বিনোদন ডেস্ক: বিনোদন ডেস্ক: বক্স অফিসে একের পর এক রেকর্ড গড়া এবং ভারতের পুরস্কার মৌসুমে নিজের জায়গা পাকা করে নেওয়ার পর এবার আন্তর্জাতিক সংগীতের মঞ্চে নজর কাড়ার অপেক্ষায় ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। আদিত্য ধর পরিচালিত ও রণবীর সিং অভিনীত ছবিটির অ্যালবাম জমা দেওয়া হয়েছে গ্র্যামি পুরস্কারের জন্য।
শুধু পুরো অ্যালবাম নয়, মনোনয়নের বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়েছে এর নয়টি গানও। প্রযোজনা সংস্থা টি-সিরিজ ও বি৬২ স্টুডিওজের পক্ষ থেকে এমনটা জানানো হয়েছে।
প্রযোজনা সংস্থা সূত্রে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের ৬৯তম আসরের একাধিক বিভাগে বিবেচনার জন্য জমা দেওয়া হয়েছে ‘ধুরন্ধর ২’-এর গানগুলো। সুরকার শাশ্বত সাচদেবের তৈরি পুরো অ্যালবামটি পাঠানো হয়েছে ‘বেস্ট কম্পাইলেশন সাউন্ডট্র্যাক ফর ভিজ্যুয়াল মিডিয়া’ বিভাগে।
পাশাপাশি অ্যালবামের নয়টি গান আলাদা নয়টি বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে। এই খবর জানিয়ে ছবিটির প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন নির্মাতারা।
তালিকায় রয়েছে অরিজিৎ সিংয়ের কণ্ঠে ‘ফির সে’। গানটি জমা দেওয়া হয়েছে ‘বেস্ট সং রিটেন ফর ভিজ্যুয়াল মিডিয়া’ বিভাগে।
অন্যদিকে বম্বে রকার্স, খান সাব, জ্যাসমিন স্যান্ডলাস, রেবল, টোকেন ও সুধীর যাদুবংশীদের গাওয়া ‘আরি আরি’ পাঠানো হয়েছে ‘বেস্ট এশিয়ান পপ মিউজিক পারফরম্যান্স’ বিভাগে। ‘জান সে গুজরাতে হ্যায়’ ও ‘কানহাইয়া’ গান দুটি জমা পড়েছে ‘বেস্ট গ্লোবাল মিউজিক পারফরম্যান্স’ বিভাগে।
এ ছাড়া জ্যাসমিন স্যান্ডলাস ও সতিন্দর সরতাজের গাওয়া ‘যাইয়ে সাজনা’ পাঠানো হয়েছে ‘বেস্ট পপ ডুও/গ্রুপ পারফরম্যান্স’ বিভাগে। ‘বেস্ট র্যাপ পারফরম্যান্স’ বিভাগের জন্য জমা দেওয়া হয়েছে ‘ডেস্টিনি—মন আটকিয়া’, ‘বেস্ট ড্যান্স/ইলেকট্রনিক রেকর্ডিং’ বিভাগে ‘ভারি জাভান’ এবং ‘বেস্ট রিমিক্সড রেকর্ডিং’ বিভাগে ‘হাম প্যায়ার করনে ওয়ালে’।
তবে গ্র্যামির জন্য গান জমা দেওয়া আর চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়া এক বিষয় নয়।
জমা দেওয়া গানগুলো শেষ পর্যন্ত মনোনয়নের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারে কি না, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে। ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গ্র্যামির ৬৯তম আসরে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ কোনো বিভাগে চূড়ান্ত মনোনয়ন পায় কি না, এখন সেদিকেই নজর সংগীতপ্রেমীদের।
এদিকে বক্স অফিসে ছবিটির সাফল্যও রীতিমতো আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ধুরন্ধর’ এবং ২০২৬ সালের মার্চে মুক্তি পাওয়া এর দ্বিতীয় পর্ব ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’—দুই ছবি মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে আয় করেছে ৩ হাজার ১৯ কোটি ৩৫ লাখ রুপি বলে স্যাকনিল্কের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই আয় ‘বাহুবলী’ ও ‘পুষ্পা’ ফ্র্যাঞ্চাইজির দুই পর্বের সম্মিলিত আয়ের চেয়েও বেশি বলে দাবি করা হয়েছে।
চলতি বছরের মার্চে ভারতের ২১ হাজার ৭২৮টি পর্দায় মুক্তি পায় ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। মুক্তির প্রথম দিনেই ভারতে ১০২ কোটি ৫৫ লাখ রুপির ব্যবসা করে ছবিটি। এর মধ্য দিয়ে হিন্দি সিনেমার বক্স অফিসে নতুন রেকর্ড গড়ার দাবিও সামনে আসে।
বক্স অফিসের সাফল্যের পর এবার আন্তর্জাতিক সংগীতের সম্মানজনক আসরে জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে ছবিটির অ্যালবাম। নয়টি গান ও পুরো সাউন্ডট্র্যাক জমা পড়লেও শেষ পর্যন্ত গ্র্যামির মনোনয়ন তালিকায় কতগুলো গান জায়গা পায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।