ঢাকা ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo শাবি ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারীদের ছড়ানো গুজবে সয়লাব Logo সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে আন্দোলনকারীরা পুলিশের উপর হামলা চালালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে Logo জবিতে আজীবন ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ Logo শাবিতে হল প্রশাসনকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে নোটিসে জোর পূর্বক সাইন আদায় Logo এবার সামনে আসছে ছাত্রলীগ কর্তৃক আন্দোলনকারীদের মারধরের আরো ঘটনা Logo আবাসিক হল ছাড়ছে শাবি শিক্ষার্থীরা Logo নিরাপত্তার স্বার্থে শাবি শিক্ষার্থীদের আইডিকার্ড সাথে রাখার আহবান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের Logo জনস্বাস্থ্যের প্রধান সাধুর যত অসাধু কর্ম: দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ! Logo বিআইডব্লিউটিএ বন্দর শাখা যুগ্ম পরিচালক আলমগীরের দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য  Logo রাজশাহীতে এটিএন বাংলার সাংবাদিক সুজাউদ্দিন ছোটনকে হয়রানিমূলক মামলায় বএিমইউজরে নিন্দা ও প্রতিবাদ




২০০ বছরেও বদলায়নি পরীক্ষার ৩৩ নম্বরের ইতিহাস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল ২০১৯ ১২০ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক;
স্বাধীনতার ৪৭ বছর বিগত হলেও বাংলাদেশে ব্রিটিশ আমলের লর্ড ক্যানিংয়ের শিক্ষানীতি এখনো চলমান। বাংলাদেশে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এমনকি কখনো কখনো স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর পরীক্ষাতেও কৃতকার্য হওয়ার বা পাসের সর্বনিম্ন নম্বর ৩৩। কিন্তু কেন? কেন ৪০ বা ৫০ কিংবা অন্য কোনো সংখ্যা হলো না? এর পেছনে কি কোনো ইতিহাস আছে?

এর পেছনে মজার একটি গল্প আছে। যে দেশে শত শত শিক্ষার্থী প্রায় শতভাগ নম্বর পায়, হাজার হাজার শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড তুলে নেয় সেখানে ৩৩ নম্বর পাসের শর্ত। বুয়েট, মেডিকেলের মেধাবীদের কথা না হয় নাই বললাম।

১৭৫৭ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে বিট্রিশরা উপমহাদেশের শাসনক্ষমতা দখল করে। এর ১০০ বছর পর বিট্রিশ ভারতের জনগণ স্বাধীনতা ফিরে পেতে প্রথমবারের মতো সফল আন্দোলন করে ১৮৫৭ সালে, যা সিপাহী বিদ্রোহ নামে পরিচিত। ইংরেজরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মাধ্যমে ১০০ বছর সফল শাসন চালালেও সিপাহী বিদ্রোহের ফলে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে। ফলে শাসনক্ষমতা রানীর হাতে চলে যায়। রাজত্বকাল ও শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে বিট্রিশ সরকার উপমহাদেশের সমাজ ব্যবস্থার নানা সংস্কারের পরিকল্পনা করেন।

১৮৫৮ সালে উপমহাদেশে প্রথমবারের মতো মেট্রিকুলেশন পরীক্ষা চালু হয়। কিন্তু পাস নম্বর কত হবে তা নির্ধারণ নিয়ে বোর্ড কর্তৃপক্ষ দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যায় এবং ব্রিটেনে কনসালটেশনের জন্য চিঠি লেখেন।

তখন ব্রিটেনে স্থানীয় ছাত্রদের জন্য পাসের নম্বর ছিল ৬৫। সে সময় ইংরেজ সমাজে একটা প্রচলিত ধারণা ছিল ‘The people of subcontinent are half as intellectual and efficient as compared to the British’ অর্থাৎ বুদ্ধি ও দক্ষতায় উপমহাদেশের মানুষকে ইংরেজদের তুলনায় অর্ধেক মনে করা হতো।

একই ধারাবাহিকতায় মেট্রিকুলেশনের পাস নম্বর ৬৫ এর অর্ধেক ৩২.৫ নির্ধারণ করা হয়। ১৮৫৮ সাল থেকে ১৮৬১ সাল পর্যন্ত পাস নম্বর ৩২.৫ ই ছিল। ১৮৬২ সালে তা গণনার সুবিধার্থে বৃদ্ধি করে ৩৩ করা হয়। সেই থেকে এই ৩৩ নম্বরই চলছে। ফেডারেল পাকিস্তানেও ছিল। বাংলাদেশেও আছে। যেখানে পাসের দেশ ভারতে IIT বিষয়ভেদে পাস নম্বর ৪১ থেকে শুরু করে ৯০ পর্যন্তও হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে MIT -তে বিষয় ভেদে ৩৬ থেকে ৪৫ এমনকি বাংলাদেশেও CA কিংবা CMA -তে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পাস নম্বর নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

