশার কামড়ে ছড়ায় ‘ডেঙ্গুজ্বর’ ও ‘চিকুনগুনিয়া জ্বর’। আর কিউলেক্স মশা ছড়ায় ‘ফাইলেরিয়া’ বা ‘গোদরোগ’।

প্রতিরোধের উপায়
মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রথমত মশা মারার ওষুধ ছিটিয়ে মশা নিধন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ব্যবস্থা নিতে হবে যেন মশার ডিম পাড়ার স্থানগুলোতে মশা ডিম না পাড়তে পারে। যেমন, বদ্ধ পানিতে প্রবাহ আনতে হবে যেন অ্যানোফিলিস ও কিউলেক্স মশা ডিম না পাড়তে পারে। ড্রেন, পুকুর বা অন্য জলাশয়ের নোংরা পানি পরিষ্কার করতে হবে। বাসাবাড়ির ছাদে ও আশপাশে থাকা ফুলের টব, ডাবের খোসা, কোমল পানীয়র ক্যান, পরিত্যক্ত টায়ার ইত্যাদিতে চার–পাঁচ দিনের বেশি সময় ধরে যেন পানি জমে থাকতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাহলে এডিস মশার ডিম পাড়ার জায়গা থাকবে না। এই পরিচ্ছন্নতা কেবল সরকার বা সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে সম্ভব নয়, পাড়ায় পাড়ায় এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। তৃতীয়ত, ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করতে হবে। এ ছাড়া ঘরে স্প্রে, মশার কয়েল ও দরজা–জানালায় নেট ব্যবহার করেও মশার কামড় থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। ছোট শিশুদের ফুল হাতা জামা বা প্যান্ট পরাতে হবে সন্ধ্যার পর।

ডা. মো. শহীদুল্লাহ: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ, কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহ।