ঢাকা ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo এমপি আনার খুন: রহস্যময় রূপে শীর্ষ দুই ব্যবসায়ী Logo রূপালী ব্যাংকের ডিজিএম কর্তৃক সহকর্মী নারীকে যৌন হয়রানি: ধামাচাপা দিতে মরিয়া তদন্ত কমিটি Logo প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা হাতিয়ে বহাল তবিয়তে মাদারীপুরের দুই সহকারী সমাজসেবা অফিসারl Logo যমুনা লাইফের গ্রাহক প্রতারণায় ‘জড়িতরা’ কে কোথায় Logo ঢাকাস্থ ভোলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আহসান কামরুল, সম্পাদক জিয়াউর রহমান Logo টাটা মটরস বাংলাদেশে উদ্বোধন করলো টাটা যোদ্ধা Logo আশা শিক্ষা কর্মসূচী কর্তৃক অভিভাবক মতবিনিময় সভা Logo গণপূর্ত প্রধান প্রকৌশলীর গাড়ি চাপায় পিষ্ট সহকারী প্রকৌশলী -উত্তাল গণপূর্ত Logo শাবিপ্রবির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ Logo সওজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাহিনুরের সীমাহীন সম্পদ ও অনিয়ম -পর্ব-০১




‘খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি নিয়ে চিকিৎসা নেবেন না’

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৪:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০১৯ ১০৮ বার পড়া হয়েছে

সকালের সংবাদ;
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্যারোলে যাওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। বিষয়টি একান্ত তার ব্যক্তিগত ও তার পরিবারের। প্যারোলে খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার যে সব খবর সংবাদপত্র প্রকাশ করছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

তিনি বলেন, যারা বেগম জিয়ার প্যারোলে মুক্তি ও চিকিৎসা নিয়ে অনুমাননির্ভর সংবাদ পরিবেশন করছেন তারা দেশবাসীকে ভুল ম্যাসেজ দিচ্ছেন। কেননা আমরা পহেলা বৈশাখের দিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা করেছি। বেগম জিয়া আমাদের স্পষ্টতই বলেছেন, তিনি প্যারোলে মুক্তি নিয়ে চিকিৎসা নেবেন না।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের বার্ষিক সাধারণ সভায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তিনি এখন পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, খালেদা জিয়া প্যারোলে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। একটি ইংরেজি দৈনিকে দেখলাম দিন, তারিখ ও সময় পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে, কবে প্যরোলে যাচ্ছেন তিনি! কোন দেশে যাচ্ছেন। এটা আনফেয়ার। গত কয়েক দিন ধরে এ বিষয়টি নিয়ে মিডিয়ায় লেখালেখি হচ্ছে। আমি এই হলুদ সাংবাদিকতা পরিহারের আহ্বান জানাচ্ছি।

গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজ চাপে আছেন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, শাসক গোষ্ঠীর ফরমায়েশে একটি শ্রেণি গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করছে। দেশে এমন একটি ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে করে অনেক জনপ্রিয় লোক টকশোতে আসছেন না। অনেককে আসতে দেওয়া হচ্ছে না। সত্য কথাগুলো নিয়ে জনগণের কাছে যাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কারণ যারা গণমাধ্যমে কাজ করেন, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর তাদের অনেকের চাকরি চলে গেছে। আবার সাংবাদিকদের একটি শ্রেণি ভালো আছে।

নুসরাত হত্যাকাণ্ড ও সুবর্ণচরে গণধর্ষণের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক না থাকায় এবং রাজনৈতিক কারণে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ফেনীতে যেটি ঘটেছে সেটি মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়।

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটি একক লড়াই নয়। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার জন্য যেমন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম, তেমনি এখন স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ভূ-রাজনীতির পরিবর্তন হয়েছে, সেই পরিবর্তনকে সামনে রেখেই আমাদের এগুতে হবে। এখন উদার রাজনীতির দর্শন এখন পরাজিত হচ্ছে। রাজনীতিতে উদারতার পরিবর্তে আজ ফ্যাসিবাদ জায়গা দখল করছে। রাজনীতি এমন কলুষিত হয়েছে, যেখানে ভালো মানুষ আর রাজনীতিতে টিকতে পারছে না।

