ঢাকা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :




রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট ও বহুতল ভবনগুলোতে ‘রেডমার্ক’

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১০:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ এপ্রিল ২০১৯ ৯ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক; রাজধানীর সদরঘাট এলাকার ১০৬টি মার্কেটসহ পুরান ঢাকার ১৭৩টি ভবনকে অগ্নিনিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। এর মধ্যে ৫৩টি মার্কেট অতি ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট ও বহুতল ভবনগুলোতে ‘রেডমার্ক’ করে দিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিদল। টানিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘সতর্কবার্তা’ সংবলিত বিজ্ঞপ্তিও। ।

মঙ্গলবার দুপুরে দুপুরে ইস্ট বেঙ্গল ইনস্টিটিউশন সুপারমার্কেটকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে একটি ব্যানার টানিয়ে দেওয়া হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে সদরঘাট ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) মোস্তফা মোহসিন বলেন, এটি ১৫তলা একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন। এখানে ন্যূনতম অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। আমরা ২০১৭ ও ২০১৮ সালে দুইবার চিঠি দিয়েছি অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখার জন্য, এর পরও তা মানা হয়নি। মানুষের জানমালের স্বার্থে আমরা ভবনটিকে অগ্নিনিরাপত্তার জন্য অতি ঝুঁকিপূর্ণ বলে ঘোষণা করেছি। সদরঘাট ফায়ার সার্ভিসের আওতায় এ রকম ১৭৩টি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০৬টিই মার্কেট। বাকিগুলো আবাসিক ভবন। ৫৩টি ভবনকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি ভবনে এরই মধ্যে রেডমার্ক করা হয়েছে। মার্কেট কর্তৃপক্ষ অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসকে জানাবে। পরে পরিদর্শন করে সন্তুষ্টি সাপেক্ষে ব্যানার খুলে দেওয়া হবে।

ফায়ার সার্ভিসের সদরঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহমুদুল হাসান বলেন, বাণিজ্যিক ওই ভবনটিতে আগুন লাগলে জরুরি বহির্গমনের জন্য কোনো সিঁড়ি নেই, ফায়ার অ্যালার্ম নেই, বিদ্যুৎ গেলে জরুরি লাইটিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই, রাইজার পয়েন্ট নেই, বেইসমেন্টে পানির রিজার্ভ ট্যাংক নেই, পাম্প নেই, হাইড্রেন্ট পয়েন্ট নেই, এক্সটিংগুইশার ও হোস পাইপ নেই। ভবনটি একটি মানুষ মারার ফাঁদ হয়ে রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ বলেন, বঙ্গবাজার মার্কেট দিয়ে সতর্কীকরণের এ কার্যক্রম শুরু করা হলো। আমাদের পরিচালিত জরিপে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে চিহ্নিত এবং এখনো ঝুঁকি নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এমন সব মার্কেট, আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক ভবন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ সব স্থাপনায় এই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা হবে।

এদিকে বহুতল ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে আগামী শনিবার থেকে ডিএনসিসির পাঁচটি অঞ্চলের মোট ১০টি দল মাঠে নামবে বলে জানিয়েছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশান ক্লাবে ‘অগ্নিঝুঁকিতে রাজধানী : সিটি করপোরেশনের ভূমিকা ও নাগরিকদের করণীয়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :




রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট ও বহুতল ভবনগুলোতে ‘রেডমার্ক’

আপডেট সময় : ০৪:১০:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ এপ্রিল ২০১৯

অনলাইন ডেস্ক; রাজধানীর সদরঘাট এলাকার ১০৬টি মার্কেটসহ পুরান ঢাকার ১৭৩টি ভবনকে অগ্নিনিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। এর মধ্যে ৫৩টি মার্কেট অতি ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট ও বহুতল ভবনগুলোতে ‘রেডমার্ক’ করে দিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিদল। টানিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘সতর্কবার্তা’ সংবলিত বিজ্ঞপ্তিও। ।

মঙ্গলবার দুপুরে দুপুরে ইস্ট বেঙ্গল ইনস্টিটিউশন সুপারমার্কেটকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে একটি ব্যানার টানিয়ে দেওয়া হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে সদরঘাট ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) মোস্তফা মোহসিন বলেন, এটি ১৫তলা একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন। এখানে ন্যূনতম অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। আমরা ২০১৭ ও ২০১৮ সালে দুইবার চিঠি দিয়েছি অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখার জন্য, এর পরও তা মানা হয়নি। মানুষের জানমালের স্বার্থে আমরা ভবনটিকে অগ্নিনিরাপত্তার জন্য অতি ঝুঁকিপূর্ণ বলে ঘোষণা করেছি। সদরঘাট ফায়ার সার্ভিসের আওতায় এ রকম ১৭৩টি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০৬টিই মার্কেট। বাকিগুলো আবাসিক ভবন। ৫৩টি ভবনকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি ভবনে এরই মধ্যে রেডমার্ক করা হয়েছে। মার্কেট কর্তৃপক্ষ অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসকে জানাবে। পরে পরিদর্শন করে সন্তুষ্টি সাপেক্ষে ব্যানার খুলে দেওয়া হবে।

ফায়ার সার্ভিসের সদরঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহমুদুল হাসান বলেন, বাণিজ্যিক ওই ভবনটিতে আগুন লাগলে জরুরি বহির্গমনের জন্য কোনো সিঁড়ি নেই, ফায়ার অ্যালার্ম নেই, বিদ্যুৎ গেলে জরুরি লাইটিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই, রাইজার পয়েন্ট নেই, বেইসমেন্টে পানির রিজার্ভ ট্যাংক নেই, পাম্প নেই, হাইড্রেন্ট পয়েন্ট নেই, এক্সটিংগুইশার ও হোস পাইপ নেই। ভবনটি একটি মানুষ মারার ফাঁদ হয়ে রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ বলেন, বঙ্গবাজার মার্কেট দিয়ে সতর্কীকরণের এ কার্যক্রম শুরু করা হলো। আমাদের পরিচালিত জরিপে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে চিহ্নিত এবং এখনো ঝুঁকি নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এমন সব মার্কেট, আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক ভবন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ সব স্থাপনায় এই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা হবে।

এদিকে বহুতল ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে আগামী শনিবার থেকে ডিএনসিসির পাঁচটি অঞ্চলের মোট ১০টি দল মাঠে নামবে বলে জানিয়েছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশান ক্লাবে ‘অগ্নিঝুঁকিতে রাজধানী : সিটি করপোরেশনের ভূমিকা ও নাগরিকদের করণীয়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান তিনি।