পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী শ্লীলতাহানির অভিযোগ করলো প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে
- আপডেট সময় : ১০:৪২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৯ ১১৭ বার পড়া হয়েছে
ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
এবার এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে পহেলা বৈশাখে, ধরলা সেতুর পশ্চিম পাড়ে মধ্য যতিন্দ্র নারায়ণ এলাকায়।
অভিযুক্ত শিক্ষক কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার রামপ্রসাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খায়রুজ্জামান ডিউক। সে উপজেলার কবির মামুদ গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা সুবিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগির পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে গত রবিবার ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রী মিলে বনভোজনের আয়োজন করে। দুপুর আড়াইটায় খাওয়া দাওয়া শেষ করে কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী মিলে প্রধান শিক্ষক খায়রুজ্জামান অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই পার্শ্ববর্তী ধরলা সেতুর পশ্চিমপাড়ে ঘুরতে যান। ঘুরে বেড়ানোর ফাঁকে প্রধান শিক্ষক অন্য ছাত্রীদের রেখে পঞ্চম শ্রেণীর ওই ছাত্রীকে নিয়ে কৌশলে আড়ালে চলে যান। সেখানে তিনি জোরপুর্বক ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালান এবং সর্বশেষ তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।
শিক্ষকের কাছ থেকে দৌড়ে পালিয়ে এসে কাঁদতে কাঁদতে সহপাঠীদের সে ঘটনাটি জানায় ওই ছাত্রী। পরে বাড়িতে এসে বাবা মাকেও ঘটনা খুলে বলে। মেয়ের মুখে ঘটনা শুনে মোবাইল ফোনে প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক উল্টো ছাত্রীর বাবাকে হুমকি ও গালিগালাজ করেন। পরে সোমবার তিনি ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
এ প্রসঙ্গে রামপ্রসাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খায়রুজ্জামান ডিউক বলে, ‘পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সেইদিন ধরলা সেতুর পশ্চিম পাড়ে মধ্য যতিন্দ্র নারায়ন এলাকায় স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে ঘুরতে গেছি। তবে সেখানে কোনকিছু ঘটেনি।’
উপজেলা শিক্ষা অফিসার আখতারুল ইসলাম জানান, ‘ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক অভিযোগ পেয়েছি। সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার রিয়াজুল ইসলামকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাছুমা আরেফিন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার নিদের্শ দেওয়া হয়েছে।’