ডিইউজে’র একাংশের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক তাসনীম আলম। সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন শওকত মাহমুদ, রুহুল আমিন গাজী, এম আব্দুল্লাহ, আব্দুল আজীজ, কামাল উদ্দিন সবুজ, সৈয়দ আবদাল আহমদ, আব্দুস শহীদ, আব্দুল হাই শিকদার, বাকের হোসাইন, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, মুন্সী আব্দুল মান্নান, শহীদুল ইসলাম প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




‘খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি নিয়ে চিকিৎসা নেবেন না’

আপডেট সময় : ০৫:০৪:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০১৯

সকালের সংবাদ;
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্যারোলে যাওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। বিষয়টি একান্ত তার ব্যক্তিগত ও তার পরিবারের। প্যারোলে খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার যে সব খবর সংবাদপত্র প্রকাশ করছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

তিনি বলেন, যারা বেগম জিয়ার প্যারোলে মুক্তি ও চিকিৎসা নিয়ে অনুমাননির্ভর সংবাদ পরিবেশন করছেন তারা দেশবাসীকে ভুল ম্যাসেজ দিচ্ছেন। কেননা আমরা পহেলা বৈশাখের দিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা করেছি। বেগম জিয়া আমাদের স্পষ্টতই বলেছেন, তিনি প্যারোলে মুক্তি নিয়ে চিকিৎসা নেবেন না।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের বার্ষিক সাধারণ সভায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তিনি এখন পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, খালেদা জিয়া প্যারোলে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। একটি ইংরেজি দৈনিকে দেখলাম দিন, তারিখ ও সময় পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে, কবে প্যরোলে যাচ্ছেন তিনি! কোন দেশে যাচ্ছেন। এটা আনফেয়ার। গত কয়েক দিন ধরে এ বিষয়টি নিয়ে মিডিয়ায় লেখালেখি হচ্ছে। আমি এই হলুদ সাংবাদিকতা পরিহারের আহ্বান জানাচ্ছি।

গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজ চাপে আছেন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, শাসক গোষ্ঠীর ফরমায়েশে একটি শ্রেণি গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করছে। দেশে এমন একটি ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে করে অনেক জনপ্রিয় লোক টকশোতে আসছেন না। অনেককে আসতে দেওয়া হচ্ছে না। সত্য কথাগুলো নিয়ে জনগণের কাছে যাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কারণ যারা গণমাধ্যমে কাজ করেন, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর তাদের অনেকের চাকরি চলে গেছে। আবার সাংবাদিকদের একটি শ্রেণি ভালো আছে।

নুসরাত হত্যাকাণ্ড ও সুবর্ণচরে গণধর্ষণের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক না থাকায় এবং রাজনৈতিক কারণে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ফেনীতে যেটি ঘটেছে সেটি মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়।

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটি একক লড়াই নয়। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার জন্য যেমন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম, তেমনি এখন স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ভূ-রাজনীতির পরিবর্তন হয়েছে, সেই পরিবর্তনকে সামনে রেখেই আমাদের এগুতে হবে। এখন উদার রাজনীতির দর্শন এখন পরাজিত হচ্ছে। রাজনীতিতে উদারতার পরিবর্তে আজ ফ্যাসিবাদ জায়গা দখল করছে। রাজনীতি এমন কলুষিত হয়েছে, যেখানে ভালো মানুষ আর রাজনীতিতে টিকতে পারছে না।

ডিইউজে’র একাংশের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক তাসনীম আলম। সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন শওকত মাহমুদ, রুহুল আমিন গাজী, এম আব্দুল্লাহ, আব্দুল আজীজ, কামাল উদ্দিন সবুজ, সৈয়দ আবদাল আহমদ, আব্দুস শহীদ, আব্দুল হাই শিকদার, বাকের হোসাইন, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, মুন্সী আব্দুল মান্নান, শহীদুল ইসলাম প্রমুখ।