ঢাকা ১০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ




বিমানবালাদের মদ খাইয়ে ধর্ষণ করেন দুই পাইলট

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৪:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল ২০১৯ ১২ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ; প্রায় এক বছর আগে তিন বিমানবালাকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই পাইলটের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। মামলায় বলা হয়েছে, অভিযুক্ত দুই পাইলট কৌশলে ওই তিন বিমানবালাকে মদ খাইয়ে ধর্ষণ করেন।

মামলার প্রাথমিক শুনানি হয়েছে নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে। অভিযুক্ত দুই পাইলট হলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক বেসরকারি বিমান সংস্থা জেটব্লু। বিমানবালাকে ধর্ষণের ঘটনাটি গত এক বছর ধরে ধামাচাপা দিয়েছিল উল্লিখিত বিমান সংস্থাটি।

নিউইয়র্কের ফেডারেল কোর্টের বিচারক মামলার শুনানিতে প্রাথমিকভাবে জেটব্লুর কর্তৃপক্ষকে ভর্ৎসনা করেছেন। কেন এমন ঘটনা এক বছর ধরে ধামাচাপা দিয়ে রাখার চেষ্টা করল কর্তৃপক্ষ সেই প্রশ্ন তুলেছেন আদালত। সংস্থাটিকে নারী সহকর্মীদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিতের আদেশ দেয়া হয়েছে।

নিউইয়র্ক থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি ফ্লাইটে স্প্যানিশ দেশ পুয়ের্তো রিকোর সান জুয়ানে যান ওই তিন বিমানবালা। বিমান ফিরতে ফ্লাইটের ফাঁকে একটি সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গেলে সেখানেই তাদের ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত দুই পাইলট।

সমুদ্র সৈকতে তিন বিমানবালার সঙ্গে পরিচয় হয় ওই দুই পাইলটের। কেননা তারা সবাই জেট জেটব্লুতে কাজ করেন। পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে আড্ডা জমতে থাকে। এমন অবস্থার সুযোগ নিয়ে দুই পাইলট তাদেরকে মদের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ান।

তিন তরুণী জ্ঞান হারানোর পর হোটেলে নিজেদের ঘরে নিয়ে যান ওই দুই পাইলট। সেখানেই ধর্ষণের শিকার হন তারা। মদের সঙ্গে ওষুধ খাওয়ায় একজন বেশ অসুস্থ হয়ে পডড়েন। তাছাড়া আরেকজনের সারারাত জ্ঞান ফেরেনি।

ঘটনাটি ঘটে গত বছরের মে মাসে। এক বছর পর সেই ঘটনার জন্য দুই চালকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন তিন বিমানবালা। পাইলট দুজনের নাম ওয়াটসন এবং জনসন। তাদের মামলা দায়ের করা মামলা এখন আদালতে বিচারাধীন।

ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা তিন তরুণীর আইনজীবী অ্যাবে মেলামেড বলেন, ‘যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা অত্যন্ত গুরুতর। সবচেয়ে বড় কথা হলো গোটা বিষয়টাকে জেটব্লুর মতো সংস্থা কীভাবে গোপন করে রাখলো।’

গত এক বছর ধরে বিচারের প্রতিশ্রুতি দেয়া সত্ত্বেও দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থাই নেয়নি বলে সংস্থাটির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




বিমানবালাদের মদ খাইয়ে ধর্ষণ করেন দুই পাইলট

আপডেট সময় : ১১:৪৪:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ; প্রায় এক বছর আগে তিন বিমানবালাকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই পাইলটের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। মামলায় বলা হয়েছে, অভিযুক্ত দুই পাইলট কৌশলে ওই তিন বিমানবালাকে মদ খাইয়ে ধর্ষণ করেন।

মামলার প্রাথমিক শুনানি হয়েছে নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে। অভিযুক্ত দুই পাইলট হলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক বেসরকারি বিমান সংস্থা জেটব্লু। বিমানবালাকে ধর্ষণের ঘটনাটি গত এক বছর ধরে ধামাচাপা দিয়েছিল উল্লিখিত বিমান সংস্থাটি।

নিউইয়র্কের ফেডারেল কোর্টের বিচারক মামলার শুনানিতে প্রাথমিকভাবে জেটব্লুর কর্তৃপক্ষকে ভর্ৎসনা করেছেন। কেন এমন ঘটনা এক বছর ধরে ধামাচাপা দিয়ে রাখার চেষ্টা করল কর্তৃপক্ষ সেই প্রশ্ন তুলেছেন আদালত। সংস্থাটিকে নারী সহকর্মীদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিতের আদেশ দেয়া হয়েছে।

নিউইয়র্ক থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি ফ্লাইটে স্প্যানিশ দেশ পুয়ের্তো রিকোর সান জুয়ানে যান ওই তিন বিমানবালা। বিমান ফিরতে ফ্লাইটের ফাঁকে একটি সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গেলে সেখানেই তাদের ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত দুই পাইলট।

সমুদ্র সৈকতে তিন বিমানবালার সঙ্গে পরিচয় হয় ওই দুই পাইলটের। কেননা তারা সবাই জেট জেটব্লুতে কাজ করেন। পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে আড্ডা জমতে থাকে। এমন অবস্থার সুযোগ নিয়ে দুই পাইলট তাদেরকে মদের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ান।

তিন তরুণী জ্ঞান হারানোর পর হোটেলে নিজেদের ঘরে নিয়ে যান ওই দুই পাইলট। সেখানেই ধর্ষণের শিকার হন তারা। মদের সঙ্গে ওষুধ খাওয়ায় একজন বেশ অসুস্থ হয়ে পডড়েন। তাছাড়া আরেকজনের সারারাত জ্ঞান ফেরেনি।

ঘটনাটি ঘটে গত বছরের মে মাসে। এক বছর পর সেই ঘটনার জন্য দুই চালকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন তিন বিমানবালা। পাইলট দুজনের নাম ওয়াটসন এবং জনসন। তাদের মামলা দায়ের করা মামলা এখন আদালতে বিচারাধীন।

ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা তিন তরুণীর আইনজীবী অ্যাবে মেলামেড বলেন, ‘যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা অত্যন্ত গুরুতর। সবচেয়ে বড় কথা হলো গোটা বিষয়টাকে জেটব্লুর মতো সংস্থা কীভাবে গোপন করে রাখলো।’

গত এক বছর ধরে বিচারের প্রতিশ্রুতি দেয়া সত্ত্বেও দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থাই নেয়নি বলে সংস্থাটির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।