হাফিজুর রহমান শফিক| ব্যাংকক (থাইল্যান্ড):
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের ঐতিহ্যবাহী কুইন সারিকিট ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে (QSNCC) আজ সোমবার (১২ অক্টোবর, ২০২৬) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২৬ সালের যৌথ বার্ষিক সম্মেলন (Annual Meetings)। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই অর্থনৈতিক ইভেন্টে অংশ নিতে ইতোমধ্যে থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।
আজ আয়োজনের উদ্বোধনী দিনেই বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ সেশনগুলোতে অংশ নেওয়া শুরু করেছেন। এতে দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী ও অর্থ উপদেষ্টা। তাঁদের সাথে রয়েছেন অর্থ বিভাগ এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সচিববৃন্দ। এছাড়াও দেশের অর্থ ও ব্যাংক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও ব্যাংকটির প্রতিনিধিরা।
আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাথে বাজেট সহায়তা সংক্রান্ত আলোচনা পরিচালনাকারী প্রধান প্রতিনিধি দলটিও আজ থেকে সম্মেলনে তাঁদের প্রাথমিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছেন।
‘হোমগ্রোন রিফর্ম অ্যাজেন্ডা’ ও মূল আলোচনার বিষয়বস্তু
এক সপ্তাহব্যাপী (১২-১৮ অক্টোবর) এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশ মূলত নিজস্ব 'হোমগ্রোন রিফর্ম অ্যাজেন্ডা' (Homegrown Reform Agenda) বা দেশীয় অগ্রাধিকারভিত্তিক সংস্কার কর্মসূচি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবে।
আলোচনার মূল বিষয় যা থাকছে..
বাজেট ও অতিরিক্ত ঋণ সহায়তা: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট এবং সার আমদানির বর্ধিত খরচ সামাল দিতে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং আইএমএফ-এর কাছে প্রায় ৪ বিলিয়ন (৪০০ কোটি) মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাজেট সহায়তা চাওয়ার পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করবে।
ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের সুশাসন: দুর্বল ব্যাংকগুলোর শৃঙ্খলা ফেরানো, ব্যাংকিং খাতের সার্বিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আদায় বাড়াতে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তুলে ধরবে বাংলাদেশ।
বেসরকারি বিনিয়োগ ও বাণিজ্য পুনরুদ্ধার: অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সংস্কার তরান্বিত করার প্রতিশ্রুতি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আলোকপাত করা হবে।
উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
আজ সম্মেলন শুরুর পর থেকে আগামী কয়েকদিনে আইএমএফ-এর নতুন সহায়তা প্রোগ্রামের শর্তাবলী চূড়ান্তকরণ এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিনিধি দলটি ধারাবাহিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও বৈঠকে অংশ নেবে।
বিশ্বের ১৮৯টি সদস্য দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও অর্থনৈতিক নীতি-নির্ধারকদের অংশগ্রহণে ব্যাংককে আয়োজিত এই সম্মেলন থেকে কাঙ্ক্ষিত বাজেট সহায়তা অর্জন করা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।