ঢাকা ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo এমপি আনার খুন: রহস্যময় রূপে শীর্ষ দুই ব্যবসায়ী Logo রূপালী ব্যাংকের ডিজিএম কর্তৃক সহকর্মী নারীকে যৌন হয়রানি: ধামাচাপা দিতে মরিয়া তদন্ত কমিটি Logo প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা হাতিয়ে বহাল তবিয়তে মাদারীপুরের দুই সহকারী সমাজসেবা অফিসারl Logo যমুনা লাইফের গ্রাহক প্রতারণায় ‘জড়িতরা’ কে কোথায় Logo ঢাকাস্থ ভোলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আহসান কামরুল, সম্পাদক জিয়াউর রহমান Logo টাটা মটরস বাংলাদেশে উদ্বোধন করলো টাটা যোদ্ধা Logo আশা শিক্ষা কর্মসূচী কর্তৃক অভিভাবক মতবিনিময় সভা Logo গণপূর্ত প্রধান প্রকৌশলীর গাড়ি চাপায় পিষ্ট সহকারী প্রকৌশলী -উত্তাল গণপূর্ত Logo শাবিপ্রবির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ Logo সওজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাহিনুরের সীমাহীন সম্পদ ও অনিয়ম -পর্ব-০১




প্রবাসীর দুঃখ প্রবাসী ছাড়া আর কেউ বুঝে না

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৭:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০১৯ ১০৮ বার পড়া হয়েছে

কুয়েত প্রতিনিধি;

পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ও উন্নত জীবনের আশায় প্রতিদিন হাজার হাজার যুবক পাড়ি জমাচ্ছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। সুদে টাকা নিয়ে ভিটাবাড়ী বন্ধক দিয়ে উচ্চ মূল্যে ভিসা নিয়ে অনেকেই আবার টাকার বিনিময়ে চুক্তি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাড়ি জমায় সমুদ্র পথে। বর্তমানে বিভিন্ন দেশে প্রায় এক কোটি প্রবাসীর বসবাস। প্রবাসীরা রাত দিন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পরিশ্রম করে যায় শুধুমাত্র পরিবারের সুখ আর শান্তির জন্য।

দুই ঈদ ও বিভিন্ন উৎসবে সবাই মজা আনন্দ করে। প্রবাসে ঈদের দিনেও কাজে যেতে হয়। কর্মস্থলে সহপাঠীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দটুকু ভাগাভাগি করে নেয় নিজেদের মত করে। আবার বেশিরভাগ দেশেই নিজদেশের বাংলাদেশিদের কারণে বেতন, আকামাসহ নানা ধরণের ঝামেলার মধ্যে দিন কাটে প্রবাসীদের।

মাস শেষে যখনই বেতন হাতে পায় সেই বেতনের টাকা কখন দেশে পরিবারে কাছে পাঠাবে সেই চিন্তায় অস্থির থাকে। আবার অনেক সময় দেখা যায় কাজ করেও মাস শেষে ঠিকমত বেতন পায় না। বেতন দিতে দেরি হলে দেশ থেকে ফোন আসে। মাসতো শেষ, টাকা কোথায়? পাড়ার দোকানে ও পাওনাদাররা আসছে আরো শোনায় নানা ধরণের কথা। পরিবারের বিভিন্ন জনের কাছ থেকে নানাবিধ চিন্তায় বাসা বাঁধে হ্রদরোগের মত নিরব ঘাতক। প্রতিদিন শোনাযায় ওমুক নামের ওমুক উপজেলার এক প্রবাসী ভাই স্ট্রোক করে মারা গেছে। এ ধরণের সংবাদ প্রতিদিনই চোখে পড়ে ফেসবুক খুললে। যাদের আত্মীয় স্বজন থাকে মৃত প্রবাসী মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠাতে সম্পন্ন করতে শুরু করে আইনী কার্যক্রম। বিভিন্ন জনের সহযোগিতায় কফিন বন্দি করে মরদেহ দেশে পাঠায়।

