ঢাকা ০১:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :




মাদক বিক্রিতে বাধা দেয়ায় লাইব্রেরিয়ানকে কুপিয়ে রক্তাক্ত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৩:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ মে ২০১৯ ৬৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল;
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ক্ষুদ্রকাঠি ব্রাদার্স ক্লাবে জুয়া ও মাদক বিক্রিতে বাধা দেয়ায় মাহবুবুল আলম শিমুল (৩৫) নামের কলেজের এক লাইব্রেরিয়ানকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে।

চাপাতি ও দা দিয়ে অন্তত ১২ থেকে ১৪টি আঘাত করা হয়েছে মাহবুবুল আলমকে। এতে তার খাদ্যনালী কেটে গেছে। এছাড়া ফুসফুসসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে তার। মাহবুবুল আলমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

আহত মাহবুবুল আলম বাবুগঞ্জ উপজেলার ক্ষুদ্রকাঠি এলাকার মৃত মো. মাহফুজুর রহমানের ছেলে এবং মুলাদী উপজেলার চরকালেখান আদর্শ কলেজে লাইব্রেরিয়ান পদে কর্মরত রয়েছেন।

আহত মাহবুবুল আলমের ছোট ভাই সাদিকুর রহমান শাওন জানান, তার বড় ভাই মাহবুবুল আলম ক্ষুদ্রকাঠি ব্রাদার্স ক্লাবের সদস্য। কলেজ থেকে ফিরে সন্ধ্যার পর পর মাঝে মাঝে ক্লাবে সময় কাটাতেন। মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত কবির খান, রাজন সিকদার ও স্বপন সিকদার সম্প্রতি ব্রাদার্স ক্লাবে জুয়ার আসর ও মাদক বিক্রি করতে চান। এতে বাধা দেন মাহবুবুল আলম। ক্লাবে জুয়ার আসর ও মাদক বিক্রি করলে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার কথা বলেন মাহবুবুল আলম। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার তাদের সঙ্গে মাহবুবুল আলমের বাগবিতণ্ডা হয়। এ সময় মাহবুবুল আলমকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন কবির খান, রাজন সিকদার ও স্বপন সিকদার।

সাদিকুর রহমান শাওন আরও জানান, জুয়া ও মাদক বিক্রিতে বাধা দেয়ায় জের ধরে রোববার রাতে কবির খান, রাজন সিকদার ও স্বপন সিকদার ছয় থেকে সাতজন সহযোগী নিয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে মাহবুবুল আলমের ওপর স্টিল ব্রিজ এলাকায় হামলা চালায়। এ সময় তারা রড দিয়ে পেটাতে থাকে। মাহবুবুল আলম প্রতিবাদ করলে চাপাতি ও দা দিয়ে অন্তত ১২ থেকে ১৪টি আঘাত করে তারা। মাটিতে লুটিয়ে পড়লে কবির খান, রাজন সিকদার ও স্বপন সিকদার ও তাদের সহযোগীরা মাহবুবুল আলমকে মৃত ভেবে সেখান থেকে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

শাওন আরও জানান, এক্স-রে ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা বলেছেন চাপাতি ও দায়ের আঘাতে মাহবুবুল আলমের খাদ্যনালী কেটে গেছে। কয়েকটি আঘাত চামড়া-মাংস ভেদ করে অনেক গভীরে গেছে। এতে ফুসফুসে ক্ষত হয়েছে।

এ বিষয়ে বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি এসএম মাহবুব উল আলম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে আহতের স্বজনদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা কথা বলেছেন। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া ও হামলাকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




মাদক বিক্রিতে বাধা দেয়ায় লাইব্রেরিয়ানকে কুপিয়ে রক্তাক্ত

আপডেট সময় : ১০:১৩:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ মে ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল;
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ক্ষুদ্রকাঠি ব্রাদার্স ক্লাবে জুয়া ও মাদক বিক্রিতে বাধা দেয়ায় মাহবুবুল আলম শিমুল (৩৫) নামের কলেজের এক লাইব্রেরিয়ানকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে।

চাপাতি ও দা দিয়ে অন্তত ১২ থেকে ১৪টি আঘাত করা হয়েছে মাহবুবুল আলমকে। এতে তার খাদ্যনালী কেটে গেছে। এছাড়া ফুসফুসসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে তার। মাহবুবুল আলমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

আহত মাহবুবুল আলম বাবুগঞ্জ উপজেলার ক্ষুদ্রকাঠি এলাকার মৃত মো. মাহফুজুর রহমানের ছেলে এবং মুলাদী উপজেলার চরকালেখান আদর্শ কলেজে লাইব্রেরিয়ান পদে কর্মরত রয়েছেন।

আহত মাহবুবুল আলমের ছোট ভাই সাদিকুর রহমান শাওন জানান, তার বড় ভাই মাহবুবুল আলম ক্ষুদ্রকাঠি ব্রাদার্স ক্লাবের সদস্য। কলেজ থেকে ফিরে সন্ধ্যার পর পর মাঝে মাঝে ক্লাবে সময় কাটাতেন। মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চিহ্নিত কবির খান, রাজন সিকদার ও স্বপন সিকদার সম্প্রতি ব্রাদার্স ক্লাবে জুয়ার আসর ও মাদক বিক্রি করতে চান। এতে বাধা দেন মাহবুবুল আলম। ক্লাবে জুয়ার আসর ও মাদক বিক্রি করলে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার কথা বলেন মাহবুবুল আলম। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার তাদের সঙ্গে মাহবুবুল আলমের বাগবিতণ্ডা হয়। এ সময় মাহবুবুল আলমকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন কবির খান, রাজন সিকদার ও স্বপন সিকদার।

সাদিকুর রহমান শাওন আরও জানান, জুয়া ও মাদক বিক্রিতে বাধা দেয়ায় জের ধরে রোববার রাতে কবির খান, রাজন সিকদার ও স্বপন সিকদার ছয় থেকে সাতজন সহযোগী নিয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে মাহবুবুল আলমের ওপর স্টিল ব্রিজ এলাকায় হামলা চালায়। এ সময় তারা রড দিয়ে পেটাতে থাকে। মাহবুবুল আলম প্রতিবাদ করলে চাপাতি ও দা দিয়ে অন্তত ১২ থেকে ১৪টি আঘাত করে তারা। মাটিতে লুটিয়ে পড়লে কবির খান, রাজন সিকদার ও স্বপন সিকদার ও তাদের সহযোগীরা মাহবুবুল আলমকে মৃত ভেবে সেখান থেকে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

শাওন আরও জানান, এক্স-রে ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা বলেছেন চাপাতি ও দায়ের আঘাতে মাহবুবুল আলমের খাদ্যনালী কেটে গেছে। কয়েকটি আঘাত চামড়া-মাংস ভেদ করে অনেক গভীরে গেছে। এতে ফুসফুসে ক্ষত হয়েছে।

এ বিষয়ে বিমানবন্দর থানা পুলিশের ওসি এসএম মাহবুব উল আলম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে আহতের স্বজনদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা কথা বলেছেন। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া ও হামলাকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।