লক্ষ্যণীয় এবং আজব ব্যাপার হচ্ছে প্রায় দুই শতাব্দী পরেও আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ৩৩ নম্বরে উত্তীর্ণ হওয়ার ধারাবাহিক ইতিহাস বদলায়নি। এজন্য শিক্ষার মান স্বভাবতই নিন্ম।

বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার গণ্ডিতে লাখ লাখ বেকার তৈরি না করে উচ্চশিক্ষার হার কমিয়ে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এতে যেমন বেকারত্ব দূর হবে তেমনি উচ্চশিক্ষা দেশের কল্যাণ বয়ে আনবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




২০০ বছরেও বদলায়নি পরীক্ষার ৩৩ নম্বরের ইতিহাস

আপডেট সময় : ০৩:৫৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল ২০১৯

বিশেষ প্রতিবেদক;
স্বাধীনতার ৪৭ বছর বিগত হলেও বাংলাদেশে ব্রিটিশ আমলের লর্ড ক্যানিংয়ের শিক্ষানীতি এখনো চলমান। বাংলাদেশে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এমনকি কখনো কখনো স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর পরীক্ষাতেও কৃতকার্য হওয়ার বা পাসের সর্বনিম্ন নম্বর ৩৩। কিন্তু কেন? কেন ৪০ বা ৫০ কিংবা অন্য কোনো সংখ্যা হলো না? এর পেছনে কি কোনো ইতিহাস আছে?

এর পেছনে মজার একটি গল্প আছে। যে দেশে শত শত শিক্ষার্থী প্রায় শতভাগ নম্বর পায়, হাজার হাজার শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড তুলে নেয় সেখানে ৩৩ নম্বর পাসের শর্ত। বুয়েট, মেডিকেলের মেধাবীদের কথা না হয় নাই বললাম।

১৭৫৭ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে বিট্রিশরা উপমহাদেশের শাসনক্ষমতা দখল করে। এর ১০০ বছর পর বিট্রিশ ভারতের জনগণ স্বাধীনতা ফিরে পেতে প্রথমবারের মতো সফল আন্দোলন করে ১৮৫৭ সালে, যা সিপাহী বিদ্রোহ নামে পরিচিত। ইংরেজরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মাধ্যমে ১০০ বছর সফল শাসন চালালেও সিপাহী বিদ্রোহের ফলে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে। ফলে শাসনক্ষমতা রানীর হাতে চলে যায়। রাজত্বকাল ও শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে বিট্রিশ সরকার উপমহাদেশের সমাজ ব্যবস্থার নানা সংস্কারের পরিকল্পনা করেন।

১৮৫৮ সালে উপমহাদেশে প্রথমবারের মতো মেট্রিকুলেশন পরীক্ষা চালু হয়। কিন্তু পাস নম্বর কত হবে তা নির্ধারণ নিয়ে বোর্ড কর্তৃপক্ষ দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যায় এবং ব্রিটেনে কনসালটেশনের জন্য চিঠি লেখেন।

তখন ব্রিটেনে স্থানীয় ছাত্রদের জন্য পাসের নম্বর ছিল ৬৫। সে সময় ইংরেজ সমাজে একটা প্রচলিত ধারণা ছিল ‘The people of subcontinent are half as intellectual and efficient as compared to the British’ অর্থাৎ বুদ্ধি ও দক্ষতায় উপমহাদেশের মানুষকে ইংরেজদের তুলনায় অর্ধেক মনে করা হতো।

একই ধারাবাহিকতায় মেট্রিকুলেশনের পাস নম্বর ৬৫ এর অর্ধেক ৩২.৫ নির্ধারণ করা হয়। ১৮৫৮ সাল থেকে ১৮৬১ সাল পর্যন্ত পাস নম্বর ৩২.৫ ই ছিল। ১৮৬২ সালে তা গণনার সুবিধার্থে বৃদ্ধি করে ৩৩ করা হয়। সেই থেকে এই ৩৩ নম্বরই চলছে। ফেডারেল পাকিস্তানেও ছিল। বাংলাদেশেও আছে। যেখানে পাসের দেশ ভারতে IIT বিষয়ভেদে পাস নম্বর ৪১ থেকে শুরু করে ৯০ পর্যন্তও হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে MIT -তে বিষয় ভেদে ৩৬ থেকে ৪৫ এমনকি বাংলাদেশেও CA কিংবা CMA -তে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পাস নম্বর নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

লক্ষ্যণীয় এবং আজব ব্যাপার হচ্ছে প্রায় দুই শতাব্দী পরেও আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ৩৩ নম্বরে উত্তীর্ণ হওয়ার ধারাবাহিক ইতিহাস বদলায়নি। এজন্য শিক্ষার মান স্বভাবতই নিন্ম।

বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার গণ্ডিতে লাখ লাখ বেকার তৈরি না করে উচ্চশিক্ষার হার কমিয়ে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এতে যেমন বেকারত্ব দূর হবে তেমনি উচ্চশিক্ষা দেশের কল্যাণ বয়ে আনবে।