কোন প্রবাসী বিদেশে মারা গেলে বাংলাদেশ সরকার লাশ দাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা এবং পরর্বতীতে তিন লক্ষ টাকা প্রদান করে। কিন্তু কেউ একজন বিদেশে মারা গেলে একটি লাশ কিভাবে দেশে আসে সেই খোজ কেউ রাখে না। পাড়া প্রতিবেশি আত্মীয় স্বজন গুঞ্জন করে লাশের সঙ্গে কত টাকা আসছে? শুধুমাত্র মা বাবা ছাড়া প্রায় সবার মনে এ কৌতূহল জাগে কত টাকা এসেছে কফিনের সঙ্গে। লাশ আসার আগে পাওনাদারেরা এসে বসে থাকে টাকার জন্য। অনেক সময় লাশ দাফন দিতেও বাঁধা দেয়ার ঘটনা শোনা যায়। বেশিরভাগ শ্রমিক হিসেবে কম বেতনে কাজ করে যা পায় তা দিয়ে কোন রকমে সংসার চলতো। সংগঠন বা বন্ধু বান্ধব মিলে প্রবাসীদের কাছ থেকে টাকা তুলে যে যা পারে সহযোগিতা করে। এমনও প্রবাসীর মরদেহ হিমঘরে বক্সে পড়ে আছে যার খোজ খবর নেয়ার কেউ নেই।

দেখা যায় এদের মধ্যে বেশির ভাগ নকল পাসপোর্ট, বা অবৈধ পথে আসা প্রবাসীরা। অনেক সময় বাংলাদেশের নাগরিক ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, অন্যদেশে পাসপোর্ট নিয়ে প্রবেশ করেন। তথ্য গরমিল থাকার কারণে খোজ না পেলে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন দিয়ে দেয়া হয়। দূতাবাসের তথ্য মতে ২০১৭ সালে কুয়েতে ২১৭ ও ২০১৮ সালে ২৫৩ জন প্রবাসী মারা গেলে তার মধ্যে বেশিরভাগ স্ট্রোক করে মারা গেছে।

পরিবারে সুখের ও শান্তির জন্য আসা প্রবাসী যখন অসুস্থ হয়ে দেশে যায় কিছুদিন পর টাকার অভাবে সেই প্রবাসী ও তার পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করে। আগে যে পরিবার দশ জনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলেছে এখন চোখ শরমে আত্মীয় স্বজন কারো কাছে বলেতে পারে না নিরব কান্না আর নিরব দুঃখে জীবন যায় তাদের।

তাই বিদেশে প্রত্যেক প্রবাসীদের উচিত আগে নিজের শরীরের প্রতি খেয়াল রাখা। যদিও এখানে বেশিরভাগেরই পরিবার থাকে না। মনের প্রশান্তির জন্য কাজের ফাঁকে ছুটির দিন গুলোতে আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে মিলিত হলে মনে মধ্যে দুঃখ কষ্ট কম থাকে মানসিক চাপ ও অশান্তি কমে যায়। প্রতিটি প্রবাসী তার পরিবারের শান্তি ও সুখের জন্য পরিশ্রম করে আয় করে। সেই আয়ের কিছু টাকা নিজের নামে ব্যাংক একাউন্ট বা বীমা করে রাখে যাতে হঠাৎ কোন দুর্ঘটনার সময় কাজে লাগাতে পারে। কারণ বিপদে পড়লে অনেক কাজের মানুষকে আর পাশে পাওয়া যায় না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




প্রবাসীর দুঃখ প্রবাসী ছাড়া আর কেউ বুঝে না

আপডেট সময় : ০৪:৫৭:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০১৯

কুয়েত প্রতিনিধি;

পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ও উন্নত জীবনের আশায় প্রতিদিন হাজার হাজার যুবক পাড়ি জমাচ্ছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। সুদে টাকা নিয়ে ভিটাবাড়ী বন্ধক দিয়ে উচ্চ মূল্যে ভিসা নিয়ে অনেকেই আবার টাকার বিনিময়ে চুক্তি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাড়ি জমায় সমুদ্র পথে। বর্তমানে বিভিন্ন দেশে প্রায় এক কোটি প্রবাসীর বসবাস। প্রবাসীরা রাত দিন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পরিশ্রম করে যায় শুধুমাত্র পরিবারের সুখ আর শান্তির জন্য।

দুই ঈদ ও বিভিন্ন উৎসবে সবাই মজা আনন্দ করে। প্রবাসে ঈদের দিনেও কাজে যেতে হয়। কর্মস্থলে সহপাঠীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দটুকু ভাগাভাগি করে নেয় নিজেদের মত করে। আবার বেশিরভাগ দেশেই নিজদেশের বাংলাদেশিদের কারণে বেতন, আকামাসহ নানা ধরণের ঝামেলার মধ্যে দিন কাটে প্রবাসীদের।

মাস শেষে যখনই বেতন হাতে পায় সেই বেতনের টাকা কখন দেশে পরিবারে কাছে পাঠাবে সেই চিন্তায় অস্থির থাকে। আবার অনেক সময় দেখা যায় কাজ করেও মাস শেষে ঠিকমত বেতন পায় না। বেতন দিতে দেরি হলে দেশ থেকে ফোন আসে। মাসতো শেষ, টাকা কোথায়? পাড়ার দোকানে ও পাওনাদাররা আসছে আরো শোনায় নানা ধরণের কথা। পরিবারের বিভিন্ন জনের কাছ থেকে নানাবিধ চিন্তায় বাসা বাঁধে হ্রদরোগের মত নিরব ঘাতক। প্রতিদিন শোনাযায় ওমুক নামের ওমুক উপজেলার এক প্রবাসী ভাই স্ট্রোক করে মারা গেছে। এ ধরণের সংবাদ প্রতিদিনই চোখে পড়ে ফেসবুক খুললে। যাদের আত্মীয় স্বজন থাকে মৃত প্রবাসী মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠাতে সম্পন্ন করতে শুরু করে আইনী কার্যক্রম। বিভিন্ন জনের সহযোগিতায় কফিন বন্দি করে মরদেহ দেশে পাঠায়।

কোন প্রবাসী বিদেশে মারা গেলে বাংলাদেশ সরকার লাশ দাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা এবং পরর্বতীতে তিন লক্ষ টাকা প্রদান করে। কিন্তু কেউ একজন বিদেশে মারা গেলে একটি লাশ কিভাবে দেশে আসে সেই খোজ কেউ রাখে না। পাড়া প্রতিবেশি আত্মীয় স্বজন গুঞ্জন করে লাশের সঙ্গে কত টাকা আসছে? শুধুমাত্র মা বাবা ছাড়া প্রায় সবার মনে এ কৌতূহল জাগে কত টাকা এসেছে কফিনের সঙ্গে। লাশ আসার আগে পাওনাদারেরা এসে বসে থাকে টাকার জন্য। অনেক সময় লাশ দাফন দিতেও বাঁধা দেয়ার ঘটনা শোনা যায়। বেশিরভাগ শ্রমিক হিসেবে কম বেতনে কাজ করে যা পায় তা দিয়ে কোন রকমে সংসার চলতো। সংগঠন বা বন্ধু বান্ধব মিলে প্রবাসীদের কাছ থেকে টাকা তুলে যে যা পারে সহযোগিতা করে। এমনও প্রবাসীর মরদেহ হিমঘরে বক্সে পড়ে আছে যার খোজ খবর নেয়ার কেউ নেই।

দেখা যায় এদের মধ্যে বেশির ভাগ নকল পাসপোর্ট, বা অবৈধ পথে আসা প্রবাসীরা। অনেক সময় বাংলাদেশের নাগরিক ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, অন্যদেশে পাসপোর্ট নিয়ে প্রবেশ করেন। তথ্য গরমিল থাকার কারণে খোজ না পেলে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন দিয়ে দেয়া হয়। দূতাবাসের তথ্য মতে ২০১৭ সালে কুয়েতে ২১৭ ও ২০১৮ সালে ২৫৩ জন প্রবাসী মারা গেলে তার মধ্যে বেশিরভাগ স্ট্রোক করে মারা গেছে।

পরিবারে সুখের ও শান্তির জন্য আসা প্রবাসী যখন অসুস্থ হয়ে দেশে যায় কিছুদিন পর টাকার অভাবে সেই প্রবাসী ও তার পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করে। আগে যে পরিবার দশ জনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলেছে এখন চোখ শরমে আত্মীয় স্বজন কারো কাছে বলেতে পারে না নিরব কান্না আর নিরব দুঃখে জীবন যায় তাদের।

তাই বিদেশে প্রত্যেক প্রবাসীদের উচিত আগে নিজের শরীরের প্রতি খেয়াল রাখা। যদিও এখানে বেশিরভাগেরই পরিবার থাকে না। মনের প্রশান্তির জন্য কাজের ফাঁকে ছুটির দিন গুলোতে আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে মিলিত হলে মনে মধ্যে দুঃখ কষ্ট কম থাকে মানসিক চাপ ও অশান্তি কমে যায়। প্রতিটি প্রবাসী তার পরিবারের শান্তি ও সুখের জন্য পরিশ্রম করে আয় করে। সেই আয়ের কিছু টাকা নিজের নামে ব্যাংক একাউন্ট বা বীমা করে রাখে যাতে হঠাৎ কোন দুর্ঘটনার সময় কাজে লাগাতে পারে। কারণ বিপদে পড়লে অনেক কাজের মানুষকে আর পাশে পাওয়া যায় না।